বাম্পার ফলন-দামে খুশি পটল চাষিরা
কুড়িগ্রামের উলিপুরে পটলের বাম্পার ফলন-দামে খুশি চাষিরা। উপজেলায় সব ধরনের সবজির মধ্যে অন্যতম পটল। কৃষকরা ক্ষেত পরিচর্যা ও পটল তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারদর ভালো পাওয়ায় খুশি চাষিরা।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চৈত্র ও বৈশাখ মাস থেকে পটল উঠানো শুরু হয়। অনুকূল আবহওয়ায় চলতি মৌসুমে পটলের ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজারদর ভালো পাওয়ায় লাভবান হয়েছেন চাষিরা। প্রতি কেজি খুচরা বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৪০ টাকা। উলিপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের অনেক জমিতে পটল চাষ হয়েছে। কার্তিক মাসে জমিতে মাচা করে লাগানো পটলের সারি সারি ক্ষেত দেখলে কৃষকসহ সকলের মন ভরে ওঠে। মাচায় মাচায় ঝুলছে কৃষকের স্বপ্ন। রাস্তার দুপাশে যতদূর চোখ যায় পটলসহ সাথী ফসলের ক্ষেত। শুধু পটল নয়, একই মাচায় ঝুলছে চিচিংঙ্গা, ধুন্দল, করলাসহ নানা জাতের সাথী ফসল। উপজেলায় হাট বসে পৌরসভার ভিতরে কাচা সবজির আরোদে। সেখান থেকে পাইকাররা ভ্যান, রিকসা ও সাইকেল ভর্তি করে কিনে নিয়ে যান বিভিন্ন হাট-বাজারে।
উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়েনের টাপুরকুটি গ্রামের পটল চাষি আইয়ুব আলী বলেন, ধান কিংবা অন্য ফসলে ঝামেলা বেশি। তাই এবার মাচায় যে পটলের চাষ শুরু করছি। প্রথম অবস্থায় ৮ হাজার টাকার পটল বিক্রি করেছি। আরো অন্তত ২০ হাজার টাকার পটল বিক্রি করতে পারব মনে করি। তাতে খরচ বাদ দিয়ে আমার লাভ হবে অন্তত ৩০ হাজার টাকা।
উপজেলার থেতরাই ইনিয়নের সাতদরগাহ গ্রামের কৃষক আবু সাঈদ বলেন, আমার ৪ বিঘা ভাতি জমি আছে। তাতেই আমি সব মৌসুমে ধানের ফলন ফলাই। কিন্তু লাভের চেয়ে লোকসান বেশি হতো। কৃষি বিভাগের পরামর্শে এক বিঘা জমিতে পটল চাষ শুরু করি। তাতে করে আমার বাজারে কাঁচা বাজারের জন্য বাজার যেতে হতো না। এখন সেই জমি থেকে প্রতি সপ্তাহে আমি নদর টাকা পাই। তাই দিয়ে আমার ছেলে মেয়ের শিক্ষা খরচসহ সংসারে যাবোতি খরচ মিটায়ে যেতো। এখন শুধু আমার পারিবারে জন্য যে কয় মণ ধান লাগে তার জন্য ধানের আবাদ করি। তাছাড়া সব জমিতে এখন সবজি আবাদ শুরু করেছি। এখন আর দেনা করে সংসার চলাতে হয়না। এখন আমার হাতে নগদ টাকা থাকে সবসময়।
উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের উমানন্দ ক্বারিপাড়া গ্রামের পটল চাষি আফসার আলী বলেন, তিনি এবার তার ২ বিঘা জমিতে পটল চাষ করেছেন। পটল চাষে ঝামেলামুক্ত এবং অল্প খরচেই হয় বলে এ আবাদ বেশ লাভজনক। পটল মানেই নগদ টাকার আবাদ। লাভের অংশ বেশি হওয়ায় প্রতিবছরই কৃষকদের মাধ্যে পটল চাষের আগ্রহ বাড়ছে। আতিমাত্রায় বৃষ্টি বা বন্যা না হওয়ায় অপেক্ষাকৃত নিচু জমিতে পটল আবাদ হয়েছে। এক বিঘার জমি থেকে সপ্তাহে ৫ থেকে ৭ মণ পর্যন্ত পটলের উৎপাদন হচ্ছে। এছাড়াও পটলের মধ্য আদা, কাচা মরিচ, হলুদ, আদা, মুখিকচু আবাদ করছেন তারা। বিক্রি করেও নিজের চলে যায়।
উলিপুর কাচা বাজারে আরদের পটল ব্যাপারী আব্দুর রাজ্জাক মিয়া বলেন, ঢাকা থেকে পটল কিনতে আসে অনেকে। হাটবারে পটল কিনে রাতেই নিয়ে যাবেন। উৎপাদনের শুরুতেই বাজারে প্রতিমণ পাটল এক হাজার থেকে ১২শ’ টাকায় বিক্রি হলেও এখনো তা ৮শ থেকে ৬শ পঞ্চশ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আমরা কম লাভে আড়তে বিক্রি করি। কাঁচামালের ব্যবসা ভালো মন্দ দুই আছে। সে কারণে প্রতিদিন কিনি প্রতিদিন বেচি।
উলিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ও কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম জানান, এবার উপজেলায় ১২ হেক্টর পটলের চাষ হয়েছে। হেক্টর প্রতি ফলন ১০ থেকে ১৫ মেট্রিক টন। সরকার এ সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করলে পারলে এ চাষ আগামীতে আরো বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন চাষিরা।
এমএসএম / জামান
৩৫৮ কোটি টাকার লাগেজ ভ্যান নিয়ে বিপাকে রেল
শেরপুরের শ্রীবরদীতে ট্রাংকের ভিতর থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার
মহানবীকে কটূক্তির প্রতিবাদে রাণীশংকৈলে বিক্ষোভ-মিছিল
জয়পুরহাটে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
বগুড়ায় হামের উপসর্গে ১০ মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু
নেত্রকোণার সদর উপজেলায় ঝড় তুফানে বাড়িঘরসহ গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি
বাবুগঞ্জে অবৈধভাবে ডিজেল মজুদ: ব্যবসায়ীকে জরিমানা, তেল জব্দ
আত্রাইয়ে বেকারদের স্বাবলম্বী করতে সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন
মধুখালিতে চকলেট কিনতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে যমজ ২ শিশুর মৃত্যু
কুড়িগ্রামে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বৃক্ষ রোপণ কর্মসুচির উদ্বোধন
হোমনায় যুবককের কোমরে মিলল বিদেশী পিস্তল ও গুলি-ম্যাগাজিনসহ আটক
পবিপ্রবিতে ডিভিএম ডিগ্রি পুনর্বহালের দাবিতে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের সপ্তম দিনের মতো ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন