সব প্রমাণ থাকার পরও স্বীকৃতি পাননি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসমত উল্যা
মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানী কর্তৃক সনদ, অস্ত্র জমাদানের রশিদ, মুক্তিবার্তাসহ অন্যান্য প্রমাণপত্র থাকার পরও গেজেটে নাম নেই মুক্তিযোদ্ধা হাসমত উল্যা সাউদের। এরই মধ্যে তিন দশক আগে মারা যান তিনি। স্বাধীনতার ৫০ বছর উৎসব, সুবর্ণজয়ন্তীতে যেখানে সবাই আনন্দে সমবেত হবে। সেখানে মহান মুক্তিযোদ্ধা বাবার স্বীকৃতি না থাকায় সন্তানরা অসহায়ের মতো তাকিয়ে থাকবে। এমন কষ্ট পরিবারের সদস্যদের।
ফরিদগঞ্জ পৌরসভার নোয়াগাঁও গ্রামের মরহুম মৌলভী আব্দুল কাদের সাউদের ছেলে হাসমত উল্যাহ সাউদ। মহান মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের একজন লড়াকু সৈনিক ছিলেন তিনি। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ৩১ অক্টোবর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের আগে সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চাকরি করতেন তিনি। স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন বিদ্যুৎকর্মী হাসমত উল্যাহ সাউদ। যুদ্ধ শেষে একই প্রতিষ্ঠানে পুনরায় যোগদান করেন। হাসমত উল্যা সাউদ এফ এফ বাহিনীতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং স্বক্রিয়ভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। ভারতের মেলাঘর থেকে এফএফ সদস্য হিসেবে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে যোগ দেন তিনি। তার সহযোদ্ধাদের বর্ণনা অনুযায়ী তিনি এসএলআর, এসএমজি এবং গ্রেনেড নিক্ষেপের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন। ২ নম্বর সেক্টরে মেজর হায়দারের নেতৃত্বে যুদ্ধ করেন হাসমত উল্যাহ সাউদ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জাতীয় মহাসম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয় হাসমত উল্যা সাউদকে। তিনি যে অস্ত্র জমা দিয়েছেন তার গ্রহণ কপিও রয়েছে। ১৯৭২ সালের ১ জানুয়ারি তিনি একটি এস এল আর (বাট নং ১২৮৯) জমা দেন। অস্ত্র জমাদানের রশিদ নং ১২৮৯। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় কোথায় কার সঙ্গে এবং কার নেতৃত্বে যুদ্ধ করেছেন; কোথায় ট্রেনিং নিয়েছেন তা গণপ্রজাতান্ত্রিক বাংলাদেশ সরকার, সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন মুক্তিবাহিনী কমান্ডার কর্তৃক প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ রয়েছে। সাপ্তাহিক মুক্তিবার্তায়ও তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়েছে (নং ০২০৫০৫০৬১৮)।
বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসমত উল্যা সাউদের বড় ছেলে কামরুল হাসান সাউদ জানান, তার বাবার যুদ্ধ সংক্রান্ত যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ রয়েছে। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানী এবং আঞ্চলিক অধিনায়ক (২ নম্বর সেক্টর) কর্নেল খালেদ মোশাররফের স্বাক্ষরযুক্ত দেশরক্ষা বিভাগ কর্তৃক স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্র রয়েছে। এফ জোন (নোয়াখালী) কমান্ডার সামছুল হক কর্তৃক প্রত্যায়ন, সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন মুক্তিবাহিনী কমান্ডার কর্তৃক প্রত্যায়ন, বিগত ৮ আগস্ট ১৯৭৭ সালে ১ নম্বর সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় কর্তৃক প্রত্যায়ন, ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ‘সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমান্ড’ কর্তৃক প্রত্যায়ন, ঢাকা সিটি কমান্ডার ‘গেরিলা বাহিনী’ কর্তৃক প্রত্যায়নপত্র রয়েছে। এত সব প্রমাণপত্র থাকার পরও তালিকাভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাননি হাসমত উল্যা সাউদ।
এত কিছু থাকার পরও কেন গেজেটে হাসমত উল্যার নাম নেই! এই বিষয়ে তার বড় ছেলে বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, তরুণ সমাজ সেবক ও ফরিদগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান সাউদ বলেন- ‘জ্ঞান হওয়ার পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত। চিন্তায় চেতনায় এবং মননে আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর দর্শন, আদর্শে বিশ্বাসী বলে কোনো কিছুতে লোভ নেই। তবে রাষ্ট্রীয় সুবিধা নিতে নয়, আমি শুধু বাবার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চাই।’
এমএসএম / এমএসএম
ত্রিশালে নজরুল জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে প্রাক-প্রস্তুতি সভায় সংস্কৃতি মন্ত্রী
লালমাই পাহাড়ের ‘সিলগালা’ কূপ ঘিরে রহস্য- ২০০৪ সালে গ্যাসের সন্ধান, কৌতূহলে স্থানীয়রা
দৌলতখানে সাজেদা ফাউন্ডেশনের 'স্টপ দ্য স্টিগমা ২.০' প্রকল্পের লার্নিং শেয়ারিং মিটিং অনুষ্ঠিত
কালকিনিতে জেলেদের চাল নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের চালবাজী!
সুন্দরবনে চোরাশিকারীদের কবল থেকে ২ হরিণ উদ্ধার, বনে অবমুক্ত
হাতিয়ায় নিখোঁজ শিশুর ভাসমান লাশ উদ্ধার
রেক্টিফাইড স্পিরিট পানে বিষক্রিয়া ও মৃত্যু প্রতিরোধে মেহেরপুরে সেমিনার অনুষ্ঠিত
মধুখালীতে নওপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান আটক
ধামইরহাট পৌরসভার রূপকল্প ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত
শার্শায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২
পিরোজপুরে শিশু শ্রম ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অবহিতকরণ সভা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান
গ্রাম পুলিশ নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ইউপি সদস্য