শিক্ষা উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিতে হতাশা
দড়জায় কড়া নাড়ছে নতুন বছর। সবকিছুর মতো শিক্ষাকার্যক্রমও শুরু হবে নতুন রূপে। এর আগেই ব্যাপকহারে শিক্ষা সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষাঙ্গনে। অতিরিক্ত দাম বাড়ায় পড়াশোনা চালিয়ে নিতে বিপাকে পড়ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা । বই, খাতা থেকে শুরু করে সবকিছুর দাম আগের তুলনায় বেড়েছে ব্যাপক হারে।
নগরীর শিক্ষা উপকরণের বড় বাজার আন্দরকিল্লা, চকবাজার ও নুপুর মার্কেটে ঘুরে দেখা গেছে দাম বাড়ার সাথে সাথে বিক্রি কমেছে শিক্ষা সামগ্রীর। এখন পর্যন্ত আসেনি নতুন বছরের বই। দোকানীরা বলছেন, এ সময়ে পুরাতন বই বেচা-কেনা হয় সবচেয়ে বেশি, তবে এবার আগের চেয়ে কমেছে সেটা। নতুন বছরের বই এলেও তার জন্য আগের তুলনায় অধিক মূল্যে বিক্রি করতে হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন দোকানদাররা। যেকারনে বিক্রি কম হওয়ার ভয়ে আছেন তারা।
আন্দরকিল্লা ইসলামিয়া লাইব্রেরির মালিক আসিফ ইকবাল বলেন, নতুন বছর আসছে। শিক্ষাবর্ষও নতুন, শিক্ষার্থীদের নতুন গাইড বই সবই প্রয়োজন। কিন্তু এবার বইয়ের দাম বাড়ায় বেচাবিক্রি কম, নতুন বছরেও ভালো বেচাকেনা নিয়ে শঙ্কা আছে । শিক্ষার্থীরা বই কিনতে আসলেও অনেকেই বই কিনতে এসে দাম বেশি হওয়ায় ফিরে যাচ্ছেন।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হাফিজ তার সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া রেদোয়ানের জন্য খাতা এবং কলম কিনতে লাইব্রেরিতে এসে হতাশ হয়ে সকালের সময়কে বলেন, আগে যে খাতা রেডিমেড ৪৫ টাকাতে নিয়েছি সেটা এখন ৭০ টাকা। তাছাড়া কলম, পেন্সিল, রাবার থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের শিক্ষা সামগ্রীর দাম বেড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে কিভাবে ছেলে মেয়ের পড়ালেখা চালাই?
বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শুভ দাশ বলেন, পরিবার আমার পড়ালেখার ভার বহন করতে অসমর্থ, তাই নিজের টিউশনির টাকাতে পড়ালেখা চালাচ্ছিলাম এতোদিন, তবে শিক্ষাসামগ্রীর এমন দাম বৃদ্ধিতে সামনের দিনগুলো কিভাবে চালাবো জানিনা।
নগরীতে রিক্সা চালক মোহাম্মদ সেলিম মিয়া বলেন, আমার দুইটা ছেলে ৩য় ও ৫ম শ্রেণিতে পড়ে। খাবারের দাম বাড়লেও খাওয়াতো বন্ধ করতে পারবোনা কিন্তু বই খাতার দাম বাড়লে পড়ালেখা বন্ধ করে কোনো কাম কাজে লাগাই দিতে হবে।
শিক্ষা সামগ্রীর মৌলিক উপকরণ কাগজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে পাইকারি কাগজ বিক্রেতা, বাংলাদেশ পেপার হাউজের মালিক মোহাম্মদ ইরফানের সাথে সকালের সময়ের সাক্ষাতে তিনি বলেন, আগে নিউজ প্রিন্ট কাগজ প্রতি রিম বিক্রি হতো ১০০ টাকা এখন তা বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা। এক রিম সাদা কাগজ বিক্রি হতো আগে ২০০ টাকা, এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা। বেচাও কমেছে আগের তুলনায়।
এ বিষয়ে টি কে পেপার মিলের প্রকল্প পরিচালক মো. রিয়াজুল হক সকালের সময়কে বলেন, মিল চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কাগজ তৈরির উপকরণ কিনতে আগের চেয়ে বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে। এক টন পাল্প বা মন্ড কিনতে হচ্ছে ১ হাজার এর বেশি ডলারে। ডলারের দামও বেড়েছে। এছাড়া ১ টন পাল্প বা মন্ড দিয়ে এক টন কাগজ তৈরি করা যায় না, ৯৫০ কেজির মতো হয়। বর্তমান কাঁচামালের দাম বেশি, অনেকেই মন্ড ইমপোর্ট করতে পারছে না। আবার এক টন কাগজের জন্য ভ্যাট আছে পাঁচ-ছয় হাজার টাকা, ট্রান্সপোর্ট খরচ রয়েছে। মূলত কাগজ উৎপাদনে ব্যবহৃত কেমিক্যাল থেকে শুরু করে সবধরনের উপাদানের দাম আগের চেয়ে বেড়েছে।
তিনি আরো বলেন, সামগ্রিকভাবে এখন সবকিছুর দাম বাড়তি। যার প্রভাব কাগজশিল্পেও পড়েছে। সবকিছুর দাম বাড়ায় শ্রমিকদের বেতনও আগের চেয়ে বেশি দিতে হচ্ছে। নানান গ্রেডের কাগজ তৈরি হয়। তবে মাঝারি গ্রেডের কাগজের চাহিদা বাজারে বেশি। কাগজ উৎপাদনে খরচ কিছুটা কমে আসলে পাইকারি এবং খুচরা বাজারেও দাম কিছুটা কমে আসবে।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষাবিদ ড.আনোয়ারা আলম সকালের সময়কে বলেন, এটি নিঃসন্দেহে অশনিসংকেত। শুধু কি শিক্ষা সামগ্রী? সবকিছুর দাম যে হারে বাড়ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারে নাভিশ্বাস। শিক্ষার্থীরা দ্রুত ঝড়ে পড়ার উপক্রম হচ্ছে। এটিতো জাতীয় একটি সংকট। আমাদের শিক্ষা খাত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের শিক্ষার্থীরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। যদি শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সামগ্রীর অভাবে পড়াশোনা করতেই না পারে, সেক্ষেত্রে বিষয়টি ভীষণ চিন্তার এবং দুঃখজনক। শিক্ষা সামগ্রী মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে, যেন শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে।
এমএসএম / এমএসএম
কুমিল্লায় শতাধিক সংবাদকর্মীদের নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত
বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি ভারতীয় ইলিশের চালান জব্দ
জয়পুরহাটে শীতার্ত শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রশিবির: শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ
জলমহালে অংশীদারিত্ব নিয়ে প্রতারণা, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়রী
শেরপুরে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদকে দল থেকে বহিষ্কার
শিশু বরণ থেকে স্মার্ট ক্লাসরুম, জামালগঞ্জ বিদ্যালয়ে শিক্ষার নতুন ভোর
শিবচর পুলিশের অভিযানে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে লুট হওয়া ৪৬২ গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার
চাঁদপুরে পিকআপ ভ্যান-অটোরিকশা সংঘর্ষে যুবক নিহত
জেসমিন আরা শরীয়তপুর জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গার্ল গাইড শিক্ষক নির্বাচিত
ভোলাহাটে জনসচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার
কুড়িগ্রামে প্রবেশন কার্যক্রম আধুনিকায়নে সেমিনার অনুষ্ঠিত