ঢাকা শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬

বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে ও বেতারে অনুষ্ঠান অডিশন সিন্ডিকেট:অসহায় কর্তৃপক্ষ


চট্টগ্রাম ব্যুরো photo চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: ১১-৫-২০২২ দুপুর ১২:৩৩

বাংলাদেশ টেলিভশন(বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম কেন্দ্র ও বান্দারবান, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটিসহ উপ কেন্দ্রগুলো ঘিরে গড়ে উঠেছে বিশাল একটি সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের কাছে অসহায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও। সিন্ডিকেটের কারণে বিগত দিনে অনেক জিএম ও বেতারের দায়িত্বপ্রাপ্তদের শাস্তিমূলক বদলী ও অপমানিত হয়ে চট্টগ্রাম ছাড়তে হয়েছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিটিভি ও বেতারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা বদলী হলেও সিন্ডিকেটের মূল হোতরা স্বপদে দীর্ঘদিন ধরে বহাল। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি নিজেই বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র ও বেতারের অনুষ্ঠানের মান বাড়াতে যথেষ্ট আন্তরিক হলেও প্রোগ্রাম ম্যানেজার রোমানা শারমিন ও পিএ সুকুমার বিশ্বাসের সিন্ডিকেটের কারণে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।  বিটিভি ও বেতারে অডিশন সিন্ডিকেটে রয়েছে স্বর্ণময় চক্রবর্ত্তী, তবলা বাদক আবেদ, দোতারা বাদক বাবুল ইসলাম, চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমির শিক্ষক আব্দুর রহিম, বেতার চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সংগীত প্রযোজক পাপিয়া আহমেদ। বেতার এবং টিভিতে অডিশন হলে টাকার বিনিময়ে পাশ করিয়ে দেয়া তাদের কাজ। এ সিন্ডিকেটের সদস্যরা নিজেরা ভাল গান গাইতে না পারলেও  সংগীতের বিভিন্ন বিভাগের স্বঘোষিত বিশেষজ্ঞ সেজে বিচারকের দায়িত্বে তারাই থাকে। যে যত ভাল শিল্পী হউক তাদের লাভ এবং বাণিজ্য না হলে পাশা করাবে না। অডিশনের নামে বিভিন্ন সময় তাদের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিটিভির চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সদ্য বিদায়ী জিএমকে শিল্পকলার আব্দুর রহিম ও স্বর্ণময় চক্রবর্ত্তীর মাধ্যমে অডিশনের নামে অনিয়ম দুর্নীতির কারণে বদলীয় হতে হয়েছে। মাছ বিক্রেতা, গাছ বিক্রেতাকেও শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত করার মত অভিযোগও রয়েছে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।  
অভিযোগ উঠেছে ঈদের দিন বিকেল ৫টা ৩০মিনিটে প্রচারিত ছায়াছবির গান নিয়ে দ্বৈত সংগীতের অনুষ্ঠানটি দেখে। বিতর্কিত প্রযোজক ইয়াদ আহমেদকে দিয়ে আবারো ছায়াছবির গান নিয়ে অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের গান নির্বাচন নতুন তালিকাভুক্ত শিল্পী নির্বাচন এবং যন্ত্রীদের পোষাক দেখলে বুঝবে  ঈদের মানহীন অনুষ্ঠান। শিল্পী নাজমুল আবেদীন বলেন, বয়স হলে, সিনিয়র হলে সম্মান বাড়ে, কিন্তু এই কেন্দ্রে তার বিপরীত। বিষয়টি খুবই লজ্জাজনক। হয়তো প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে, তাই টিভি কর্তৃপক্ষ ডাকে না।
মুসলমানদের ঈদ উৎসব হলেও ঈদ উপলক্ষে প্রচারিত ছায়াছবির গানের দু’টি অনুষ্ঠানের সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সনাতনী সম্প্রদায়ের সংগীত পরিচালককে। এটি নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে সুরকার ও সংগীত পরিচালকদের মাঝে। মুসলমানদের মধ্যে এত সুরকার ও সংগীত পরিচালক থাকতে কেনই বা সনাতন ধর্মের লোক দিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনা করলেন। আরো অভিযোগ রয়েছে মুসলমান অনেক শিল্পী ঈদ  অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনের সুযোগ পাননি তাদের মধ্যে রয়েছে নাজমুল আবেদীন চৌধুরী, মিয়া মোঃ বদরুদ্দিন, ইফতেখার সাদী, আলম আশরাফ, লুবনা জান্নাত, রুনা পারভীন, পলি শারমিন, ইন্তেখাব আলম মান্না, আখেরুল ইসলাম, আখতার হোসেন কিরন, মুসলিম আলী জনি, শেখ নজরুল ইসলাম মাহমুদ, এস.বি সুমী, দিদারুল ইসলাম, শহীদুর রহমান, বাবুল ইসলাম, হানিফ চৌধুরী, রবিউল হকসহ আরো অনেকেই। এছাড়াও প্রযোজক ইয়াদ আহমেদের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিতি উপস্থাপিকাকে দিয়ে উপস্থাপনা করাতে সিনেমা গানের অনুষ্ঠানকি দর্শকদের নিকট গ্রহনযোগ্য হয়ে উঠেনি। এর চেয়েও সুন্দর মার্জিত ভালো উপস্থাপিকা টিভিতে রয়েছে। 
ইলন শফির প্রযোজনায় আনন্দ মেলায় গান নিয়েও শিল্পীদের ক্ষোভ বিরাজ করছে। ২টি দেশের গান করার জন্য রোজার মাসে চট্টগ্রাম শহরে এত সুন্দর জায়গা থাকতে শিল্পীদের কাপ্তাই নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন কি ছিল, শিল্পীরা এটিকে শাস্তি হিসেবে দেখছেন। টিভি হয়েছে ২৬ বছর হবে। এত কষ্ট শিল্পীরা আগে কখনো করেনি। এই গান করতে গিয়ে শিল্পীরা অনেকেই অসুস্থ হয়েছেন। আবার দিন শেষে শিল্পী সম্মানীর চেকও পাননি। এর জন্য প্রযোজক ও প্রোগ্রাম ম্যানেজারের অনভিজ্ঞতাকে দায়ী করেছেন অংশগ্রহনকারী শিল্পীরা। আবার অনেকে এই ঝামেলা এড়াতে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেননি। চিত্রনায়ক ফেরদৌস ও চিত্রনায়িকা পূর্ণিমাকে দিয়ে আনন্দ মেলা অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করলেও প্রচার প্রচারনার অভাবে অনুষ্ঠানটি উপভোগ্য হয়ে উঠেনি। 
গীতিকার দিলীপ ভারতী বলেন, পুরো অনুষ্ঠানমালায় একটি আধুনিক গানের অনুষ্ঠান হয়নি। এতে করে গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালকরা মৌলিক কাজ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আধুনিক গানের প্রতি টিভি কর্তৃপক্ষের এতো উদাসীনতা কেন? সেটি এখনো জানা গেলনা। এছাড়াও এপ্রিল মাসে আধুনিক গানের নিয়মিত সিডিউল ছিলনা অজানা কারণে। তালি জোড়া দিয়ে ধার করা অনুষ্ঠান দিয়ে ঈদ অনুষ্ঠানমালা সাজানোর কোনো কৃতিত্ব নেই। এমনটি অভিযোগ সংস্কৃতি কর্মীদের। প্রতিটি অনুষ্ঠানে একজনকে গ্রন্থনা করার দায়িত্ব দেয়া হলে, একজন করে উপস্থাপক উপস্থাপিকা যুক্ত করলে, মৌলিক গানের অনুষ্ঠানে গীতিকার ও সুরকার এবং সংগীত পরিচালনা যুক্ত করলে প্রচার প্রচারনা যেমন বেশী হতো তেমনি অনুষ্ঠানের মানও বৃদ্ধি পেতো। 
নাট্যকার অভিনেতা মহসিন চৌধুরী বলেন, ঈদ উপলক্ষে কর্তৃপক্ষ চাইলে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় নাটক প্রচার করতে পারতো, কিন্তু সেটা করেনি। ঈদ উপলক্ষে নাটক প্রচার করা হলেও সেটির সাউন্ড কোয়ালিটি অডিও ভিডিও মানসম্মত ছিলনা। ঢাকা থেকে শিল্পী এনে অনুষ্ঠান করা হলেও বঞ্চিত হয়েছে চট্টগ্রামের অনেক প্রতিভাবান শিল্পী। চট্টগ্রামে তালিকাভুক্তি হননি, এমন অনেক মেধাবী সুন্দর সুন্দর ছেলে মেয়ে রয়েছে, যারা কিনা স্যাটেলাইট চ্যানেলে নিয়মিত অনুষ্ঠান করছেন। সব মিলিয়ে জোড়া তালি মার্কা ঈদ অনুষ্ঠান দর্শকদের সাথে এক ধরনের প্রতারনা। 
চট্টগ্রাম মিডিয়া ফোরামের সভাপতি আলী নেওয়াজ বলেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রে চট্টগ্রামের শিল্পীরাই বঞ্চিত। চট্টগ্রামের লোকাল শিল্পীদের অগ্রাধিকার দিয়ে বিটিভি চট্টগ্রামের অনুষ্ঠানগুলো সাজানোর দাবি জানান।

এমএসএম / এমএসএম

গজারিয়ায় বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিল

গাজীপুরে ঝুট ব্যবসা নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ

হাবিবুর রহমান হাবিবের বহিষ্কার ও জেলা কমিটি পুনর্গঠনের দাবি সিরাজুল ইসলাম সরদারের

নোয়াখালীর কবিরহাটে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্টজনদের সম্মানে জামায়াতে ইসলামীর ইফতার অনুষ্ঠান

রায়গঞ্জে আশ্রয়ণ প্রকল্পে বৃদ্ধের রহস্যজনক মৃত্যু

পিসিপি’র খাগড়াছড়িতে ১৭ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন

ধামইরহাটে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে কৃষকের সরিষা কেটে নিল প্রতিপক্ষ

জেএসএস’র গুলিতে খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ সদস্য নিহত

আদমদীঘিতে বাশেঁর বেড়া দিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি

মান্দায় রফিকুল হত্যা মামলা নিয়ে পুলিশের তেলেসমাতি

কোনাবাড়ী উলামা পরিষদের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

উলিপুরে হাঙ্গার প্রজেক্টের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বারহাট্টা রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের কার্যকরী কমিটি গঠিত