বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচলে ক্রেডিট আলোচনায় তুঙ্গে কালুরঘাট নতুন সেতু
দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের গণদাবী-ও জনভোগান্তির পর বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আবারো কালুরঘাট সেতুর নতুন নকশা প্রদর্শন করার পর ক্রেডিট কুড়ানোর প্রতিযোগীতায় ও আলোচনা-সমালোচনায় পাড়া মহল্লায় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সরব হয়ে উঠেছে। এটিকে নির্বাচনী মুলা ঝুলানো হিসেবে বিবেচনা করছেন অনেকে। এই সেতুর দাবীতে ইতিপূর্বে দীর্ঘ আন্দোলন ও গনদাবীর মুখে বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন মন্ত্রী এম.পি. বেশ কয়েকবার কালুরঘাট নতুন সেতু নির্মানের ঘোষণা দেওয়ার পরও বাস্তবায়ন না হওয়ায় সাধারণ জনগণ বিশ্বাস করতে চাইছে না দ্রুততম সময়ে কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার এই সেতু নির্মানের ঘোষণা দেওয়ার পরও বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভে দুঃখে এই এলাকার প্রয়াত সাংসদ মঈন উদ্দীন খান বাদল জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে পদত্যাগেরও ঘোষণা দিয়েছিলেন। এরপর অক্টোবর মাসে চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার ইনিস্টিউটে একটি গণমাধ্যমের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কালুরঘাট সেতু নির্মানের ঘোষনা দিয়ে বলেন "বাদলকে পদত্যাগ করতে হবে না মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে বলতে বলেছেন উচ্চতা জটিলতার কারনে আটকে থাকা কালুরঘাট সেতু দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
পরে সাংসদ মঈন উদ্দীন খান বাদল ২০১৯ সালে ৭ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করলে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রয়াত নেতা আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর মৃত্যু বার্ষিকীতে এসে ঘোষণা দেন, বাদলের সপ্নের সেতু দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি কারণে থমকে যাওয়ায় এই প্রকল্প নিয়ে বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের দোলাচালে এবার আবারো আলোচনার তুঙ্গে চট্টগ্রামের কালুরঘাট নতুন সেতু প্রকল্প।
গত ২৭ মে রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. হুমায়ুন কবির কালুরঘাট সেতু পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানায় কালুরঘাট নতুন সেতু প্রকল্পের নকশা চুড়ান্ত হয়েছে। দ্রুতই এই সেতুর কাজ শুরু হবে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি আরো আগে হওয়ার কথা ছিল কিন্তু উচ্চতা জটিলতার কারণে বিআইডব্লিউটিএর আপত্তি থাকায় ২০১৮ সালে একনেক সভা থেকে অধিকতর সমীক্ষার জন্য ফেরত এসেছিল। এবার নতুন অথাৎ (১২.৬ মিটার) উচ্চতায় ২০২৩ সালে সেতুর কাজ উদ্বোধন কথা জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, ঢাকা থেকে সরাসরি ট্রেন কক্সবাজার যেতে হলে কালুরঘাটে নতুন সেতু করার বিকল্প নেই। সুতরাং দ্রুততম সময়ে কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন করা হবে।
এর পর ৬ জুন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেন রেল ভবনে এই প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরে সাংবাদিকদের জানান, পদ্মা সেতুর আদলেই হবে কালুরঘাট নতুন সেতু। ৬ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৮০ মিটার দৈর্ঘ্যের মুল সেতুসহ নদীর বাইরে স্থলপথে থাকবে ৫ দশমিক ৬২ কিলোমিটার। আটটি পিলারের উপর ১০০ মিটারের ৮ টি স্প্যানে হবে এই নতুন সেতু। কোরিয়ার ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) সহজ শর্তে পুরো টাকা বাংলাদেশ সরকারকে ঋণ হিসেবে দিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফোকাল পারসন রেলওয়ের কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা।
এ নিয়ে চট্টগ্রাম ৮ আসনের সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দীন আহমেদও বলেন সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর (২০২৩ সালে) মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে এই সেতু নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হবে।
এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা, নানা জনের নানা ধরনের প্রচারণা , কেউ আবার পোস্টার ছাপিয়ে দাবী করছে দ্রুত সময়ে কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন করার, কেউ নিজ নিজ নেতার ছবি দিয়ে পোস্টার সাঁটিয়ে চালাচ্ছেন প্রচারণা। এসব দেখে অনেকে মন্তব্য করছেন- " কাজের সময় দেখা নেই এখন সামনে এসে হলুদ- মরিচ হাতে মেখে রাঁধুনি সাঁজতে চাইছে সবাই।
কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন পরিষদের ব্যানারে দীর্ঘ ১ যুগ ধরে এই সেতু নির্মাণের দাবী আন্দোলন করে যাচ্ছিলো একটি সংগঠন, এই সংগঠনের যুগ্ম সদস্য সচিব আলমগীর মোরশেদ বাবু ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন--" বোয়ালখালী-কালুরঘাট" অংশে নতুন সেতুর কাজ যখন আসন্ন, তখন অনেক নতুন মুখই দেখছি ঘুম থেকে জেগে উঠেছেন সবেমাত্র? যাদের অস্তিত্ব দীর্ঘদিনের আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত কোনসময়ই ছিলনা। সুতরাং "সাধু-সাবধান" - এই সেতু কিন্তু দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল !!!
তিনি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রয়াত সাংসদ মঈন উদ্দিন খাঁন বাদল ও বর্তমান সাংসদ মোসলেম উদ্দিন আহমদের প্রতি।
এসব দাবী মানতে নারাজ বর্তমান সাংসদের অনুসারী নেতা কর্মীরা। তারা কাউকে ক্রেডিট দিতে চাননা। তাদের দাবী সাংসদ মোছলেম উদ্দীন আহমেদ এর বলিষ্ঠ ভূমিকায় এই সেতু বাস্তবায়ন হচ্ছে। তারা সাংসদের ছবি দিয়ে পোস্টার বানিয়ে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।
আবার চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম এর ব্যানারে এই সেতু দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নের দাবীতে লাগানো পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে বেশ কিছু জায়গায়। এই সংগঠনের মহাসচিব কামাল উদ্দিন বলেন একটি পক্ষ হিংসার বশবতী হয়ে আমাদের লাগানো পোস্টারগুলো ছিঁড়ে ফেলেছে।
এদিকে প্রয়াত সাংসদ মঈন উদ্দীন খান বাদলের অনুসারীরা দাবী করেন বাদলের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফসল হিসেবে আজকের কালুরঘাট সেতু প্রকল্প।
এ প্রসঙ্গে বাদলের সহধর্মিণী সেলিনা খান বাদল বলেন, আমার স্বামী প্রয়াত সাংসদ মঈন উদ্দীন খান বাদল জাতীয় সংসদে সর্বপ্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে কালুরঘাট সেতু নির্মানের দাবী তোলেন, এরপর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সংসদে ও রাজপথে সমানভাবে এই সেতুর জন্য কাজ করে গেছেন, সাংসদ থাকাকালীন সময়ে এই সেতু নির্মানের দাবীতে দক্ষিণ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাথে অনশনেও অংশ গ্রহন করছিলেন। তিনি জনগণের দূর্দশা লাঘবে এই সেতু নির্মান প্রকল্প চুড়ান্তভাবে গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এমএসএম / এমএসএম
রাজস্থলীতে ভূমি অধিগ্রহনের খতিগ্রস্থ দের মাঝে ৬জনকে চেক বিতরণ
মাসুদ রানা দরিদ্রদের বিনামূল্যে দিলেন ৪০ টি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান
কুড়িপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ , নেতৃত্বে তহসিলদার মফিজুল
হাতিয়ায় একটি পরিবারে মা মানসিক রোগী ও ছেলে জন্মগত প্রতিবন্ধী হওয়ায় চলছে তাদের দুর্বিষহ জীবন
খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় কুমিল্লায় দোয়া মোনাজাত
বাংলাদেশ রেলওয়ে: ঘুষ ছাড়া স্বাক্ষর করেন না ডিআরএম
রাজস্থলীতে ভূমি অধিগ্রহনের খতিগ্রস্থ দের মাঝে ৬জনকে চেক বিতরণ
সোনাগাজীতে অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগে দুই ব্যাক্তির সাজা
কুমিল্লায় ধর্মরক্ষিত মহাথের’র ৫ম মৃত্যু বার্ষিকীতে স্মরণ সভা ও কনকস্তূপ বৌদ্ধ বিহার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
অবৈধ কয়লা উৎপাদনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৭৪টি চুল্লি
শীতে কাঁপছে দেশ" বীজতলা নিয়ে শঙ্কায় কৃষক
বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের আবেদন করলেন দলের আরেক প্রার্থী!