ঢাকা শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬

খাল-বিলে পানি কমায় ফুলছড়িতে চলছে বৈথ উৎসব


মজিবর রহমান, গাইবান্ধা photo মজিবর রহমান, গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ১০-১১-২০২২ দুপুর ২:৩৯

‘মৎস্য মারিব, খাইব সুখে’  সুখী ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ প্রাচীন বাংলার লোকমুখে বহুল প্রচলিত প্রবাদ। বাঙালি ও মাছ তাই একে অন্যের পরিপূরক। মাছ নিয়ে বাঙালির মনের কোণে আছে তীব্র আবেগ ও ভালোবাসা। একজন বাঙালি পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক না কেন, মাছ তাকে কাছে টেনে নেবেই। তাই তো ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ যেন বাঙালি জীবনের ঐতিহ্য বহন করে।

বন্যার পর গাইবান্ধাসহ ফুলছড়ি উপজেলার খাল-বিল ও জলাশয়গুলোতে চলছে মাছ ধরার মৌসুম। সেই সাথে শুরু হয়েছে এলাকার ঐতিহ্যবাহী দলবদ্ধ মাছ শিকার, বৈদ বা বৈত। তাদের হাতে, কাঁধে  নানা ধরনের মাছ ধরার উপকরণ পলো, হ্যাংগা জালি, পলো জালি, হ্যাগা, মুঠো জাল, কোঁচা, ক্যাটা, তৌরা জাল, ঝাঁকি জাল।

বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে ফুলছড়ি উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের চিথলিয়ার বিলে দেখা যায় বৈদ নামে দলবদ্ধ হয়ে মাছ শিকার করছেন। কর্মব্যস্ত মানুষের জীবন থেকে ক্রমাগত হারিয়ে যাওয়া এই উৎসবে অংশ নেন তিন-চার শতাধিক নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা একত্রিত হয়ে মাছ শিকার করেন।

স্থানীয়রা জানান, কেউবা মাছ মারে কেউবা মাছ মারা দেখে, অনেকে এই মাছ শিকার করা দেখতে ভিড় করেন। তাদের অনেক ভালো লাগে তাই অনেক দূর-দূরান্ত থেকে এসে এই বৈত মারা দেখেন।

ঘাগোয়া থেকে মাছ শিকার বা বৈথে আসা গিয়াস উদ্দিন বলেন,জেলার ৭টি উপজেলাতেই পৃথক পৃথক সৌখিন এই মাছশিকারির দল রয়েছে। বৈদ দলের আলোচনার মাধ্যমে মাছ শিকারের জন্য নির্দিষ্ট জলাশয়, তারিখ, সময়, যাত্রার স্থান নির্ধারণ করে জানিয়ে দেয়া হয়। এই বৈদের দলের একজন দলনেতা থাকে। আমরা আনন্দ উল্লাস করে সবাই একত্রিত হয়ে বৈথে মাছ ধরতে আশি।

মাছ শিকরীরা আব্বাস আলী (৫২) জানায়,অনেকেই ২০-২৫ বছর থেকে এই বৈত মারে আবার অনেকেই শখের বসে এসেছে।এখানে এসে সকলেই কমবেশি মাছ পায়,কেউ বেশি পায় কেউ কম পায়, আবার কেউবা পাই না,তারপরও এইটি একটি নেশা তাদের।

নির্দিষ্ট এলাকায় এবং নির্দিষ্ট সময়ে এই বৈত মারার আহ্বানে নিজ নিজ পছন্দমতো মাছ ধরার নানা সরঞ্জাম নিয়ে সমবেত হতে থাকে মৎস্য শিকারিরা। পূর্বনির্ধারিত বিল জলাশয়ে দলবদ্ধ হয়ে মাছ শিকার চলে দিনভর। এতে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, যে কেউ এতে অংশগ্রহণ করতে পারে। বৈদে মাছ মারা চলে সকাল থেকে বিকেল ৩টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত। আনন্দর হৈ হুল্লোড় করে চলে এক জলাশয় থেকে অন্য জলাশয়ে বৈথে মাছ শিকার।

মৎস্য শিকার (ইংরেজিতে : Fishing) কোন ব্যক্তি কর্তৃক মাছ ধরার জন্য চেষ্টাবিশেষ। সাধারণতঃ মাছ প্রকৃতি প্রদত্ত নদী-নালার মুক্ত জলাশয় থেকে ধরা হয়।

উল্লেখ্য বিশ্বের আনুমানিক ৩৮ মিলিয়ন লোক বাণিজ্যভাবে জেলে এবং মৎস্য খামারীর পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়াও প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে এ পেশায় সম্পৃক্ত রয়েছে ৫০০ মিলিয়নেরও অধিক জনগোষ্ঠী।২০০৫ সালে বৈশ্বিকভাবে প্রকৃতি প্রদত্ত উন্মুক্ত জলাশয় ক্ষেত্র থেকে মাথা পিছু ১৪.৪ কিলোগ্রাম মাছ আহরণ করা হয়। এছাড়াও অতিরিক্ত ৪.৩ কিলোগ্রাম মাছ আবদ্ধ জলাশয় থেকে চাষাবাদের মাধ্যমে সংগৃহীত হয়েছিল। উল্লেখযোগ্য খাদ্য সংগ্রহসহ আধুনিককালে মৎস্য শিকার অবসরকালীন বিনোদনে সময়।

এমএসএম / জামান

কমলা বেগমের নিজ বাড়িতে বসবাস করতে না পারার অভিযোগে সাংবাদিক সম্মেলন

মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলায় পাটের ভালো দাম পেয়ে কৃষকের চোখেমুখে হাঁসি

শরণখোলায় পুলিশের অভিযান: ৭৭ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১

পত্নীতলায় খাদ্য গুদামে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

​ক্ষেতলালে চোর সন্দেহে ২ যুবককে নির্যাতন,নিহত ১ আহত ১

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে শনিবার আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে ফেন্সিডিলের বিকল্প এস্কাফ সিরাপ জব্দ

পটিয়া ব্লাড ফাউন্ডেশন (PBF) এর উদ্যেগে মাদকবিরোধী সেমিনার

রায়গঞ্জে খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই টিউবওয়েলই অকেজো, চরম ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজনরা

কালকিনিতে নীরিহ পরিবারকে মামলা দিয়ে হয়রানীর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

মহানবীর আগমনে ধন্য বিশ্ববাসীঃচন্দনাইশে জশনে জুলুসে অতিথিবৃন্দ

মোহনগঞ্জ ডালাহাতা বিলে পদ্ম ফুলের সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে