নজরদারির অভাবে হাকালুকিতে চলছে অবাধে পাখি শিকার
এশিয়ার সর্ববৃহৎ হাকালুকি হাওরে কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে অবাধে চলছে পাখি শিকার। পাখি শিকারিরা সব সময় তৎপর থাকলেও যথাযথ কর্তৃপক্ষ রয়েছে অন্ধকারে। পাখি শিকার বন্ধে বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় কোনোভাবেই থামছে না পাখি শিকার। পরিবেশ ও পাখিপ্রেমীসহ স্থানীয়রা পাখি শিকার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন শীতপ্রধান দেশ থেকে হাকালুকি হাওরে নানা প্রজাতির পাখি আসে। এসব পাখির মধ্যে রয়েছে বালিহাঁস, ভুতিহাঁস, গিরিয়াহাঁস, ল্যাঞ্জাহাঁস, গুটি ইগল, কাস্তেচরা, কুড়া ইগল, সরালি, পানভুলানি, কালিম, সাদা বক, কানি বক, পানকৌড়ি। এর মধ্যে দেশীয় প্রজাতির নানা জাতের পাখি রয়েছে।
হাওরপাড়ে বসবাসকারী স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানা যায় , হাকালুকি হাওরে অসাধু শিকারিরা বিষটোপ আর ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করায় দিন দিন অতিথি পাখির আগমন কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে শীতে হাওরে অতিথি পাখি আসার সাথে সাথে পাখি শিকারিরা তৎপর হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা আরোও জানান, প্রতি বছর শীতপ্রধান দেশ থেকে হাকালুকি হাওরে নানা প্রজাতির পাখি যেমন: গুটি ইগল, বালিহাঁস, ভুতিহাঁস, গিরিয়াহাঁস, ল্যাঞ্জাহাঁস, কাস্তেচরা, কুড়া ইগল, সরালি, পানভুলানি, কালিম, সাদা বক, কানি বক, পানকৌড়ি আসে। বিদেশি পাখির পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির নানা জাতের পাখি রয়েছে এ হাকালুকি হাওরে।
সম্প্রতি জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী এলাকায় বিক্রিকালে বেশ কয়েকটি টিটি পাখি, জলমোরগ, ছোট ডুবুরি, বাবু বাটান, ওটা পাখিসহ মোট ২০ টি উদ্ধার করে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে বনবিভাগ অবমুক্ত করে। তবে এ সময় পাখি শিকারী কে হাতেনাতে পেলেও বনবিভাগ তাকে ছেড়ে দেয়।
পরিবেশকর্মী খোরশেদ আলম বলেন নাগুয়া, হাওরখাল, মাইছলা, গজুয়া, পিংলা ও বাইয়াবিলে বেশি শিকারের ঘটনা ঘটে। পাখি শিকারিরা রাত-দিন নানাভাবে ফাঁদ পেতে বন্দুক ও জাল দিয়ে হাওরে পাখি শিকার করছে। এছাড়াও বিষটোপ দিয়ে পাখি মারা হচ্ছে। বিষটোপ খেয়ে পাখির পাশাপাশি অনেক খামারির হাঁসও মারা যাচ্ছে। শিকারিরা পাখি শিকার করে স্থানীয় বিভিন্ন বাজারসহ বাসা বাড়ীতে প্রকাশ্যে বিক্রি করছে। এছাড়াও বিভিন্ন হোটেলে এসব পাখির মাংস বিক্রি হচ্ছে। এমনকি প্রভাবশালী অনেকের ঘরেও এসব পাখি যাচ্ছে বলে জানা যায়।
নাগুয়া বিলের পাশের চাষি মো. শামীম মিয়া বলেন, হাওরে প্রতি বছরের মতো এবারও অতিথি পাখি শিকার চলছে অবাধে। অনেক সময় শিকার বন্ধে নিজ থেকে পাহারা দেই। এর পরও শিকারিরা পাখি শিকার করছে নানাভাবে ফাঁদ পেতে। শিকারিদের দেওয়া বিষটোপে অনেক সময় আমাদের হাঁস মারা যায়। বাধা দিলে তারা আমাদের হুমকি দেয়।
সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মী রিপন দে বলেন, অবাধে পাখি শিকারের কারণে হাওরে পাখির সংখ্যা দিনে দিনে কমছে। পাখি রক্ষায় জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। পাখি শিকার বন্ধে বন বিভাগের লোকবল সংকটে রয়েছে। অবিলম্বে বনবিভাগের লোকবল সংকটে নিরসন করে শিকার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
পাখি শিকারের বিষয়টি স্বীকার করে জুড়ী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, লোকবল সংকটে অনেক সময় পাখি শিকারিদের ধরতে আমাদের বেগ পেতে হয়। তবে এ ব্যাপারে আমরা তৎপর আছি।
বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, পাখি শিকার বন্ধে আমাদের প্রধান অন্তরায় লোকবল সংকট। মাঝেমধ্যে আমরা বন্দুক দিয়ে পাখি শিকারের খবর পাই। এ ব্যাপারে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। এরপরও যদি কেউ পাখি শিকার করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এমএসএম / জামান
ফেনীতে সাংবাদিককে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টা: আ.লীগের সাবেক কাউন্সিলর খালেদ খান আটক
ফেসবুকে পোস্ট শেয়ার নিয়ে ফেনীতে বিএনপি নেতাকে যুবদল নেতার হুমকির অভিযোগ
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন /বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল বিজয়ী
রৌমারীতে নদীর পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
সান্তাহারে নতুন কুড়ি স্পোর্টসের খেলোয়াড় বাছাই শুরু
ক্ষেতলালে বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে ৪০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ডিম বিতরণ
হত্যাকাণ্ডে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নীরবতা, চাঁদপুরে ইনকিলাব মঞ্চের হুঁশিয়ারি
যাত্রা শুরু করল বাঘা উপজেলা উদ্যোক্তা ফোরাম, লক্ষ্য সাইবার অপরাধ ও বেকারত্ব দূর করা
মেঘনায় নৌ-পুলিশ ও জেলেদের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ হয়ে জেলে নিহত
যাত্রা শুরু করল বাঘা উপজেলা উদ্যোক্তা ফোরাম, লক্ষ্য সাইবার অপরাধ ও বেকারত্ব দূর করা
ধুনটে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ, উঠে এল একাত্তরের যুদ্ধদিনের কথা
উলিপুর মডেল মসজিদে বয়স্কদের কুরআন শিক্ষা কার্যক্রম চালু