ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে পরিবর্তন আসছে কুয়াকাটায়


সাঈদ ইব্রাহিম,পটুয়াখালী photo সাঈদ ইব্রাহিম,পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ১৪-৭-২০২২ বিকাল ৫:৪৮

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় রেকর্ড সংখ্যক পর্যটকের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।প্রতিবারের চেয়ে এবার কুয়াকাটা সৈকতে পর্যটকদের আগমন বেশি হয়েছে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। গত (২৫ জুন) পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে পরিবর্তন আসছে কুয়াকাটায়। কুয়াকাটা এখন অন্যান্য পর্যটক স্থানকে হার মানিয়ে দেশের বৃহত্তম পর্যটক স্থান হিসেবে নাম লিখতে প্রস্তুত।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সাগরের নীল জলরাশি আর ঢেউয়ের গর্জন ও প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য যেন পর্যটকদের মন কেড়ে নিয়েছে। এছাড়াও শামুক-ঝিনুক ও বার্মিজ আচারের দোকানসহ বিপণিবিতানগুলো রয়েছে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়।এদিকে কুয়াকাটার দর্শনীয় স্থান কুয়াকাটার কুয়া, নারিকেল কুঞ্জ, ইকোপার্ক, জাতীয় উদ্যান, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহার, সীমা বৌদ্ধবিহার, সুন্দরবনের পূর্বাঞ্চল খ্যাত ফাতরার বনাঞ্চল, গঙ্গামতি, লাল কাকড়ার বিচ, ঝিনুক বিচ, কাউয়ারচর, লেম্বুরচর, ইলিশ পার্ক, তিন নদীর মোহনা, শুঁটকি পল্লীসহ সৈকতের জিরোপয়েন্ট থেকে পূর্ব ও পশ্চিমে মনোমুগ্ধকর বেলাভূমি, একাধিক নয়নাভিরাম লেক, সংরক্ষিত বনায়নসহ বিভিন্ন পয়েন্ট রয়েছে পর্যটকের উচ্ছাসিত উপস্থিতি। থেমে নেই সৈকতে ফটোগ্রাফারদের ছবি তোলা ও ঘোঁড়ার দৌড়। 

কুয়াকাটার হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ দৈনিক সকালের সময়কে বলেন, এবার ঈদুল আজহার ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটকের চাপ বেশি হবে। ঝিমিয়ে পড়া পর্যটন কেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যও চাঙা হবে। হোটেল-মোটেলের বুকিং দেখে তাই মনে হচ্ছে। এখন প্রর্যন্ত ৯০ শতাংশ হোটেল-মোটেল বুকিং হয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হয়ে যাওয়ায় পর্যটকদের চাপ বেশি হওয়ার একমাত্র কারণ বলে তিনি জানান।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুম্মান ইমতিয়াজ বলেন, এক সময় ঢাকা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ১২ থেকে ১৪টি ফেরি সার্ভিস ছিল। সে কারণে কুয়াকাটায় পৌঁছাতে ২৪ থেকে ২৫ ঘণ্টা সময় লাগত। সর্বশেষ ভোগান্তি ছিল মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টের ফেরি। এখন সেখানে পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে। এতে দখিনের দুয়ার খুলে গেছে। এতে মাত্র ছয় ঘণ্টায় কুয়াকাটায় পৌঁছানো যায়। এ কারণে কুয়াকাটায় এবার অন্য বছরগুলোর চেয়ে পর্যটক বেশি, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের বালুচরে ছাতা-বেঞ্চে লোক বসিয়ে সংসার চালান নূর হোসেন বলেন, 'ঈদের ছুটিতে ভালোই মানুষ আইতে শুরু করছে। এবার অন্য অন্য বছরের চেয়ে কুয়াকাটায় পর্যটকের সংখ্যা বেশি। এখন আর আমাগো কোন চিন্তা নাই আগের ক্ষতি আমরা কাডাইয়া উঠতে পারমু'।

সৈকতে ঘুরতে আসা পারভেজ নামের এক যুবক জানান, ঢাকা থেকে ১৩ ঘণ্টার পথ ৬ ঘণ্টার কুয়াকাটায় আসতে পেরে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে কুয়াকাটায়ই এখন ভ্রমণের সবচেয়ে সুবিধার স্থান।

কুয়াকাটায় আচার বিক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, এবার ঈদের ছুটিতে ব্যবসা ভালো। গত ঈদের চেয়ে এবার ঈদে বেচা বিক্রি ভালো। এখন প্রতিদিন ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা লাভ হয়।

সৈকতে শামুক-ঝিনুক বিক্রেতা নোমান আহমেদ বলেন, 'আমরা কুয়াকাটার ব্যবসায়ীরা সব সময় ক্ষতির শিকার হয়েছি। গত দুই বছরের করোনাকাল, একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ব্যবসায়িক মন্দা ছিল। এবার আমরা ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি। আর তার অন্যতম কারণ হলো পদ্মা সেতু। এখন ঢাকাসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষ অতি সহজেই কুয়াকাটায় চলে আসতে পারবে'।

কুয়াকাটায় বেরাতে আশা পর্যটক  স্কুল শিক্ষিকা মুক্তা বলেন, আমরা ঈদের ছুটিতে এক সপ্তার জন্য বেরাতে আসছি। গত দুই বছর আগে বেরাতে আসছিলাম ১৫ থেকে ১৬ ঘন্টা জার্নির পর খুব ক্লান্ত হয়ে পড়তাম। তখন আর ঘোরার মত মানুষিকতা থাকতো না। পদ্মা সেতু চালু হবার পর এখন মাত্র ৬ ঘন্টায় ঢাকা থেকে কুয়াকাটা মাজাই আলাদা।

কুয়াকাটার পূর্ব ও পশ্চিম পাশে রয়েছে ফিশ ফ্রাই করে বিক্রি করার দোকান। এখানকার ফিশ ফ্রাইয়ের দোকানিরাও ভালো বিক্রির আশায় নানা ধরনের মাছ কিনে ফ্রিজে মজুত করে রেখেছেন। ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, পর্যটকের অনেকেই টুনা ফিশ পছন্দ করেন। এ জন্য কমবেশি টুনা ফিশ অনেকেই সংগ্রহ করে রেখেছেন। এ ছাড়া কাঁকড়া, কোরাল, চিংড়ি, লবস্টার, রুপচাঁদাও কিনে রাখা হয়েছে।

কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম বাচ্চু বলেন, 'সাগরের জলরাশিতে বেড়ানোর জন্য লাইফবোট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে স্পিডবোট, ওয়াটার বাইক। যে যেটা পছন্দ করেন, তিনি সেটাতে উঠে ঘুরছে। আমরা কুয়াকাটার নিকটবর্তী লেম্বুর চর, ফাতরার চর, গঙ্গামতী, আশার চরে পর্যটকদের যাতায়াতের জন ব্যবস্থা আছে। কেউ যদি চর বিজয় ভ্রমণ করতে চান, সে ব্যবস্থাও রয়েছে আমাদের।

কুয়াকাটা পর্যটন পুলিশের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ দৈনিক সকালের সময়কে জানান, 'ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় পর্যটকদের সংখ্যা বাড়েছে, এটা আমরাও মনে করছি। সবার নিরাপত্তা দিতে আমরা তৎপর রয়েছি। পর্যটন পুলিশের বেশ কয়েকটি দল এ জন্য প্রস্তুত রয়েছে। পর্যটকেদের যাঁরা এসে গোসল করার জন্য সাগরের পানিতে নামবেন, যাতে কোনো দুর্ঘটনায় কেউ না পড়েন, সে জন্য তাঁদের সতর্ক করতে পর্যটন পুলিশের আলাদা দল তৎপর থাকবে'।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ দৈনিক সকালের সময়কে জানান, অতিরিক্ত পর্যটক হওয়ায় নিরাপত্তাও বাড়াতে হয়েছে আমাদের। প্রতিটি পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, গাড়ি পার্কিং, গোসলে সতর্কতা, মাইকিং, হারিয়ে গেলে খুঁজে দেয়াসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আমরা তৎপর রয়েছি।

এমএসএম / এমএসএম

বিলাইছড়িতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

ঝিনাইদহে সার ডিলারশিপ নিয়োগে সীমাহীন দুর্নীতি

সুবর্ণচরে ভূয়া চিকিৎসক রাসেলের অপচিকিৎসায় প্রাণ হারাতে বসেছে ১ শিশু

শিবগঞ্জে কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

তারাগঞ্জে মাদক সেবনের দায়ে ৪ জনের কারাদণ্ড

মধুখালীতে কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে রেলি ও আলোচনা সভা

কুড়িগ্রামে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, নিয়োজিত ১ হাজার ৭১ কর্মী

বকশীগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর ঝোপে নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

নরসিংদীতে সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত মাদক মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

তেঁতুলিয়ায় ১০ কেজির বার্মিজ অজগর উদ্ধার

কামরুজ্জামান সিকদার কামালকে নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদ, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কথা বলার আহ্বান

জয়পুরহাটে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে জেলা বিএনপির মতবিনিময়

রাজারহাটে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত