ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চট্টগ্রামে কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশী পাসপোর্ট দেয়ার অভিযোগ


চট্টগ্রাম ব্যুরো photo চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: ৪-৬-২০২২ দুপুর ৪:১৬

চট্টগ্রাম পাসপোর্ট অফিসের কথিপয় আনসার সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী দালাল চক্রের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশী পাসপোর্ট দেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পাসপোর্ট অফিস অবৈধ কর্মকান্ডে প্রতিমাসে ৫ কোটি টাকা লেনদেন হয় এরমধ্যে একটি অংশ স্থানীয় প্রশাসন, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, এমন কি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় পর্যন্ত পৌঁছে যায় বলে বিশ্বস্থ এক সূত্রে জানায়।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দালাল চক্রের সহযোগিতায় ৮৯৭ রোহিঙ্গা পাসপোর্ট এবং ৫৫ হাজার জনকে জাতীয় পরিচয়পত্র নেয়ার ঘটনায় দুদক প্রমান পেয়েছে। পাসপোর্ট এবং জাতীয় পরিচয় পত্র অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের হাতে চলে যাওয়ার ঘটনয় ১৮টি মামলা করেছে দুদক। তদন্তে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট পাওয়ার পেছনে নির্বাচন অফিস, পাসপোর্ট অফিস,স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৩ মে জোবাইদা খানম (১৯) নামে এক রোহিঙ্গা তরুণী পাসপোর্ট করতে গিয়ে অফিসের স্টাফদের সাথে চুক্তিমত বনিবনা না হওয়ায় পুলিশের হাতে তুলে দেন। চট্টগ্রাম পাঁচলাইশ থানাধিন পার্সপোর্ট অফিসে নতুন আবেদন, নবায়ন, সংশোধন করতে গেলে কাগজ পত্র শতভাগ সব ঠিক থাকার পরও প্রতি আবেদনে ২০০০-৫০০০ টাকা অতিরিক্ত আনসার সদস্য অথবা দালাল চক্রকে দিতে হয়। নাম সংক্ষেপ, পুরো নাম, মা বাবার কারো পুরো বা সংক্ষেপ নাম বাণানে সমস্যা, জন্মস্থান, ঠিকানা পরিবর্তন, নামের সাথে শিক্ষাগত সনদ, জাতীয় সনদ, জাতীয় পরিচয় পত্রসহ যে কোন একটা সামান্য কিছু চোখে ধরা পড়লে দিতে হয় ৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি দিতে হয়। উক্ত পাসপোর্ট অফিসে প্রতিদিন গড়ে ৩০০/৪০০ টি নতুন আবেদন, নবায়ন, সংশোধনের জন্য জমা পড়ে। সে হিসেবে প্রতিমাসে প্রায় ৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়ে থাকে। পাসর্পোট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গড়ে তুলেছে নিজস্ব দালাল চক্র। চক্রটির মার্ক ছাড়া কোন আবেদন জমা দিলে হতে হয় হয়রানি মাসের পর মাস বছরের পর বছর। পাসপোর্ট অফিসে যাবতীয় লেনদেন কারে থাকেন আনসার সদস্য মো. খোকন, আনসার রুহুল আমিন, আনসার রিপন, অফিস স্টাফ সুমনসহ প্রতিজনকে সাপ্তাহে ৬০ হাজার টাকা করে দিতে হয়। দালাল রিদুয়ান, মোজাম্মেলন হোসেন, আব্দুল মান্নান বাইরে চুক্তি করে টাকা আদায় করে থাকেন। এরমধ্যে সাইফুল ইসলামকে প্রতি সপ্তাহে ৬০ হাজার টাকা নেন স্থানীয় সাংবাদিককেরা নিউজ করার থেকে বিরত রাখার বাবদ। এরমধ্যে সাইফুল পাঁচলাইশ থানার পুলিশ সোর্স কুদ্দুস ওসির নাম ভাঙ্গিয়ে সপ্তাহে ২৫ হাজার নেন। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ নামধারী ট্রাভেল এজেন্সির দালাল থেকে প্রতি সপ্তাহে ৫০০ টাকা করে চাঁদা নেন সাইফুল। পাসপোর্ট আবেদন জমা নেয়ার ক্ষেত্রে অফিস কর্তৃপক্ষ ১৬৫০ টাকা মার্কাকা/ চিহ্ন না থাকলে ফাইলে তাহলে চরম হয়রানি, ফাইল ফিরিয়ে দেয় এবং পুলিশের প্রতিবেদনের জন্য পাঠান। পুলিশের প্রতিবেদন আসার পরও দালালদের মাধ্যমে যোগাযোগ না করলে বছরের পর বছর মাসের পর মাস ঘুরেও কাজ হয় না, এরকম হাজার হাজার মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। চট্টগ্রাম পাসপোর্ট অফিসের দালাল চক্রের প্রধান ছোট মান্নান ও পটিয়ার সাইফুল ইসলাম তারা দালাল চক্রটিকে নিয়ন্ত্রন করে এরমধ্যে দালাল চত্রের সদস্যরা হলেন, বাবলা সরকার, কামরুল, পারভেজ, আজিজ, জামাল, জুয়েল, বড় নাসির, ছোট নাসির দালাল, ভাগিনা নামে পরিচিত শাহেদ, বাবু, উজ্জ্বল বাবু, সুবর্ণা মোস্তফা দিদার , বাঁশখালীর হেলাল, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের নাম ভাঙ্গিয়ে ভাতিজা পরিচয়ে আনোয়ার, বাঁশখালীর জহির, ইমরান। সাতকানিয়ার রফিক, এরশাদ, কক্সাবাজারের গিয়াস ও মেম্বার জনি। মোটা এসকান্দর, চন্দন বড়ুয়া, সোহেল  জুয়েলের ভাই, ট্রাভেল এজেন্সির নাম ভাঙ্গিয়ে ওসমান, বাঁশখালীর অলি উল্লাহ, বেলাল, মাস্টার শাহাব উদ্দীন, এরশাদ, আমান বাজারের শফি, ষোলকবহরের শাহিদসহ পেশাদার বিশাল এক দালাল চক্র। চক্রটি টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গা, সাজাপ্রাপ্তা পালাতক আসামি, দাগী আসামিদেরও সহজে পাসপোর্ট হাতে তুলে দিয়ে সহায়তা করে আসছে। সরেজমিনে গিয়ে দালাল চক্রের প্রধান সাইফুল ইসলামকে দেখা গেলেও সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত চলে আসে। মোবাইলে কথা বলতে চাইলে গত  ১ জুন দুপুরে যোগাযোগ করা হলে তার সাথে কথা বলতে হলে চকবাজার আসার অনুরোধ করেন, চকবাজার থেকে ফোন করা হলে চমেকে রয়েছে বলে জানান, তবে পাসপোর্ট অফিসে দালালীর কথা স্বীকার করে বলেন আগে করত এখন করে না, এখন উপ পরিচালক সবাইক নিয়ন্ত্রন করে বলে দাবি করেন। পাসপোর্ট অফিসের আনসার সদস্য খোকন এবং রিপনের সাথে একজন গ্রাহক সেজে শনিবার ৪ জুন প্রতিবেদক তাদের ব্যক্তিগত মোবাইলে পাসর্পোটের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা করে দিবেন এবং তাদের সাথে অফিস টাইমে দেখা করার অনুরোধ জানান। দালাল চক্রের মাধ্যমে পাসপোর্ট পাওয়া এবং টাকা নেয়ার বিষয়ে  পাসপোর্ট অফিসের উপ পরিচালক মাসুম হাসানের সাথে অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কয়েকজনকে চিনেন বলে স্বীকার করেন। ক্ষতিগ্রস্থ কেউ তার কাছে অভিযোগ না করলে দালাল এবং আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে তার কিছু করার নাই বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পাসপোর্ট অফিসের বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ আবু সাঈদ জানান, যদি কোন আবেদনে সন্দহ  লাগে আমরা যাচাই বাচাই করে পাসপোর্ট দিয়ে থাকি। অফিসের মধ্যে কোন দালাল চক্র ঢুকতে পারে বলে আমার মনে হয় না বাইরে কেউ লেনদেন করে থাকলে সেটা অন্য বিষয়, আমরা সাধারণ মানুষকে শতভাগ সেবা দিতে প্রস্তুত। যদি কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

এমএসএম / এমএসএম

২০ বছরের রাস্তা বন্ধ করতে ইটের প্রাচীর প্রতিবেশীর, ৭ টি পরিবার অবরুদ্ধ

অগ্রণী ব্যাংকের বাগেরহাটের কচুয়ায় ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণে ক্যাম্পেইন কর্মসুচী

লাকসামে মশার যন্ত্রনায় মানুষ অতিষ্ট

ধামরাইয়ে নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীতে দু‘টি সেতু নির্মাণে এলাকা পরিদর্শন করলেন প্রকল্পের পরিচালক

শরণখোলায় নিখোঁজের ৩ দিন পর শিশুর লাশ উদ্ধার

তেঁতুলিয়ায় দুই অভিযানে ৫৮ বস্তা সার জব্দ

রায়গঞ্জে অধিকারবঞ্চিত মানুষের পাশে চার দশকের বেশি সময়, নিজেরা করি’র ৪৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. আজিজুর রহমান শামীমের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮ গরু চুরি

বিমান মন্ত্রীর উপস্থিতিতে শেরপুরে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

গড়াই নদীতে বাড়ছে পানি,তলিয়ে গেছে বসতবাড়ি ও ফসল

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চত্বরে গরুর খামার, ছয় মাসেও জানেন না কর্তৃপক্ষ