রাঙ্গুনিয়ায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে ২ কৃষকের মৃত্যু
বন্যহাতির অব্যাহত তাণ্ডবে চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ের পাশ্ববর্তী কমপক্ষে ৪ টি ইউনিয়নে বন্য হাতির আতংক বিরাজ করছে। হাতির আক্রমণে জানমাল বাঁচাতে প্রায় ৪ টি ইউনিয়নের একাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ আতংকে র্নিঘুম রাত কাটাচ্ছেন। পাহাড়ের পাশ্ববর্তী এলাকাগুলোতে কিছুতেই যেন এ আতংক কাটছে না। এসব এলাকায় কোন না কোন স্থানে প্রায় প্রতি রাতেই বন্যহাতি তাণ্ডব চালায়। দীর্ঘদিনের হাতিযুদ্ধে মানুষ মারা যাচ্ছে ও পঙ্গু হচ্ছে। বিগত এক সপ্তাহে হাতির আক্রমণে ২ জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তাই জীববৈচিত্র রক্ষা ও জানমাল বাঁচাতে অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়বে বলে স্থানীয়রা জানান।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, প্রায় দুই যুগ সময় ধরে পাহাড়ের শতাধিক বন্যহাতির পাল কয়েকটি উপদলে বিভক্ত হয়ে লোকালয়ে হামলা চালাচ্ছে। মাঝে মধ্যেই হাতির এ তাণ্ডবে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শত শত একর জমির মৌসুমি ফসল। লণ্ডভণ্ড করেছে বেশকিছু ঘরবাড়ি। তছনছ করছে বন বাগানের বিপুল পরিমাণের গাছপালা। হাতির হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পাহাড়ের গ্রামীণ জীবন। তাদের জীবন এখন হুমকির মুখে। এসকল গ্রামের লোকজন বন্যহাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে রাতের বেলায় গ্রামবাসী আগুন জালিয়ে হৈ-হুল্লোড় করে। বাঁশ দিয়ে পটকা বানিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে ও মশাল জ্বালিয়ে হাতি তাড়ানো চেষ্টা করে আসছে। দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা, শিলক, কোদালা ও পদুয়া ইউনিয়নের একাধিক গ্রামে বাঙালী, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ, হিন্দুসহ বিভিন্ন গোত্র মিলে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করছে।
বেপরোয়া বন্য হাতি দল বেধে সমতল ভূমিতে চলাফেরা ও আহার করতে সহজ মনে করে থাকে। তাই সময় অসময়ে হাতির পাল দল বেধে ওইসব লোকালয়ে চলে আসে। পাহাড়ে বসবাসরতদের বাড়িঘর, ফসলাদির জমি ও বিভিন্ন বাগানে প্রবেশ করে ধ্বংসলীলা চালায়। এসব বন্যহাতির তাণ্ডবলীলায় পাহাড়ি গ্রামগুলোতে অসংখ্য ঘরবাড়ি ফসলের মাঠ বিধ্বস্ত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাহাড়ি এলাকার মানুষ পাহাড় থেকে লাকড়ি সংগ্রহ করে এবং পাহাড়ের পাদদেশে চাষাবাদ করে কোনরকম জীবিকা নির্বাহ করেন। এর ওপর প্রায় বন্যহাতির আক্রমনে দিশেহারা করে দিয়েছে তাদের। হাতির আতঙ্কে এমনিতেই হাজার হাজার একর জমি পতিত থাকছে। ঝুঁকি নিয়ে চাষাবাদ করলেও সে ফসল তারা ঘরে তুলতে পারছে না। ফলে পাহাড়ি জনপদের মানুষগুলো হাতির সাথে যুদ্ধ করে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
পদুয়া ইউনিয়নের হাসমত উল্লাহ জানান, বন্যহাতি ঢাকঢোল পটকা ও আগুনকে ভয় পায়। তাই এলাকাবাসী মশাল ও বন থেকে কুড়িয়ে আনা আবর্জনা জ্বালিয়ে হৈ-হুল্লোড় করে বাঁশ দিয়ে পটকা বানিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে ও মশাল জ্বালিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করে। অনেক সময় বাঁধা না পেলে হাতির দল গ্রামে প্রবেশ করে জানমালের ক্ষতিসাধন করে থাকে।
শিলক ইউনিয়নের বাসিন্দা আহমেদ কবির বলেন, ক্ষুধার্ত হলেই খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসে হাতির দল। যখন বসতবাড়িতে তাণ্ডব চালায় আর তখনই কেউ না কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
চলতি বছরের ২৬ জুন শাহ আলম(৫৫) নামে এক কৃষক হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে নিহত হন, ২ জুলাই আবদুল আজিজ (৬৫) নামে আরেক কৃষক কৃষি জমি থেকে ফেরার পথে হাতির আক্রমণে মৃত্যুবরণ করেন। এবং প্রতি বছরেই হাতির আক্রমণে আহত হয়েছে শতাধিক মানুষ।
এ বিষয়ে বনবিভাগের রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মসুম কবির বলেন, বন্যহাতির তাণ্ডব থেকে মানুষ ও হাতিকে বাঁচাতে ইতোমধ্যেই সরকার পাহাড়ে অভয়ারণ্য সৃষ্টি ও ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপুরনে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহন করেছে। এরই অংশ হিসেবে বন্যহাতির আক্রমনে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরফভাটা ইউনিয়ন পরিষদে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্য হাতির দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ৭ পরিবারকে ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকার অনুদান দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া শান্তিপুর্ণ সহাবস্থানে মানুষ ও বন্যহাতির দ্বন্ধ নিরসনে পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মশালা পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতাউল গনি ওসমানী বলেন, হাতি ও মানুষের দ্বন্ধ নিরসনে বন বিভাগের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন ও কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয়দের এ বিষয়ে বিভিন্নভাবে সতর্ক করা হচ্ছে। পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারীরা পাহাড়ের গাছপালা কেটে সাবাড় করে নেওয়ার কারণেই বন্য হাতি আহার খুঁজতে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। বন্যহাতির তাণ্ডব থেকে মানুষ ও হাতিকে বাঁচাতে সরকার অভয়ারণ্য সৃষ্টি ও ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপুরনে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহন করেছে। তিনি আরও বলেন, হাতির আক্রমণে যারা মৃত্যুবরণ করছে তাদের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ৩ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ হিসেবে অনুদান দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) ১১ টি ও আজকে ৭ টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে মোট ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
এমএসএম / এমএসএম
রাজস্থলীতে ভূমি অধিগ্রহনের খতিগ্রস্থ দের মাঝে ৬জনকে চেক বিতরণ
মাসুদ রানা দরিদ্রদের বিনামূল্যে দিলেন ৪০ টি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান
কুড়িপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ , নেতৃত্বে তহসিলদার মফিজুল
হাতিয়ায় একটি পরিবারে মা মানসিক রোগী ও ছেলে জন্মগত প্রতিবন্ধী হওয়ায় চলছে তাদের দুর্বিষহ জীবন
খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় কুমিল্লায় দোয়া মোনাজাত
বাংলাদেশ রেলওয়ে: ঘুষ ছাড়া স্বাক্ষর করেন না ডিআরএম
রাজস্থলীতে ভূমি অধিগ্রহনের খতিগ্রস্থ দের মাঝে ৬জনকে চেক বিতরণ
সোনাগাজীতে অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগে দুই ব্যাক্তির সাজা
কুমিল্লায় ধর্মরক্ষিত মহাথের’র ৫ম মৃত্যু বার্ষিকীতে স্মরণ সভা ও কনকস্তূপ বৌদ্ধ বিহার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
অবৈধ কয়লা উৎপাদনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৭৪টি চুল্লি
শীতে কাঁপছে দেশ" বীজতলা নিয়ে শঙ্কায় কৃষক
বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের আবেদন করলেন দলের আরেক প্রার্থী!