ঐতিহাসিক "মূল্লুকে চলো" আন্দোলন ও চা শ্রমিক দিবস
১৯২১ সালের ২০ মে স্বদেশে ফেরার জন্য চাঁদপুরের মেঘনা ঘাটে সমবেত প্রায় ৩০ হাজার নিরীহ চা বাগান শ্রমিকের উপর মালিক পক্ষের পরোচনায় পুলিশের নির্বিচার গুলিতে হাজার হাজার নারী পুরুষ শিশু হতাহত হয়। বৃটিশ পুলিশের এই বর্বরোচিত নির্মম হামলায় হত্যাকাণ্ডের স্বরণে দিনটিকে চা শ্রমিক দিবস হিসাবে পালিত হয়ে আসছে।
মুল্লুকে চলো আন্দোলন ঃ-
১৮৫৪ সালে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মালিকানায় সর্ব প্রথম সিলেটের 'মালনিছড়া' চা বাগানের সুচনা হয় এ দেশে।তারপর একে একে সিলেট সহ অন্যান্য স্থানেও বাগানের বিস্তৃতি। বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত চা বাগানের সংখ্যা ১৬৭টি। যেখানে প্রায় ৮ লক্ষ শ্রমিক কর্মরত আছে। অতি স্বল্প মজুরি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিনোদনসহ নানাবিধ মৌলিক অধিকার ও নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত তারা। প্রথম থেকেই মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।
বৃটিশ সরকার চা শ্রমিক হিসাবে এই সব শ্রমিকদেরকে তদানিন্তন বৃটিশভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জোরপূর্বক জাহাজে করে এনে পেটে ভাতে চা বাগানের কঠোর পরিশ্রমী কাজ করতে বাধ্য করে। নুন্যতম সুযোগ সুবিধার অভাবে বাধ্যহয়ে অনেকটা শ্রমদাস মানুষগুলো দিনে দিনে বিদ্রোহী হয়ে স্বদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর হয়ে "মুল্লুকে চলো (দেশে ফিরে চলো) আন্দোলনের সুচনা করে। শ্রমিক নেতা গংগাচরন দীক্ষিত এবং দেওসরন ঐতিহাসিক এ আন্দোলনে শ্রমিক সংগঠিত করন ও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
কঠোর পরিশ্রম, অর্ধাহার অনাহারে অপুষ্টিতে রোগাক্রান্ত মানুষগুলো চা বাগান ছেড়ে পায়ে হেটে সুদুর সিলেট থেকে চাঁদপুরের মেঘনা ঘাটে জড়ো হতে থাকে। উদ্দেশ্য নৌ পথে স্বদেশে ফিরে যাবেন।
কিন্তু কোম্পানি তাদের কোনোমতেই যেতে দিতে নারাজ। লেলিয়ে দেয়া হলো পুলিশ।
১৯২১ সালের ২০ মে চাঁদপুরের মেঘনা নদীর ঘাটে শুরু হলো নিরিহ শ্রমিকেরপর আক্রমণ -নির্বিচার গুলি বর্ষন। আবাল বৃদ্ধ বনিতার উপর পৈচাশিক হামলা। শতশত গুলিবিদ্ধ নিহত। প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই প্রমত্তা মেঘনায় ঝাঁপ দিয়ে সলিলসমাধিতে হয়েছে সমাধান। ওইদিন কত শ্রমিক মারা গেছে তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও মেঘনা নদীর লালাভ পানি আর রক্ত বন্যার শ্রোতের চাক্ষুষ দর্শীদের মতে এ সংখ্যা কয়েক হাজারের কম ছিলনা।
যারা ভাগ্যক্রমে বেচে যান সেই সব আহত শ্রমিকদেরকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয় চা বাগানে। যেখানে কঠোরতম শাস্তির মাধ্যমে পুনরায় বাগানের কাজে লিপ্ত করে।
তবে এই আত্মদানের ফলে বৃটিশ সরকারের কিঞ্চিৎ বোধোদয় হয় ফলশ্রুতিতে ক্রমান্বয়ে চা শ্রমিকদের অধিকার প্রশ্নে আইনের কিছু সংশোধনী করা হয় যদিও তা কোনোভাবেই যথেষ্ট ছিলনা।
এ দেশের শ্রমিক আন্দোলনে চা এবং রেলওয়ে শ্রমিক আন্দোলনই আদি এবং অগ্রনী ভুমিকায় ছিলো।
এখনো চা শ্রমিকরা অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে। সারাদিন খাটুনির পরও চা শ্রমিকদের দৈনিক গড় মজুরি মাত্র ১২০ টাকার মত।
সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন জরিপ প্রতিবেদনে চা শ্রমিকদের শ্রম পরিস্থিতি তুলনামূলক সবচেয়ে খারাপ অবস্থার আছে বলে তথ্য প্রমানে প্রতিফলিত হয়েছে।
আইএলও-র আইএলএস সমুহ কিংবা দেশের শ্রম আইন কিছুই যেন দেখার কেউ নেই! অথচ চা আমাদের অন্যতম গর্বের রপ্তানিপণ্য। চা শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট আইনের সংশোধন এবং তা যথাযথ প্রয়োগে সরকার এবং কর্তৃপক্ষের মনোযোগ আকর্ষণ করছি।
আজকের উন্নত সভ্য সমাজে কর্মদিবসের শুরুর সজিবতা আনায়ন কিংবা কর্মক্লান্তিতে সতেজতা ফিরে পাওয়া অথবা অবসরে- আড্ডার প্রাণ চঞ্চলতা উপভোগে গরম চায়ের কাপে চুমুকের সাথে আমরা কতই না পুলকিত হই। অথচ সেই চা উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের যাপিত জীবনমান কতটা মানবেতর তা যদি একটিবার ভাবা যেতো, তাহলে হয়তো ঐ সুখানুভূতি নিমিশেই কর্পূরের ন্যায় উবে যেতো কিনা বলাই বাহুল্য।
" মুল্লুকে চলো" আন্দোলনে প্রানদানকারী মেহনতী শ্রমিক ভাই বোনদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি এবং তাদের আত্মার শান্তি কামনা করি।
সর্বোপরি চা শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সংহতি জানাই।
লেখক সাধারণ সম্পাদক,
জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক দল,রেজিঃ নং-বি-১৭৬৫।
এমএসএম / এমএসএম
রাজস্থলীতে ভূমি অধিগ্রহনের খতিগ্রস্থ দের মাঝে ৬জনকে চেক বিতরণ
মাসুদ রানা দরিদ্রদের বিনামূল্যে দিলেন ৪০ টি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান
কুড়িপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ , নেতৃত্বে তহসিলদার মফিজুল
হাতিয়ায় একটি পরিবারে মা মানসিক রোগী ও ছেলে জন্মগত প্রতিবন্ধী হওয়ায় চলছে তাদের দুর্বিষহ জীবন
খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় কুমিল্লায় দোয়া মোনাজাত
বাংলাদেশ রেলওয়ে: ঘুষ ছাড়া স্বাক্ষর করেন না ডিআরএম
রাজস্থলীতে ভূমি অধিগ্রহনের খতিগ্রস্থ দের মাঝে ৬জনকে চেক বিতরণ
সোনাগাজীতে অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগে দুই ব্যাক্তির সাজা
কুমিল্লায় ধর্মরক্ষিত মহাথের’র ৫ম মৃত্যু বার্ষিকীতে স্মরণ সভা ও কনকস্তূপ বৌদ্ধ বিহার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
অবৈধ কয়লা উৎপাদনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৭৪টি চুল্লি
শীতে কাঁপছে দেশ" বীজতলা নিয়ে শঙ্কায় কৃষক
বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের আবেদন করলেন দলের আরেক প্রার্থী!