চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু: ৭দিনের তদন্ত রিপোর্ট দিলেন ৭ মাসে
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল ভবনের নিচের তলায় স্যানডর ডায়ালাইসিস বাংলাদেশ (প্রাঃ) লিমিটেডের চিকিৎসক ডাঃ রেহনুমাসহ সহযোগীদের চিকিৎসায় অবহেলা, অপচিকিৎসার কারণে কিডনী রোগী সাফিয়া খানম নামের এক মহিলার গত ৫ জুন মৃত্যু হয়। উক্ত ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও প্রায় ৭ মাসেও তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ না করা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। গত ১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক(স্বাস্থ্য) ডাঃ মো. সাখাওয়াত উল্লাহ ৪৭ পাতার একটি তদন্ত প্রতিবেদন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের মাধ্যমে পরিচালক হাসপাতাল ও ক্লিনিক এর কাছে পাঠানো হয়। উক্ত রিপোর্টে চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। সাফিয়া খানমের মৃত্যুর পর নিহতের স্বামী এ.এ মাসুদ ও তার পরিবার ডাক্তার রেহেনুমা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তুলে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়ে গত ১৫ জুন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে। এ সময়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে । এই ঘটনায় চট্টগ্রাম সহ সারা বাংলাদেশে তোলপাড় শুরু হয় এবং জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যম সমূহে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর প্রেক্ষিতে গত ২১ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. সাখাওয়াত উল্লাহকে প্রধান করে ৩ সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটি ৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার কথা ছিল। এছাড়া ২৪ জুলাই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনী বিভাগের প্রধান ডা. নুরুল হুদাকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। উক্ত তদন্ত কমিটিও ৫ দিনের মধ্যে গত ২৮ জুলাই তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার কথা ছিল। অন্যদিকে ৩১ অক্টোবর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ শাখাওয়াত উল্লাহকে প্রধান করে আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তিনটি তদন্ত কমিটি তাদের কার্যক্রম সম্পন্ন করলেও একটি কমিটিও এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি এবং রিপোর্টও প্রকাশ করে নি। তদন্ত রির্পোট প্রকাশ না করায় নিহত সাফিয়া খানমের পরিবার ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে ব্যাপক সংশয় প্রকাশ করেছে। গঠিত তিনটি তদন্ত কমিটির কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়া সত্বেও একটির ও রির্পোর্ট প্রকাশ না হওয়ায় দেখা দিয়েছে রহস্য। অভিযোগ উঠেছে তদন্তে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রকত ঘটনা ধামাচাপা দিতে সক্রিয় একটি চক্র। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ডা. রেহেনুমা আত্মগোপনে । উক্ত প্রতিষ্ঠানে এখনো পর্যন্ত যোগদান করেনি বলে স্যানডর ডায়ালাইসিস বাংলাদেশ (প্রাইঃ) লি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযোগকারী যে সব বিষয় দাবি করে অভিযোগ করা হয়েছে, আমরা ৪৭ পাতার তদন্ত প্রতিবেদন এবং একটি পেনড্রাইভসহ ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নিহতের স্বামী লেখক ও গবেষক এম এ মাসুদ বলেন, " আমার সম্পূর্ণ সুস্থ স্ত্রীকে তারা ভুল চিকিৎসায় হত্যা করেছে। আমি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তাদের নিকট থেকে ১০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ আদায় করে আদায়কৃত অর্থ গরিব কিডনী রোগীদের চিকিৎসায় ব্যয় করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। আমি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এমএসএম / এমএসএম
কুমিল্লায় শতাধিক সংবাদকর্মীদের নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত
বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি ভারতীয় ইলিশের চালান জব্দ
জয়পুরহাটে শীতার্ত শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রশিবির: শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ
জলমহালে অংশীদারিত্ব নিয়ে প্রতারণা, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়রী
শেরপুরে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদকে দল থেকে বহিষ্কার
শিশু বরণ থেকে স্মার্ট ক্লাসরুম, জামালগঞ্জ বিদ্যালয়ে শিক্ষার নতুন ভোর
শিবচর পুলিশের অভিযানে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে লুট হওয়া ৪৬২ গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার
চাঁদপুরে পিকআপ ভ্যান-অটোরিকশা সংঘর্ষে যুবক নিহত
জেসমিন আরা শরীয়তপুর জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গার্ল গাইড শিক্ষক নির্বাচিত
ভোলাহাটে জনসচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার
কুড়িগ্রামে প্রবেশন কার্যক্রম আধুনিকায়নে সেমিনার অনুষ্ঠিত