অসহায় অবিনাশের পরিবার: ৫১ বছরেও মেলেনি শহীদের স্বীকৃতি
১৯৭১ সালে দেশে যখন স্বাধীনতা যুদ্ধের ডামাঢোল বেজে উঠে তৎকালীন চকবাজারে রায় বাহাদুর এস্টেটের ম্যানেজার অবিনাশ চন্দ্র দাশকে পাক-হানাদার বাহিনীর সদস্যরা ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। পরবর্তীতে তাঁর দুই মেয়ে ও এক ছেলে পিতার লাশ পেতে অনেক স্থানে খোঁজ নিয়েও লাশ পাননি। অপরাধ ছিল যুদ্ধকালীন সময় পাক হানাদার বাহিনীর গোপন সংবাদ সংগ্রহ করে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পৌঁছে দেয়া। এসব অভিযোগে পাক বাহিনী ঘর থেকে তুলে নিয়ে নির্র্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। হত্যা করার পর তার মৃতদেহটিও নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হয়। তিনি নিজের পকেটের টাকা খরচ করে গরিব ছাত্রছাত্রীদের সহযোগিতা করতেন। চলাফেরা ও কথাবার্তায় ছিল নিজস্ব স্বকীয়তা। স্বাধীনতার এত বছর পরও তাঁর ছেলে মেয়ে এমনকী আত্মীয়স্বজনের কাছে খোঁজ নিয়ে শুনতে হয় লজ্জাজনক এক ইতিহাস। এত বছর অতিবাহিত হলেও অবিনাশ চন্দ্র দাশের নাম মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এমনকি মেলেনি শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি। তবে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের বিভিন্নরণাঙ্গনে সন্মুখ সমরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা স্মারকে ৫৪ নাম্বারে অবিনাশ চন্দ্র দাশের নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে। কিন্তু এখনও অবিনাশ চন্দ্র দাশের পরিবার পায়নি শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি। তাঁরা রোগে শোকে জর্জরিত প্রবীণ দুই মেয়ে ও এক ছেলে মৃত্যুর আগে শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি নিয়ে মরতে চাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তাদের দাবি রহাস্যজনক কারণে তাঁদের বাবার নাম তালিকাভুক্ত হয়নি। তাই শহীদ অবিনাশের পরিবার এখনও তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রত্যাশায় ও শহীদ পরিবারের স্বীকৃতির জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।
প্রবীণ রোগাক্রান্ত অবিনাশ চন্দ্র দাশের বড় মেয়ে মিনতি দাশ ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম সরকারি তালিকাভুক্ত না হওয়ার কারণ জানিনা। তবে আমরা সরকারি কোনো সাহায্য চাই না। আমরা চাই আমাদের পরিবারকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের স্বীকৃতি দেয়া হোক। অন্ততপক্ষে আমার বাবার আত্মাটা শান্তি পাবে।
জানা গেছে, তৎকালীন চকবাজার ইউনিয়নের প্রভাবশালী কাউন্সিলর প্রয়াত ছৈয়দ আহ্ম্মদ খান এবং পরবর্তী কাউন্সিলররাও অবিনাশ দাশের মৃত্যু সম্পর্কে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য সম্পর্কিত প্রত্যায়নপত্র দিয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের কর্তা-ব্যক্তিরা এবং তদানিন্তন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত কাজী এনামুল হক দানু , মুক্তিযোদ্ধা অমল মিত্র, মুকুল কান্তি দাশ, অমিত প্রসাদ মুৎসুদ্দি প্রমূখ ব্যক্তিরাও তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সংগঠক ডা. মাহফুজুর রহমান পৃথকভাবে প্রত্যায়ন দিয়েছেন।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর ১৭০ সিরাজউদ্দৌল্লা রোডের চকবাজার পোস্ট অফিস সংলগ্ন ঈমামগঞ্জ মৌজার বি.এস ৫৬৯ দাগের বিষ্ণু মন্দির ও ব্যক্তি মালিকানাধীন আবাসিক জায়গাটির মালিক রায় বাহাদুর উপেন্দ্র লাল রায়। এটি রায় বাহাদুর এস্টেট নামে পরিচিত। এখানে ১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি বিষ্ণু মন্দির ও ৩টি টিনশেড কাঁচা ঘর ছিল। এ এস্টেটের তৎকালীন ম্যানেজার ছিলেন অবিনাশ চন্দ্র দাশ যাকে ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে পাক-হানাদার বাহিনীর সদস্যরা ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। ১৯৬৫ সালে (পাকিস্থান আমলে) এ সম্পত্তিসহ পার্শ্ববর্তী আরো অন্যান্য সম্পত্তি নিয়ে সরকারের সাথে এইচ.আর.এল.এ কেইস নং ১৫, সাল ১৯৬৪-৬৫ রুজু হয়। মামলার রায়ে সমাজকল্যাণের নামে সরকার দেড় কাঠা জায়গা অধিগ্রহন করলেও রায় বাহাদুর এস্টেটের পক্ষে আরো ৫ শতক জায়গায় স্থিত একটি বিষ্ণু মন্দির ও তিনটি টিনশেড ঘর অবিনাশ চন্দ্র দাশের নামে দেয়া হয়। এ জায়গায় বহিরাগত কাউকে প্রবেশ না করার জন্য মামলার রায়ে উল্লেখ করা হয়।
এমএসএম / এমএসএম
নওয়াপাড়ায় ব্যবসায়ী আনিছুর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ, বুধবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল
কাশিমপুরে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান, তিন প্রতিষ্ঠানকে ৬৫ হাজার টাকা জরিমান
নাগরপুরে প্রান্তিক গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মাঝে হাঁসের বাচ্চা বিতরণ
রৌমারী হাট-বাজারে আইনশৃঙ্খলা সভায় অতিরিক্ত টোল আদায়ের অনুমতি দিলেন ইউএনও
সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪৮ঘন্টায় মাদক, ডাকাতিসহ অনলাইন ক্যাসিনো কান্ডে জড়িত ১২জন আটক
নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি লিয়াকত, সম্পাদক জাহাঙ্গীর
ঠাকুরগাঁওয়ে তাঁতশিল্প পুনরুজ্জীবনে আশার বার্তা দিলেন ডাঃ শামারুহ মির্জা
ঠাকুরগাঁওয়ে নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস পালিত
গাসিকে মাসব্যাপী কর মেলা উদ্বোধন ও প্রশাসকের বাজার পরিদর্শন
প্রায় দুইশ’ বাইকারের অংশগ্রহণে নড়াইলে সুজুকি রাইডার্স ডে
রাঙ্গুনিয়ায় ১৭ মামলার পরোয়ানার আসামি গ্রেফতার
পটুয়াখালীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক নার্স দিবস পালিত