ঢাকা মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬

ভোজ্যতেলের ঘাটতি পূরণে সরিষার আবাদে ঝুঁকছে গাইবান্ধার কৃষকরা


সাইফুল মিলন, গাইবান্ধা  photo সাইফুল মিলন, গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ২৬-১১-২০২২ দুপুর ৪:১৮

চারিদিকে সরিষা ক্ষেত। সরিষার গাছ সবুজ বর্ণ থেকে হলুদ গালিচা হয়ে ঢেকে দিচ্ছে গাইবান্ধার আদিগন্ত প্রান্তরকে। জেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে সরিষার আবাদের পরিধি। আমন কাটার পরেই বোরো চাষ শুরুর আগ পর্যন্ত ৬০ দিনের মধ্যেই বাড়তি ফসল হিসেবে সরিষা নামের এই তেলবীজটি আবাদ করছেন এলাকার চাষিরা। ভোজ্যতেলের ঘাটতি পূরণের পাশাপশি চাষীদের চোখে স্বচ্ছলতার হাতছানি দেয়া সরিষার আবাদে ঝুঁকে পড়ছেন এলাকার কৃষকরা। চাষিদের আগ্রহ বাড়ানোর জন্য সব রকমের সহায়তার আশ্বাস কৃষি বিভাগের ।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কচি সবুজ বর্ণের সরিষা গাছ এখন হলুদ গালিচায় ছেয়ে গেছে জেলার শত শত বিঘা জমি। সবুজ বর্ণ থেকে হলুদ বর্ণে উঁকি দিচ্ছে বিঘার পর বিঘা সরিষার ক্ষেত। ক’দিন পরেই পরেই সবুজ রং বদলে পুরো হলুদ বর্ণ ধারণ করবে জমিগুলো।

জানা যায়, প্রায় প্রতি বছরই বর্ষার শুরু থেকেই পানি জমতো গাইবান্ধার দিগন্তবিস্তারি নিচু এই জলাভূমিগুলো। বন্যা এলে তো আর কথাই নাই। তখন একুল-ওকুল ছাপিযে ভাসিয়ে দিত শতশত একর জমিসহ জেলার শতাধিক গ্রাম। বর্ষা কাটিয়ে বন্যার পানি নেমে গেলেও কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও কাদায় ডুবে থাকা জমিতে বোরো মৌসুমের ইরি ধান ছাড়া আর কোন আবাদ হতো না অনেক জমিতে। কিন্তু এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় একমাত্র ফসল ইরি ধান আবাদের আগেই রবি মৌসুমে তেলবীজ সরিষা চাষের বিপুল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে গাইবান্ধায়।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য মধ্যবর্তী ফসল হিসেবে রবি মৌসুমে চাষযোগ্য আবাদ বৃদ্ধির জন্য চাষীদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে চলতি রবি মৌসুমে গাইবান্ধার চাষীরা এবার ব্যাপক আকারে সরিষা চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। অনুকুল আবহাওয়ার কারণে আশাতীত পরিমাণ জমিতে সরিষার চাষ হবে এবার। চলতি বছর বর্ষা মৌসুমে বন্যা না আসার কারণে এখানকার মাটির রস কমে গিয়ে অনেক আগেই সরিষা চাষের উপযুক্ত হয়ে গেছে। এ কারণে এবার বিপুল উদ্যোমে সরিষা চাষে ঝুঁকে পড়েছেন কৃষকরা।

কথা হয় সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের পশ্চিম কোমরনই গ্রামের কৃষক হেনা মিয়ার (৬০) সঙ্গে। তিনি বলেন, এবার ৪ বিঘা জমিতে দেশি টরি ৭ জাতের সরিষা আবাদ করেছি। বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বেশি থাকায় তাঁর উৎপাদিত জমির সরিষা মাড়াই করে তিনি নিজেই ব্যবহার করবেন। দাম ভালো পাইলে বাদ বাকি সরিষা বিক্রি করে দিবেন।

একই এলাকার কৃষক আবুল হোসেন (৫৫) বলেন, সরিষা আবাদে খরচ অনেক কম কিন্তু দাম যদি বেশি হয় তাহলে আমাদের জন্য ভাল হবে। তিনি বলেন, বিগত বছরের থেকে এবছর একটু বেশি ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন ভালোই হবে ইনশাআল্লাহ।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নল্লির বিলের জমিতে কাজ করতে আসা চাষি আমজাদ হোসেন (৫৫) বলেন, এ বছর ৬ বিঘা জমিতে বারি-১৬ জাতের সরিষার আবাদ করেছেন। বর্তমানে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে ভুট্টা সহ অন্য আবাদ বাদ দিয়ে সরিষার আবাদ করেছেন তিনি। বিঘা প্রতি ৩ হাজার টাকা খরচ করে সর্বোচ্চ ৮ মণ পর্যন্ত সরিষার ফলনের আশা করছেন তিনি।

ওই উপজেলার মহিমাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও নল্লির বিলের সরিষা চাষী জিয়াউল হক বলেন, বিলের উপরের অংশের জমিতে আগে থেকেই সরিষার চাষ করা হয়। এখানে তেমন কোন রাসায়নিক সার না দিয়েই সরিষা চাষ করা হয়ে থাকে। বরং সরিষার শুকনো পাতা আর ফুল ঝড়ে পড়ে বাড়তি জৈব সারের জোগান দেয় ইরি ধান চাষের জন্য। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার এ বিলের অনেকটা নিচু জমিতেও সরিষার চাষ করা হচ্ছে। লাভজনক বাড়তি ফসল হিসেবে সরিষা চাষে ঝুঁকে পড়েছেন চাষীরাও।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের কৃষক আমজাদ ব্যাপারি বলেন, আমন এবং বোরো চাষের মধ্যবর্তী সময়ে সরিষা চাষ করলে মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়। পরের ফসলের জন্য খুব বেশি চাষ করতে হয় না। জৈব সারও দিতে হয় না। সরিষা আবাদে কোনো প্রকার সেচ লাগে না। সার ও কীটনাশকও প্রয়োগ করতে হয় না। ফলে কম খরচে বেশি লাভ পাওয়া যায়।

এবিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বেলাল উদ্দিন বলেন, এবছর জেলায় ১২ হাজার ৫’শ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগের টার্গেট আছে এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করার। এর মধ্যে ৩ হাজার ৭’শ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। তবে এখনো ধান কাটা শেষ হয়নি। ধান কাটা শেষে সরিষা আবাদের এই লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে আশা করছি।

তিনি আরও বলেন, জেলায় তৈল বীজ জাতীয় ফসল উৎপাদনের পরিধি দিন দিন বাড়ছে। অধিকাংশ জমিতেই এবার উচ্চ ফলনশীল বারি-১৪ ও বারি-১৭ জাতের সরিষার বীজ বপণ করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এখানকার উৎপাদিত সরিষা দেশের ভোজ্যতেলের ঘাটতি পূরণে এবার উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারবে। চাষিদের আগ্রহ বাড়ানোর জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব রকমের সহায়তা করা হচ্ছে।

প্রীতি / প্রীতি

বগুড়ায় অবৈধ কারখানা থেকে ৬৫ লাখ টাকার নকল সিগারেট জব্দ

জ্বালানি তেলের সংকটে বিপাকে জেলে, বরগুনায় মানববন্ধন

গোপালগঞ্জে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতে নীতিমালা বিষয়ক আলোচনা সভা

গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেলেন চৌধুরী ইশরাক

চাঁদপুরে দীপু মনিকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হলো তিন মামলায়

জলাবদ্ধতামুক্ত আধুনিক নগরীর স্বপ্ন: দীর্ঘদিনের দাবি মেটাতে মাঠে গাসিক প্রশাসক

সাবধান" ঝুঁকিপূর্ণ সেতু আতঙ্কিত চালক যাত্রী

সিংড়ার হাইটেক পার্ক পরিদর্শনে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার

গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেলেন চৌধুরী ইশরাক

কটিয়াদীতে মাদক সম্রাট সাইফুলসহ ৩ জনের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল অতিষ্ঠ যুবসমাজ

ভোলায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতন, ৯৯৯-এ ফোনে পুলিশের উদ্ধার

দেশের প্রতিটি শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে পুষ্টির কোনো বিকল্প নেই: মঞ্জু

যুবসমাজকে বইমুখী করতে গ্রামে গন পাঠাগার উদ্বোধন