তালায় কুল চাষে অভাবনীয় সাফল্য যাচ্ছে ঢাকা সহ অন্য অঞ্চলে
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার হাট বাজারে খুচরা ও পাইকারি কুল বেচা বিক্রির বিষয়টি এখন নিত্যদিনের ঘটনা । চলতি মৌসুমে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের কুল এ অঞ্চলের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ট্রাক ট্রাক কুল যাচ্ছে ঢাকা সহ দেশের অন্যান্য জেলায় । এখানকার উৎপাদিত কুল গুণগত মানসম্মত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর চাহিদা বেড়েই চলেছে ।
এবং স্বল্প সময়ে লাভজনক হওয়ায় ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে এই অঞ্চলের কুল চাষ।সূত্রমতে, উপজেলার বারটি ইউনিয়নের শত শত কুল চাষীরা তাদের উৎপাদিত কুল এ বছর কয়েক কোটি টাকা বেচা বিক্রি করবেন বলে জানা যায়। এসব কুলের মধ্যে রয়েছে বিলাতি মিষ্টিকুল, থাই আপেল, বল সুন্দরী, কাশমির আপেল, দেশি আপেল, নারিকেল, বোম্বাই ও টক জাতের কুল। তালা উপজেলা ও সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলায় ৯শত ৫০ হেক্টর পরিমাণ জমিতে কুল চাষ হয়েছে। যা গত বছরের ব্যবধানে প্রায় ৪০ শতাংশ আবাদ বেড়েছে। সূত্রটি আরও জানায়, ২০১৯ তালা উপজেলা সহ এ জেলায় কুলের আবাদ ছিল ৫ শত ৫০ হেক্টর জমিতে। সেই হিসেবে চলতি মৌসুমে এর আবাদ ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে ।
জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে বছরে প্রায় ১৭ হাজার মেট্রিক টন কুল উৎপাদন হওয়ার বিষয়টি জানা গেছে । এর মধ্যে তালা ও কলারোয়া উপজেলাতে সবচেয়ে বেশি কুল উৎপাদন হয় । যার গড় মুল্য ১ হাজার ৩শত কোটি টাকার উপরে। জেলার উৎপাদিত কুল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। কুল চাষি পাঞ্জাব আলী বলেন, গত ৮ বছর ধরে তিনি এই চাষের সাথে জড়িত । অন্যের জমি লিজ নিয়ে সাত বিঘা জমিতে চাষকৃত ক্ষেতে আপেলকুল, বল সুন্দরী, বিলাতি মিষ্টি, কাশমির আপেল, দেশি , নারিকেল ও টক বোম্বাই কুলের চাষ করেছেন ।
এসব গাছে এক নাগাড়ে গত ৬ বছর ধরে কুল উৎপাদন হচ্ছে। প্রতি বছর কুলের মৌসুমে ১২-১৩ লাখ টাকার মত কুল বিক্রি করেন বলে তিনি জানান । চলতি মৌসিুুুমে ও কুল বিক্রি করা শুরু হয়েছে। স্থানীয় পাইকাররা সহ খুলনার ব্যবসায়ীরা তার বাগান থেকে কুল সংগ্রহ করছেন।কুল চাষী শিক্ষক লাল্টু বলেন, গত ৫ বছর ধরে নিজের জমিতে কুল চাষ করি। গত বছর ১০ বিঘা পরিমান জমিতে আপেলকুল উৎপাদন করে ৬ লাখ টাকা লাভ হয়।অন্য সব ফসলের চেয়ে কুল চাষ খুবই লাভজনক। মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন মাসের ফসল কুল উৎপন্ন হয় এবং ঝুঁকিও কম।পাইকারি কুল ব্যবসায়ী ও আড়তদার রাসেল হোসেন বলেন, এ অঞ্চলের উৎপাদিত কুল বাজারে চাহিদা অনেক বেশি। খুলনা বিভাগীয় শহর ছাড়াও বরগুনা, পটুয়াখালী, মাদারীপুর, বরিশাল ও পিরোজপুর এলাকাতেও কুল সরবরাহ করে থাকেন । তিনি প্রতি মণ আপেলকুল ও বিলাতি মিষ্টিকুল ৩ হাজার ৫শত থেকে ৩ হাজার ৬ শত টাকা দরে পাইকারি ক্রয় করছেন ।
প্রতি মৌসুমে ৭ থেকে ৮ হাজার মণ কুল কেনার বিষয়টি জানান । সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. জামাল উদ্দিন , অল্প সময়ের মধ্যে খুবই লাভজনক কুল চাষ। সে কারণে এ জেলায় দ্রুত কুল চাষের প্রসার ঘটছে। তিনি বলেন, বছরে ১৭ থেকে ১৮ হাজার মেট্রিক টন কুল উৎপাদন হচ্ছে। যার গড় মুল্য ১ এক হাজার ৩শত কোটি টাকার উপরে বলে তিনি জানিয়েছেন । সর্বপরি কৃষি প্রধান এদেশের একেবারে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের বহু সাধারন চাষীদের অভাবনীয় সাফল্য বীজড়িত । এচাষ অব্যহত থাকা পূর্বক আগামীতে যাতে আরো বেশি প্রসারিত হয় সে জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল ।
এমএসএম / এমএসএম
কুমিল্লায় পৃথক অভিযানে আড়াই কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ
ঈশ্বরদীতে এক মাদকসেবীর অপ্রত্যাশিত মাদকবিরোধী প্রচারণায়চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে
গাজীপুরে সার সংক্রান্ত নীতিমালা সংশোধনের দাবিতে মানববন্ধন
মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের দোকান ভাড়ার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: তোপের মুখে জেলা কমান্ডার মাহফুজ
ধামরাইয়ে পাঁচ ইটভাটায় ২৪ লাখ টাকা জরিমানা, গুঁড়িয়ে দেয়া হলো চিমনি
তারাগঞ্জে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা
ঠাকুরগাঁওয়ে প্রায় ২ লাখ টাকার টাপেন্টাডলসহ যুবক গ্রেফতার
ঠাকুরগাঁওয়ে খালে পড়ে মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু
পোশাকে দ্বিগুন লাভ, চাঁদপুরে ৪ প্রতিষ্ঠানের জরিমানা
চট্টগ্রামে হাজী সেলিম ফাউন্ডেশনের ইফতার ও নগদ অর্থ সহায়তা
কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত গ্রামে প্রকৃতি ও মানুষের মঙ্গল কামনায় বট ও পাকুড়ের বিয়ে
রাণীশংকৈলে মহিলা মাদক ব্যবসায়িসহ গ্রেপ্তার ৩