তাজরিনের দেলোয়ারের আমলনামা খতিয়ে দেখা হয়নি
মৎস্যজীবী লীগে জামায়াত-বিএনপি!
আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে মৎস্যজীবী লীগকে স্বীকৃতি দেওয়ার তিন বছর পার হয়েছে । স্বীকৃতির পর থেকেই একের পর এক বিতর্ক ও সমালোচনার জন্ম দিয়ে চলেছে সংগঠনটি।অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যাপকহারে পদায়ন করেছেন সংগঠনটির সভাপতি সাঈদুর রহমান সাইদ এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ আজগর নস্কর। মাদকসেবী, বিক্রেতা ও ধর্ষণ মামলার আসামিকেও পদ দেওয়া হয়েছে। নেতা বানিয়েছেন আলোচিত তাজরিন ফ্যাসনের দেলোয়ার হোসেনকেও। তার বিরুদ্ধে ১১২ শ্রমিক পুড়িয়ে মারার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা অভিযোগ করেন, মানুষ পোড়ানো মামলা থেকে রেহাই পেতে তিনি মোটা অংকের টাকা দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের পদ বাগিয়েছেন। তিনি এখন ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি।
শ্রমিক নেতারা জানান, আওয়ামী লীগের মতো দলে এতটাই কি লোকের অভাব পড়েছে যে একজন ‘খুনি’কে নেতা বানাতে হবে? তাকে যদি দল থেকে বাদ দেওয়া না হয়, তাহলে সামনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দানে বিরত থাকবেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা।
জানা গেছে, ঢাকা মহানগর ছাড়াও সিলেট, ময়মনসিংহ, গাইবান্ধা, গাজীপুর, শরীয়তপুর, খুলনা, বগুড়া, রংপুর, ফরিদপুর, কক্সবাজারসহ প্রায় জেলায় টাকার বিনিময়ে ছাত্রদল এবং জামায়াত-শিবির নেতাদের দলে ঢুকিয়েছেন কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এমনকি আজগর নস্কর তার নিজের অফিসের জিএম’কে মৎস্যজীবী লীগের অর্থ সম্পাদক এবং অফিস পিওন জুম্মন হোসেনকে সহ-সম্পাদক করেছেন। উভয়ই এক সময় যুবদল-বিএনপির নেতা ছিলেন। এছাড়া শেখ আজগর নস্কর সংগঠনের নাম ব্যবহার করে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছেন। তার বনানীর অফিসে নেতাকর্মীরা নিয়মিত হাজিরা দেন এবং পদ বাণিজ্যের লেনদেন ওই অফিসে বসেই হয়। কমিটি ও পদ বাণিজ্য করে তিনি কামিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় নেতাদের কয়েকজন পদ বাণিজ্যে নস্করকে সহায়তা করেন।
গত বছর মৎস্যজীবী লীগ আয়োজিত একটি সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, তাজরীন ফ্যাশনের দেলোয়ার কিভাবে মৎস্যজীবী লীগে এলেন? বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। তারপর কেটে গেছে আরও এক বছর। তবে এর কোনো সুরাহা হয়নি। কিন্তু ওবায়দুল কাদেরের কথা উপেক্ষ করে আজগর নস্কররা দেলোয়ারদের নেতা বানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। নেতাকর্মীর মনে একটা-ই প্রশ্ন- আজগর নস্কর কি ওবায়দুল কাদেরের চেয়েও শক্তিশালী?
কক্সবাজার জেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই জেলার বর্তমান মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি আজিজুল চৌধুরী মাদক কারবারি এবং নারী নির্যাতন মামলার আসামি। তার সকল অপকর্মে তথ্যপ্রমাণ ‘দৈনিক সকালের সময়’র হাতে রয়েছে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা মৎস্যজীবী লীগের সাবেক আহ্বায়ক আব্দুর রহিম বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা টাকার বিনিময়ে আজিজ চৌধুরীকে সভাপতি করেছেন। এমন অপরাধী যখন কমিটিতে এসেছেন, তখন আমি দলের পদপদবী থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। সিলেট জেলা সভাপতি এমএম নবী জামায়াত পরিবারের সদস্য বলে অভিযোগ রয়েছে। একই অভিযোগ গাজীপুর জেলার পুরো আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে। এছাড়া বগুড়া জেলার সাধারণ সম্পাদক মাদকাসক্ত। সাতক্ষীরা জেলার সভাপতি করা হয়েছে তাঁতী লীগের বহিষ্কৃত নেতাকে। এমনকি থানা পর্যায়েও বিতর্কিতদের স্থান দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সিলেট জেলা মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক মৃদুল কান্তি বলেন, আমি শুনেছি আমাদের সিলেট জেলা সভাপতি এমএম নবী জামায়াত পরিবারের সদস্য। তাকে আগে কখনো রাজনীতির মাঠে দেখা যায়নি। এ সব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফোন কল করা হয় মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি সাইদুর রহমানকে। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে সংযোগ কেটে দেন। সাধারণ সম্পাদক আজগর নস্কর বলেন, অভিযোগ থাকবেই। আপনি নিজে কমিটি দিলেও অভিযোগ উঠবে। তবে আমরা কার্যক্রমের প্রশংসা পাচ্ছি। সংগঠনের কেউ কেউ অভিযোগ দিচ্ছেন। তাদের জনপ্রিয়তা নেই। সংগঠনে গ্রহণযোগ্যতাও নেই।
এমএসএম / এমএসএম
ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনা প্রত্যাহার করলো বিরোধী দল
পাপেট শিল্পের অগ্রদূত মুস্তাফা মনোয়ারের প্রয়াণ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের গভীর শোক
সংসদ তোষামোদের জায়গা নয়, ট্যাক্সের টাকায় যেন চরিত্র হনন না হয়
চুক্তি হতে হবে সমতার ভিত্তিতে, সংসদকে পাশ কাটিয়ে কিছু নয়
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেশবাসীকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের শুভেচ্ছা
সরকার মৌলিক পরিবর্তনের দাবিকে অগ্রাহ্য করছে : শফিকুর রহমান
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ভঙ্গুর, শঙ্কায় জিএম কাদের
দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানোর অপচেষ্টা হচ্ছে : রিজভী
মির্জা আব্বাস আগের তুলনায় অনেকটা সুস্থ: রেল প্রতিমন্ত্রী
‘নির্দেশ অমান্য করলে অন্য রূপ দেখবেন’— নেতাকর্মীদের সতর্ক করে এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল
সীমান্ত সমস্যার একমাত্র সমাধান কাঁটাতারের বেড়া নয় : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে যায়নি: ফখরুল