অন্ধকারে তদন্ত প্রতিবেদন
স্যান্ডর ডায়ালাইসিসের চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু
স্যান্ডর ডায়ালাইসিসে চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যুবরণ করা সাফিয়া খাতুনের বিষয়ে সারাদেশে তোলপার সৃষ্টি হলেও আলোর মুখ দেখেনি সেই মৃত্যুর তদন্ত প্রতিবেদন। দীর্ঘ ৬ মাস সময় ধরে অন্ধকারেই পড়ে আছে ফাইল ও প্রতিবেদন। জানা যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল ভবনের নিচের তলায় স্যান্ডর ডায়ালাইসিস বাংলাদেশ (প্রা.) লি: কর্তৃপক্ষ ও এর চিকিৎসক ডা. রেহনুমাসহ তার সহযোগীদের চিকিৎসায় অবহেলা, অপচিকিৎসার কারণে কিডনী রোগী সাফিয়া খানম নামের এক মহিলার মৃত্যু হয় গত ৫ জুন।
মৃত্যুর পর নিহতের স্বামী এম.এ মাসুদ ও তার পরিবার ডাক্তার রেহেনুমা এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তুলে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়ে গত ১৫ জুন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে। এ সময়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে । এই ঘটনায় চট্টগ্রাম সহ সারা বাংলাদেশে তোলপাড় শুরু হয় এবং জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যম সমূহে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর প্রেক্ষিতে গত ২১ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. সাখাওয়াত উল্লাহকে প্রধান করে ৩ সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটি ৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার কথা ছিল।
এছাড়া ২৪ জুলাই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনী বিভাগের প্রধান ডা. নুরুল হুদাকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। উক্ত তদন্ত কমিটিও ৫ দিনের মধ্যে গত ২৮ জুলাই তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার কথা ছিল। অন্যদিকে ৩১ অক্টোবর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ শাখাওয়াত উল্লাহকে প্রধান করে আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তিনটি তদন্ত কমিটি তাদের কার্যক্রম সম্পন্ন করলেও একটি কমিটিও এখনো ( ২১ ডসিম্বের-২০২২) পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি এবং রিপোর্টও প্রকাশ করেনি। তদন্ত রির্পোট প্রকাশ না করায় নিহত সাফিয়া খানমের পরিবার ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে ব্যাপক সংশয় প্রকাশ করেছে। গঠিত তিনটি তদন্ত কমিটির কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও একটিরও রির্পোর্ট প্রকাশ না হওয়ায় দেখা দিয়েছে রহস্য। অভিযোগ উঠেছে তদন্তের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিতে সক্রিয় একটি চক্র। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ডা. রেহেনুমা আত্মগোপনে । উক্ত প্রতিষ্ঠানে এখনো পর্যন্ত যোগদান করেনি বলে স্যান্ডর ডায়ালাইসিস বাংলাদেশ (প্রা.) লি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, "তদন্ত কাজ শেষ হয়েছে। রিপোর্ট চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের কিডনী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপকের কাছে পাঠিয়েছি, উনি কোন সংশোধন ও সংযোজন করার থাকলে তা করার জন্য। উনার কাছ থেকে এখনো আমার কাছে ফেরত আসেনি। আমার হাতে আসার সাথে সাথে প্রকাশ করা হবে।
এ বিষয়ে নিহতের স্বামী লেখক ও গবেষক এম এ মাসুদ বলেন, আমার সম্পূর্ণ সুস্থ স্ত্রীকে তারা ভুল চিকিৎসায় হত্যা করেছে। আমি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তাদের নিকট থেকে ১০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ আদায় করে আদায়কৃত অর্থ গরিব কিডনী রোগীদের চিকিৎসায় ব্যয় করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ না করলে এবং আমার স্ত্রী হত্যার বিচার না পেলে আমি উচ্চ আদালতে যাবো।
উল্লেখ্য, স্যান্ডর ডায়ালাইসিস কর্তৃপক্ষ এবং সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মেরও অভিযোগ রয়েছে । ইতিপূর্বে সেখানে এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও কোন এক রহস্যজনক কারণে তারা সব সময় ধরাছোঁয়া বাইরে থাকে।
এমএসএম / এমএসএম
ঘোড়াঘাটে আনসার-ভিডিপির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
শ্রীমঙ্গলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৩ লাখ টাকা জরিমানা
নন্দীগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন এমপি মোশারফ
শ্যামনগর উপজেলা ক্লাইমেট এ্যাকশন ফোরামের অর্ধবার্ষিক সভা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন
রামুর রাবার বাগানের পাহাড়ি জঙ্গলে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
সলঙ্গায় ইউপি সচিব মিলনের অনিয়মিত উপস্থিতি, ভোগান্তিতে সেবাপ্রার্থীরা
ধুনটে আগুনে বসতবাড়ি পুড়ে নিঃস্ব কৃষক পরিবার
শ্রীপুরে ৩০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেফতার
বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন: ৪৯৬ নারী পেলেন টাকা
দুর্নীতি প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলায় কুপিয়ে হত্যা
নবীগঞ্জে বদর দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা ও ইফতার মাহফিল