আইআইইউসি’র ১৫ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে
আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) এর ৫৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ভাতা থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম ও বোর্ডের ৯ সদস্যের বিরুদ্ধে। এমনকি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যয়, সরকার বিরোধী আন্দোলন ও নাশকতার কাজেও ব্যয় করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে।
এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা উল্ল্যেখ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূর্নীতি দমন কমিশনে সাবেক চেয়ারম্যান আ ন ম শামসুল ইসলাম সহ তার ৯ সহযোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন আইআইইউসি'র রেজিস্টার মোঃ শফিউর রহমান।
অভিযুক্তরা হলেন, আইআইইউসি'র বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এর সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর আহসান উল্লাহ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতে'র আমির মোহাম্মদ আমিরুজ্জামান , অধ্যাপক মোঃ আলী আজাদী, তৌফিকুর রহমান, প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগর জামায়েতের আমির ও কেন্দ্রীয় কমিটির এসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি মোঃ শাহজাহান প্রকাশ মৌলভী শাহজাহান, বিবিএ ডিপার্টমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক জাহেদ হোসেন ভূইয়া, সিনিয়র এসিসট্যান্ট ডাইরেক্টর অব পারসেইজ এন্ড প্রকিউরমেন্ট হাসানুল বান্না ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের সাবেক পি.এস মোহাম্মদ শফিউল আলম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আইআইইউসি'র
৫৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ভাতার প্রভিডেন্ট ফান্ডের ১৪ কোটি ৮৯ লক্ষ ৮৮ হাজার ৩শ ১৫ টাকা ব্যাংকে জমা না করে আত্মসাৎ করেন। যা ২০১৭ থেকে ২০২১ অর্থ বছরের দেখানো হিসাব মতে ও অডিট রিপোর্টে উদঘাটিত হয়।
অভিযোগে আরো বলা হয়, আইআইইউসি'র বিগত ১০ সেপ্টেম্বর ২০১২ থেকে ১ মার্চ ২০২১ পর্যন্ত তৎকালীন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আনম শামসুল ইসলাম, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য প্রফেসর আহসান উল্ল্যাহ ও প্রিন্সিপাল আমিরুজ্জামান ট্রাস্টি বোর্ড পরিচালনাকালে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও টাকার বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ছাত্র ভর্তি সহ নানান অনিয়ম করে আসছে।
শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে আ ন ম শামসুল ইসলাম তার মেয়ে আয়েশা সুমাইয়াকে (ইংরেজী বিভাগ) শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ ও তার ভাগিনা নোমানকে (বিবিএ ডিপার্টমেন্ট) শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার নূন্যতম যোগ্যতা না থাকা সত্বেও চট্টগ্রাম মহানগর জামায়েতের আমির ও কেন্দ্রীয় কমিটির এসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি
মোহাম্মদ শাহজানকে আইআইইউসি'তে অবৈধভাবে নিয়োগ ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য করা হয়। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ৩৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শফিকে ব্যাক্তিগত নামমাত্র পি,এস হিসেবে নিয়োগ দেন আ ন ম শামসুল ইসলাম। এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন দায়িত্ব পালন না করেও প্রতিমাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে বেতন ভাতা উত্তোলন করেন। এছাড়াও প্রফেসর আহসান উল্ল্যাহ তার ছেলে হাসানুল বান্নাকে সিনিয়র এসিসট্যান্ট ডাইরেক্টর অব পারসেইজ এন্ড প্রকিউরমেন্ট পদে নিয়োগ দেন। এভাবে তার নিজস্ব বলয় তৈরী করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে বিভিন্ন খাত তৈরী করে প্রচুর পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেন তারা। যা অডিট রিপোর্টে স্পষ্ট।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জায়গায় কুমিরা ও বহদ্দারহাটে বহুতল ভবন থাকা স্বত্তেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা নিয়ে চকবাজার প্যারেড কর্ণারে ২৫৫১ বর্গফুটের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে জঙ্গী সংগঠনের অফিস হিসেবে ব্যাবহার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের "ফিমেল একাডেমিক ক্যাম্পাস" নির্মানে ব্যাপক অনিয়ম। বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করে পরবর্তীতে চিটাগং ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ নামকরন করা হলে উক্ত হসপিটালে ব্যায়কৃত টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে ফেরত না দিয়ে আত্মসাৎ করেন তৎকালীন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও কতিপয় সদস্যরা।
আইআইইউসি'র তৎকালিন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অচল অবস্থা ও ধ্বংসের মুখে পতিত হলে সরকার উক্ত বোর্ডকে অবৈধ ঘোষণা করেন। আ ন ম শামসুল ইসলাম, প্রফেসার আহসান উল্ল্যাহ ও মোহাম্মদ আমিরুজ্জামানকে বাদ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সদস্যগণের ওয়ারিশদের সমন্বয়ে গত ১৩ জানুয়ারি ২০২১ সালে ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী'কে বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এর চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন।
এরপর আর্থিক তছরুপের বিষয়ে 'হক ভট্টাচার্যী দাস এন্ড চাটার্ড একাউন্টস'কে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ অডিট রিপোর্ট প্রদানের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। রিপোর্টের উদঘাটিত তথ্যমতে ২০১৭-২০২১ সাল পর্যন্ত চার বছরের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়। তার মধ্যে তৎকালীন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আ ন ম শামসুল ইসলাম, বোর্ডের সদস্য প্রফেসর আহসান উল্লাহ ও মোহাম্মদ আমিরুজ্জামানসহ অন্যান্য সদস্যরা মিলে আইআইইউসি'র ৫৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা একাউন্টে জমা না করে অবৈধভাবে জার্নাল ভাউচারের মাধ্যমে ১৪ কোটি ৮৯ লক্ষ ৮৮ হাজার ৩শ ১৫ টাকা আত্মসাৎ করেন। যা অডিট রিপোর্টে উঠে আসে।
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আ ন ম শামসুল ইসলাম তার নির্বাচনে খরচ করার জন্য কোন নমুনা ভাউচার ও ফিন্যান্স কমিটির মিটিং এর অনুমতি ছাড়া ৬৩ লাখ টাকা, প্রফেসর আহসান উল্ল্যাহর মাধ্যমে ৭০ লাখ টাকা, মাহবুবুর রহমানের মাধ্যমে ৭০ লাখ টাকা এবং তার পি.এস শফিকের মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, অডিট ও গঠিত তদন্ত কমিটি অনিয়ম ও দুর্নীতির সত্যতা পাওয়ায় আইআইইসি'র রেজিস্ট্রার শফিউর রহমান বাদী হয়ে গত ২০ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে অভযোগ দায়ের করেন।
রেজিস্ট্রার শফিউ রহমান বলেন, আইআইিউসি'র ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আ ন ম শামসুল ইসলাম ও ট্রাস্টি বোর্ডের ৯ সদস্য দূর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। যা প্রাথমিক তদন্ত ও অডিট রিপোর্টে সত্যতা পাওয়া গেছে। তাদের জালিয়াতির বিভিন্ন দালিলিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। যার সূত্র ধরে আমি দুদক ও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য অভিযোগ দায়ের করেছি।
আইআইইউসি'র ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান কাজী দিন মোহাম্মদ বলেন, অডিট এবং গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে ১০ জনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শফিউর রহমান দুদক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছে। যেহেতু সব কিছুর দালিলিক প্রমাণ রয়েছে, আশা করি অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যাবস্থা নিবে দুদক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইআইইউসি'র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম ১৪ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী বলেন, শুধু নির্দিষ্ট একটি খাতের ১৫ কোটি টাকার অনিয়ম নয়। আ ন ম শামসুল ইসলাম নেতৃত্বে ৫০০ কোটি টাকার বেশি দুর্নীতি হয়েছে। যা আমি দালিলিকভাবে প্রমাণ করতে পারব। আ ন ম শামসুল ইসলাম তার নির্বাচনী ব্যায়, কর্মীদের খরচ এবং সরকার বিরোধী আন্দোলনের নামে নাশকতার জন্যও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে কোটি কোটি টাকা খরচ করছেন।
তিনি আরো বলেন, দুঃখের বিষয় হলেও সত্য শিক্ষা মন্ত্রীর সুপারিশে দালিলিক সব প্রমাণ দিয়ে দুদকে অভিযোগ করার পরেও রহস্যজনক কারনে দুদক এখনো ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আ ন ম শামসুল ইসলাম ও জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নেয়নি। এবার আমি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য জাতীয় সংসদে বিষয়টি উপস্থাপন করব। সাংবিকরাও জাতির বিবেক হিসেবে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।
এমএসএম / এমএসএম
রাজস্থলীতে ভূমি অধিগ্রহনের খতিগ্রস্থ দের মাঝে ৬জনকে চেক বিতরণ
মাসুদ রানা দরিদ্রদের বিনামূল্যে দিলেন ৪০ টি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান
কুড়িপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ , নেতৃত্বে তহসিলদার মফিজুল
হাতিয়ায় একটি পরিবারে মা মানসিক রোগী ও ছেলে জন্মগত প্রতিবন্ধী হওয়ায় চলছে তাদের দুর্বিষহ জীবন
খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় কুমিল্লায় দোয়া মোনাজাত
বাংলাদেশ রেলওয়ে: ঘুষ ছাড়া স্বাক্ষর করেন না ডিআরএম
রাজস্থলীতে ভূমি অধিগ্রহনের খতিগ্রস্থ দের মাঝে ৬জনকে চেক বিতরণ
সোনাগাজীতে অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগে দুই ব্যাক্তির সাজা
কুমিল্লায় ধর্মরক্ষিত মহাথের’র ৫ম মৃত্যু বার্ষিকীতে স্মরণ সভা ও কনকস্তূপ বৌদ্ধ বিহার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
অবৈধ কয়লা উৎপাদনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৭৪টি চুল্লি
শীতে কাঁপছে দেশ" বীজতলা নিয়ে শঙ্কায় কৃষক
বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের আবেদন করলেন দলের আরেক প্রার্থী!