স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েলের দুর্নীতি
আত্মসাৎকৃত ৩১৬ কোটি টাকা আদায়ে উদাসীন কর্তৃপক্ষ
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) অংশীদারি প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কো¤পানি লিমিটেডে (এসএওসিএল) অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে ৩১৬ বোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। আর এই টাকা উদ্ধারে তেমন কোন ভূমিকা রাখছেনা কর্তৃপক্ষ। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি মামলা করলেও মুলহোতাদের নাম নেই আসামীর ঘরে। আত্মসাতকৃত টাকা আদায়ে বোর্ড সভায় কোম্পানীর পক্ষ থেকে মামলা করার সিদ্ধান্ত হওয়ার ১০ মাস হলেও এখনো কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
জানা গেছে এসএওসিএল সরকারি অংশীদারি প্রতিষ্ঠান হলেও সাবেক মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহেদ এটিকে পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। তার খালাতো ভাই মো. মাহমুদুল হক ও ফুপাতো ভাই মঈন উদ্দিন মিলে প্রতিষ্ঠানটির ৩১৬ কোটি টাকা লুট করেছেন।
এছাড়া ২৮ লাখ টাকায় কেনা দুটি লিফট ব্যবহৃত হচ্ছে নগরীর খুলশী থানার ন্যাশনাল পলিটেকনিক কলেজে। বিটুমিন বিক্রীর দুই কোটি ৮৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা দুই বছরেও আদায় হয়নি।
ফুপাতো-খালাতো ভাই মিলে ৩১৬ কোটি টাকা লোপাট:
সরকারের অর্ধেক মালিকানার তেল কো¤পানি এসএওসিলের ৩১৬ কোটি টাকার মধ্যে সাবেক মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহেদ ১৫০ কোটি টাকা, হিসাব বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ মাহমুদুল ২১ কোটি এবং মঈন উদ্দিন আহমেদ আত্নসাৎ করেছেন ১৪৬ কোটি টাকা।
২০২০ সালের আগস্টে শাহেদ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত বছরের মার্চে মঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে ৩৮ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে মামলা করে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির অংশীদার মিশু মিনহাজ ২০২০ সালের ১৫ জুলাই রাজধানীর পল্টন থানায় মঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে ১৪৬ কোটি টাকা আত্নসাতের অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১০ সাল থেকে তিন বছরে এসএওসিএল থেকে অগ্রিম হিসেবে মঈন নিয়েছেন ৫৩ কোটি টাকা। ওই অর্থ ফেরত দেননি। ২০১৫ থেকে তিন বছরের মধ্যে মঈন উদ্দিনের নিজের কো¤পানি পিরামিড এক্সিম পাওয়ারের নামে চেকের মাধ্যমে সরিয়েছেন ৪৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। আবার ২০১১ সাল থেকে পরের এক বছরে এসএওসিলের ৪৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি টাকা কো¤পানির হিসাবে জমা না দিয়ে আত্নসাৎ করেছেন মঈন উদ্দিন। কিন্তু মাহমুদুল হকের বিরুদ্ধে কোনো মামলাই হয়নি।
মাহমুদুলের বিরুদ্ধে ২১ কোটি টাকা আত্নসাতের অভিযোগ:
শাহেদ তার কাছের অনেক আত্নীয়কে নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়াই এসএওসিএলে চাকরি দিয়েছেন। এদের একজন তার খালাত ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হক। শাহেদের প্রভাবে অল্প সময়ে পদোন্নতি পেয়ে হয়ে যান উপ-ব্যবস্থাপক। এখন তিনি প্রতিষ্ঠানটির হিসাব বিভাগের প্রধান। খালাত ভাই শাহেদ মারা যাওয়ার পর ভাইয়ের মতো একই কৌশলে সহকর্মী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া ভাউচার বানিয়ে ২১ কোটি টাকা তুলে নেন মাহমুদুল হক।
প্রতিষ্ঠানটির জুনিয়র সেলস অফিসার মো. শাহাদত হোসেন জানান, গত ১ জুন প্রতিষ্ঠানটির এনআরবি ব্যাংক থেকে একটি চেকের মাধ্যমে তার নামে ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা নগদ তুলে নেন মাহমুদুল হক। কিন্তু এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। চেক দিয়ে এত অংকের টাকা আমি তুলিনি।
একইভাবে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় কর্মকর্তা সুলতানা আক্তার চৌধুরীর নামে ২০২০ সালের ১৫ অক্টোবর এনআরবি ব্যাংকের আরেকটি চেকের মাধ্যমে ৬ লাখ ১২ হাজার ৬০০ টাকা নগদ উত্তোলন করা হয়। কিন্তু সুলতানা আক্তার চৌধুরী বলেন, এগুলো আমি কিছুই জানি না। আমার নামে টাকা তুলে নিচ্ছে অন্য কেউ অথচ সেটা আমি জানি না, এটা খুবই অবাক করার মতো বিষয়।
প্রতিষ্ঠানটির আরেক কর্মকর্তা আবদুল্লাহ সিফাত বলেন, ২০২০ সালের ৫ মে আমার নামে ১২ লাখ টাকার একটি নগদ চেক রেজিস্টারে ইস্যু করা হয় লুব তেল কেনা বাবদ। অথচ এসএওসিএল নিজেই লুব তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে পাইকারি বিক্রি করে। বিষয়টি এসএওসিএলের ৪১২তম বোর্ডসভার প্রতিবেদনেও উঠে আসে। এ ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনায় ২১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা লোপাট হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
বোর্ড সভার প্রতিবেদনে যা উল্লেখ রয়েছে:
গত বছরের ৪ নভেম্বর অনলাইন প্লাটফর্ম জুমে এসএওসিএলের ৪১২তম বোর্ডসভা হয়। সেখানে বলা হয়, এসএওসিএলের বিভিন্ন কর্মকর্তার নামে ৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বিধিবহির্ভূতভাবে হিসাব বিভাগের প্রধান মাহমুদুল হক সরিয়ে নিয়েছেন।
গত বছরের নভেম্বরের ওই বোর্ড সভার পর থেকে এ পর্যন্ত আরও অন্তত ১২ কোটি টাকা নগদ তুলে নিয়ে লোপাটের তথ্য মিলেছে অনুসন্ধানে। এসএওসিএলের দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কো¤পানির জন্য ২০২০ সালে ৩৮ লাখ টাকার থালা-বাসন কেনার নামে টাকা তুলে নেয়া হলেও বাস্তবে ২০ হাজার টাকারও কেনা হয়নি।
সরকারের কেনা ২৮ লাখ টাকার দুটি লিফট ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানে:
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অডিট অধিদফতরের অডিট আপত্তি তথ্যে দেখা যায়, এসএওসিএলর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চীন থেকে ৪১ লাখ ৭২ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যে তিনটি লিফট আমদানি করা হয়। এরমধ্যে দুটি লিফটের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একটি লিফট প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়।
অন্য দুটি লিফটের বিষয়ে জানতে বন্দর থেকে খালাসকারী সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান হট-লাইন কার্গো ইন্টারন্যাশনাল ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশি এজেন্ট ও-২ এলিভেটরস কো. লিমিটেডকে ২০২১ সালের ৮ জুন চিঠি দেয় এসএওসিএল। হটলাইন কার্গো ইন্টারন্যাশনাল এসএওসিএলের চিঠির কোনো উত্তর দেয়নি। তবে চিঠির জবাব দেয় ও-২ এলিভেটরস কো. লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ন্যাশনাল পলিটেকনিক কলেজে লিফট দুটি স্থাপন করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৬৩০ কেজি ভারবহন ক্ষমতাস¤পন্ন একটি ও এক হাজার কেজি ভারবহন ক্ষমতাস¤পন্ন দুটি লিফট আমদানির জন্য ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর যমুনা ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখায় ঋণপত্র (নম্বর-৩০৩৮১৮০১০৩০৭) খোলে এসএওসিএল। এর মধ্যে এক হাজার কেজির দুটি লিফট স্থাপন করা হয়েছে ন্যাশনাল পলিটেকনিক কলেজে। লিফট দুটির এলসি মূল্য ৩৩ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলার। ওই সময় প্রতি ডলার ৮৩ টাকা ৯৫ পয়সা হিসেবে লিফট দুটির মূল্য ২৮ লাখ টাকার কিছু বেশি, যা লোপাট হওয়ার সত্যতা পায় অডিট।
অডিট আপত্তির প্রতিবেদনে বলা হয়, ন্যাশনাল পলিটেকনিক কলেজের মালিক মূলত অধ্যক্ষ প্রয়াত মহাব্যবস্থাপক শাহেদের বাবা ইঞ্জিনিয়ার বাকী। ন্যাশনাল পলিটেকনিক কলেজটি পশ্চিম খুলশী থাকলেও ২০১৭ সালে নিজেদের মালিকাধীন ৯ তলা ভবনে চলে আসে। ওই নতুন ভবনেই লাগানো হয় লিফট দুটি। পরে শাহেদ মারা যাওয়ার ১৫ দিনের মাথায় তার বাবাও মারা যান। এরপর প্রতিষ্ঠানের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান হন শাহেদের আরেক ভাই ইঞ্জিনিয়ার এবিএম আবদুল ওয়াহেদ। তিনি ন্যাশনাল পলিটেকনিক কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বও নেন। ওই ভবনে তাদের মালিকানাধীন চিটাগাং ন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নামের আলাদা আরেকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখানে চারটি বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানো হয়।
মঈনের টাকা সম্পদ কেনায় :
এসএওসিএলের অর্থ লোপাটের ঘটনায় দুদকের করা মামলায় গত বছরের মার্চে সংস্থাটি যে অভিযোগপত্র দিয়েছে তাতে মঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে মাত্র ৩৯ কোটি টাকা আত্নসাতের অভিযোগ আনা হয়। অন্যদিকে শাহেদ মারা যাওয়ায় তাকে মামলায় আসামি করা হয়নি। যদিও অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, শাহেদ আত্নসাৎ করেছেন ৪২ কোটি টাকা।
ওই অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, মঈন উদ্দিন আহমেদ আত্নসাৎ করা টাকায় বিভিন্ন স্থাবর-অস্থাবর স¤পদের মালিক হয়েছেন। রাজধানীর লালমাটিয়া বি-ব্লকে বাড়ি নির্মাণে ব্যয় করেছেন ছয় কোটি টাকা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বি-ব্লকে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন স্ত্রী শামীমা আহমেদের নামে। এছাড়া স্ত্রীর নামে ভেনচুরা প্রোপার্টিজে দুটি ফ্ল্যাট কিনেছেন। ব্রান্ডস ওনলি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ড. হুমায়ূন নামে এক ব্যক্তিকে গাড়ি কেনা বাবদ দিয়েছেন ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। তবে দুদকের মামলায় ড. হুমায়ূন নামের ব্যক্তিটির পরিচয় দেয়া হয়নি।
শাহেদের টাকা গেল কোথায়?
২০১২ থেকে ছয় বছরের মধ্যে শাহেদ এসএওসিএল থেকে নগদে অন্তত ১৫০ কোটি টাকা তুলে নেন। এর মধ্যে ১২১টি নগদ চেকের তথ্যপ্রমাণ আছে। তার লোপাট করা ১৫০ কোটি টাকার একটি অংশ জমা পড়ে গুডউইন পাওয়ার কো¤পানির চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের প্রিমিয়ার ব্যাংকের হিসাবে। শাহেদ ওই কো¤পানির অংশীদার।
সরকারের যৌথ মূলধনী কো¤পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে খোলা গুডউইন পাওয়ার কো¤পানির অন্য দুই মালিক হলেন জামাল উদ্দিন ও তার মেয়ে জামাল ফাতিমা মনিকা। শাহেদের মৃত্যুর পর গুডউইন পাওয়ার অন্য দুই মালিকের নিয়ন্ত্রণে আছে। বর্তমানে গুডউইন পাওয়ার ধানমন্ডির ২ নম্বর সড়কে একটি বাড়িতে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শাহেদ ব্যবসায়ী পরিচয়ে নিউজিল্যান্ডের নাগরিকত্ব নিতে চেয়েছিলেন। এ জন্য চট্টগ্রামের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল সার্ভে লিমিটেডের কাছ থেকে ২০১৪ সালে স¤পদের মূল্য বিবরণী নেন তিনি, যা জমা দেন নিউজিল্যান্ড দূতাবাসে।
ওই বিবরণীর তথ্যমতে, ঢাকা ও চট্টগ্রামে তার ১৪টি ফ্ল্যাটের মূল্য ১৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ১২টি ফ্ল্যাট, ফেনীর সোনাগাজীর আমিরাবাদে একটি ও রাজধানীর বসুন্ধরায় একটি ফ্ল্যাট আছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের পশ্চিম খুলশীর ইয়াকুব ফিউচার পার্ক এলাকায় ন্যাশনাল পলিটেকনিক কলেজ নামে ১০ তলা ভবনটিও শাহেদের। এর পাশেই ১০ কাঠার আরেকটি প্লট আছে শাহেদের। খুলশীর মুরগি ফার্ম এলাকায় ন্যাশনাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কলেজ নামে দোতলা ভবনের একটি প্রতিষ্ঠান আছে তার। খুলশী-২ এলাকায়ও একটি পাঁচতলা ভবনের তথ্য পাওয়া যায়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিউজিল্যান্ডের নাগরিকত্ব পেতে মালয়েশিয়ায় থাকা তার স¤পদের অর্থমূল্য নিরূপণ করায় জেরাল্ডদিন অ্যান্ড অর্জুন অ্যাসোসিয়েটস নামের একটি প্রতিষ্ঠান দিয়ে। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রত্যায়নপত্রে দেখা যায়, ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ার স্টার রেসিডেনস এসডিএন বিএইচডি নামের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাণিজ্যিক ¯েপস কিনেছেন শাহেদ। কুয়ালালামপুরের বান্দারের সিকায়েসেন রোডে ফার্নিসড ওই ¯েপস কেনেন ৩০ লাখ ২১ হাজার ৮০০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত দিয়ে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬ কোটি ৩৩ লাখের বেশি।
আদায় হয়নি বিটুমিন বিক্রির ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা :
প্রয়াত মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহেদ দায়িত্বে থাকাকালীন এসএওসিএলের আমদানি করা বিটুমিন বিক্রির জন্য একমাত্র ডিলার ছিল চট্টগ্রাম মহানগরীর কদমতলী এলাকার মেসার্স বর্ণালী নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির মালিক শুভাশীষ বোস ওরফে মিঠু বাবুর সঙ্গে জিএম শাহেদের সখ্য ছিল। তিনি মারা যাওয়ার দিন পত্রিকায় শোকবার্তা দিয়ে বিজ্ঞাপনও দিয়েছিলেন শুভাশীষ বোস ওরফে মিঠু।
প্রতিষ্ঠানঠির কাছে পাওনা ২ কোটি ৮৭ লাখ ৭১ হাজার ২০০ টাকা পরিশোধের জন্য ২০২১ সালের ২৬ জানুয়ারি শুভাশীষকে চিঠি দেয় এসএওসিএল। চিঠিতে বলা হয়, জিএম শাহেদ মারা যাওয়ার পর ৬০-৭০ গ্রেডের ৩৯৯৬ ড্রাম বিটুমিন বিক্রি করে এ পর্যন্ত এসএওসিএলকে মূল্য পরিশোধ করেননি শুভাশীষ বোস মিঠু। বিপিসি ও এসএওসিএলের তৎকালীন ডিজিএম মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদের সই করা ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৬০-৭০ গ্রেডের বিপিসি নির্ধারিত দামে প্রতি ড্রাম ৭ হাজার ২০০ টাকা হারে মোট ২ কোটি ৮৭ লাখ ৭১ হাজার ২০০ টাকা ২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবশ্যিকভাবে এসএওসিএলের হিসাবে জমা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। ওই চিঠির পরে বেশ কয়েকবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও ওই অর্থ পরিশোধ করেননি শুভাশীষ। এরপর মামলার সিদ্ধান্ত নেয় এসএওসিএল পরিষদ।
দুটো ঘটনায় মামলার সিদ্ধান্ত :
২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর এসএওসিএলের আইন উপদেষ্টা মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিনকে মামলার সিদ্ধান্ত জানিয়ে চিঠি দেন বিপিসি ও এসএওসিএলের তৎকালীন ডিজিএম মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ। ওই চিঠি সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে লাগানো দুটি লিফটের অর্থ আদায় এবং ৩৯৯৬ ড্রাম বিটুমিন বিক্রির অর্থ আদায়ের জন্য ২০২১ সালের ৪ নভেম্বর এসএওসিএলের ৪১২তম পরিষদ সভায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও দেওয়ানি উভয় আদালতে মামলার সিদ্ধান্ত হয়।
ওই চিঠিতে উল্লেখ করা পরিষদ সভার সিদ্ধান্তের মধ্যে (১১.২ এর খ) বলা হয়- দুটি লিফটের অর্থ বাবদ ২৮ লাখ ৫৫ হাজার ৭০০ টাকা আদায়ের লক্ষ্যে ন্যাশনাল পলিটেকনিক চট্টগ্রামের বিরুদ্ধে একটি রেগুলার মামলা স্থানীয় থানায় দায়ের এবং অন্য মামলাটি পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট ১৯১৩ এর আওতায় জেলা প্রশাসক চট্টগ্রামের অনুকূলে দায়ের করার প্রস্তাব পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হলো।
(১১.২ এর গ) সিদ্ধান্তে বলা হয়-বিটুমিন বিক্রয় বাবদ সমুদয় পাওনা অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে এসএওসিএলের আমদানি করা বিটুমিন বিক্রয়ের একমাত্র প্রতিনিধি মেসার্স বর্ণালী লুব্রিকেন্টস লিমিটেডের বিরুদ্ধে একটি রেগুলার মামলার স্থানীয় থানায় দায়ের ও অন্যটি পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট ১৯১৩ এর আওতায় জেলা প্রশাসক চট্টগ্রামের অনুকূলে দায়ের করার প্রস্তাব পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হলো।
আইন উপদেষ্টাকে দেওয়া ওই চিঠিতে বলা হয়, পরিষদ সভার উল্লেখিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বরের মধ্যে আবশ্যিকভাবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করে মামলার কপি ডিজিএমের কাছে জমা দেওয়ার অনুরোধ করা হলো। কিন্তু ওই সিদ্ধান্তের ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও অদৃশ্য কারণে এখনো মামলা হয়নি। অনেকেই মামলা না করার পেছনে বিলম্বের জন্য আইন উপদেষ্টার যোগসাজশের কথা উল্লেখ করেন।
এসএওসিএলের আইন উপদেষ্টার ভাষ্য:
দশ মাসেও মামলা না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এসএওসিএলের আইন উপদেষ্টা মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, মামলার জন্য এসএওসিএলের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হলেও মামলা করার জন্য যেসব ডকুমেন্ট প্রয়োজন সেগুলো জোগাড় করতে সময় লাগছে।
বিশেষ করে লিফট দুটি ন্যাশনাল পলিটেকনিক কলেজের ভবনে লাগানো হয়েছে, কিন্তু ওই ভবনের ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান অন্যজন। বিষয়টিতে পরিষ্কার ধারণা পেতে, প্রতিষ্ঠানটির স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য আমরা প্রতিষ্ঠানটিতে চিঠি দিয়েছি। এর মধ্যে চিঠি দিয়ে অনেকগুলো ডকুমেন্ট সংগ্রহ করেছি। মামলার প্রক্রিয়াধীন। বিটুমিনের ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা আদায়েও মামলা হচ্ছে বলে তিনি জানান।##
এমএসএম / এমএসএম
জয়পুরহাটে শীতার্ত শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রশিবির: শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ
জলমহালে অংশীদারিত্ব নিয়ে প্রতারণা, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়রী
শেরপুরে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদকে দল থেকে বহিষ্কার
শিশু বরণ থেকে স্মার্ট ক্লাসরুম, জামালগঞ্জ বিদ্যালয়ে শিক্ষার নতুন ভোর
শিবচর পুলিশের অভিযানে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে লুট হওয়া ৪৬২ গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার
চাঁদপুরে পিকআপ ভ্যান-অটোরিকশা সংঘর্ষে যুবক নিহত
জেসমিন আরা শরীয়তপুর জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গার্ল গাইড শিক্ষক নির্বাচিত
ভোলাহাটে জনসচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার
কুড়িগ্রামে প্রবেশন কার্যক্রম আধুনিকায়নে সেমিনার অনুষ্ঠিত
লোহাগড়ায় সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
আত্রাইয়ে লেডিস ক্লাবের উদ্যোগে বেদে ও সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ