সাতকানিয়ায় ফুটবল খেলা দেখতে গিয়ে যুবকের লাথির আঘাতে শিশুর মৃত্যু
সাতকানিয়ায় ছদাহায় ফুটবল খেলা দেখতে গিয়ে মাঠে বল ধরায় এক শিশুকে লাথি মেরে নিহত করার অভিযোগ ওঠেছে। নিহত শিশু উপজেলার ছদাহার ৪নং ওয়ার্ডের আফজল নগর এলাকার চকিদার বাড়ির আমির হোসেনের ছেলে ইয়াসিন(৯) গত ১৮ই জুলাই বুধবার বিকালে ছদাহার আফজল নগর এলাকার চকিদার বাড়ির পূর্বে পার্শ্বে খেলার মাঠে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়সূত্রে জানাযায় -প্রতিদিনের মত আমির হোসেনের ছেলে ইয়াসিন তাদের বাড়ির পূর্বে পার্শ্বে ফুটবল খেলা দেখতে যায়,ওই মাঠে আগে থেকে ফুটবল খেলা খেলছিল শিশু ইয়াসিনের আপন চাচাত মামা তৌহিদুল ইসলাম প্রকাশ তৌহিদ মাঝি।তৌহিদ মাঝি একই এলাকার নুরুচ্ছাফা সওদাগরের ছেলে।শিশুটি মাঠে গিয়ে বল ধরায় ক্ষিপ্ত হয়ে খেলার মাঝে প্রকাশ্যে লাথি মারেন চাচাত মামা তৌহিদ মাঝি।মুহুূর্তেই শিশু ইয়াসিন অন্তত ১০ফিট দূরে গিয়ে আচড়েঁ পড়েন।
পরে মামা ঘাতক তৌহিদ মাঝিসহ অপরাপর খেলোয়াররা শিশু ইয়াসিনকে তোলে আনেন এবং এই কথা ইয়াসিনের মাকে না বলার জন্যও নিষেধ করেন ঘাতক তৌহিদ,তাৎক্ষণিক স্থানীয় আরো ২শিশু বিষয়টা দেখে চিৎকার করলে ঘাতক তৌহিদ তাদেরও মুখ বন্ধ করার জন্য লাথি মারেন।তাৎক্ষণিক ঘাতক তৌহিদ স্থানীয় রোষানল এড়াঁনোর জন্য আত্মগোপনে চলে যান।
অপরদিকে শিশু ইয়াসিন ঘরে গিয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করলে তার মা কি বিষয় জানতে চাইলে এবং খেলার মাঠে গিয়ে মানুষজন থেকে লাথির আঘাতের বিষয়টা জেনে ছেলেকে দ্রুত কেরানী হাট অলকেয়ার হাসপাতালে আনেন। ওখানে ডাক্তার ইউএস চাকমার নিকট চিকিৎসা করায় কিন্তু ১৯শে জুলাই বুধবার ছেলের (ইয়াসিন) রক্তবমিসহ অবস্থার বেগতিক মনে হলে ১৩ঘন্টা পর অলকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম মেডিকেল এ রেফার করেন।ওখানে নেয়ার পর পর সেলাইন দেয়ার সাথে সাথেই শিশু ইয়াসিনের মৃত্যু হন।এদিকে শিশুটির মা প্রতিবেদককে ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন- আমার ছেলেকে লাথি মারেন বুকে কিন্তু অলকেয়ার হাসপাতালের চাকমা ডাক্তার আমার ছেলেকে এক্সরে দিলেন বুকে তাই ওই ভুল চিকিৎসার কারণেই পরের দিন সকাল বেলা আমার ছেলের রক্তবমি হলে তারা ১৩ঘন্টা পর চমেক এ প্রেরণ করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে একই কথা বলেন শিশুটির নানা আহমদ ছফা(৬০) তিনি এক ভিডিওতে বলেন ঘটনার সময় আমি ছিলাম না তবে আমি শুনেছি এবং যে যুবক লাথি মেরেছেন সেই যুবক আমার আপন ভাতিজা তৌহিদ(২৫)সে ঢালাই মিস্তিরির কাজ করে।এবং আমি আমার মেয়েটাকে ঘর জামাই রেখেছি।এদিকে প্রতিবেদক স্থানীয় মসজিদের কবরস্থানে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে পাওয়া যায় এতবড় ঘটনা তাও প্রকাশ্যে ঘটেছে কিন্তু তারা চুপিসারে এটা শেষ করতে চাই, তাও পোষ্টমর্টেম করা হয়নি শিশুটির।
তবে ঘটনার পর থেকে ঘাতক তৌহিদ মাঝি পলাতক। এদিকে ভুল চিকিৎসার বিষয়ে প্রতিবেদক কেরানীহাট অলকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক ইউএস চাকমার নিকট জানতে চান লাথির আঘাত বুকে কিন্তু আপনি পেটে এক্সরে করলেন কেন? তখন জবাবে তিনি বলেন-লাথির আঘাত বুকে সেটা আমরা বুঝতেছি পরেরদিন সকাল বেলা যখন রক্তবমি করছিল কিন্তু এর আগের রাত পুরোপুরি সুস্থ ছিলেন শিশুটি তাই আমরা বুঝতে পারিনাই।তারপরেও শিশুটির মা আমাদের বলেছে আঘাত পেটে এজন্য আমরা বুকের ভেতরটা চিন্তা করিনি। পরে বুঝতে পেরে ৫মিনিটের মাঝেই শিশুটিকে আমরা রেফার করেছি ।
অপর দিকে নিহত শিশুর মা দাবী করেন আঘাত লাথির হলেও আমার ছেলে বেঁচে যেতে অলকেয়ার চিকিৎসা করাতে পারবেনা বল্লে কিন্তু তারা আমার ছেলেকে ভুল চিকিৎসা দিয়েছে সেটা সত্য।
এদিকে পোস্টমর্টেম ছাড়া শিশুকে কেন কবর দেয়া হলো এবং থানা প্রশাসনকে কেন জানানো হয়নি বললে নিহত শিশুর মা আর নানা বলেন -আমার ছেলে মারা গেল তাই তার যাতে আর কষ্ট না হয় সেজন্য চুপ করে আছি আর ঘাতকও আমার আপন চাচাত ভাই তো আর কি করার যা যাচ্ছে আমার অন্তর ফেটে যাচ্ছে! আর কি এটা বলে প্রতিবেদকের সামনে অঝোঁরে কেঁদে ফেলেন।
এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন তৌহিদরা পুরো পরিবার এই এলাকায় রোহিঙ্গা নিয়ে ত্রাস করে তৌহিদ ঢালাই মিস্ত্রী হওয়ার কারণে তার অধীনে অন্তত ২০০ রোহিঙ্গা কাজ করে এগুলো দিয়ে সে এলাকা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে তাই তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলবেনা।
অথচ!তৌহিদ কিছুদিন আগে পদুয়াা একটা ডাকাতির বিষয়ে গ্রেফতার হলে তাকে এলাকার এক প্রভাবশালী ছাড়িয়ে আনেন তার ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রন ও আছে কারণ তার আন্ডারে অনেক রোহিঙ্গা আছে।
এদিকে সাতকানিয়া থানার ওসি তদন্ত আবুল কালাম বলেন-বিষয়টা আমরা গুরুত্বসহকারে নজরে রাখছি এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ না করলেও আমরা বিষয়টা নিয়ে আগাচ্ছি।এদিকে ঘাতক তৌহিদ মাঝির ছোট ভাই সাইফুল বলেন, আমার ভাই পলাতক না সে সাইটে তবে আমার ভাই যে মারছে সেটা নিহত শিশু ইয়াসিন মারা যাওয়ার আগে মারেনি তাকে অলকেয়ারে নেয়ার আগে স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসক মিটু ডাক্তার নিকট নেয়া হয়েছিল তখনো আমার ভাইয়ের নাম বলেনি বলছে তার মা মারছে।এদিকে নিহত ইয়াছিনের মা বলতেছে আমার ছেলে যখন আহত অবস্থায় বাড়িতে এসে অস্বাভাবিক ভাবে চুপচাপ তখন আমি আমার ছেলেকে চিকন চোয়াঁ দিয়ে ২টা বারি মেরে স্বীকার করায়ছি মূলত কি হয়েছে সেটা বলার জন্য তখন আমার ছেলে আমাকে খুলে বললেই আমি ছেলেকে চিকিৎসার জন্য তোড়জোড় শুরু করি।
এদিকে ঘাতক তৌহিদের পিতা নুরুচ্ছাফা সওদাগর বলেন-দেখেন আমার নাতির ৪দিনের ফাতেহা দেয়ার জন্য আমি কলার কাঁধিও নিছি এসব সব ষড়যন্ত্র তৌহিদ আমার ছেলে যেটা মারা গেলো সেটা আমার আপন ভাইজীর ঘরে নাতি।ছেলেপেলারা খেলা করছে কোথায় পড়ছে পড়ে আঘাত পেলো সেটা ঠিক তবে আমার ছেলে তৌহিদ মারেনি তার কোন প্রমাণ নেই।এগুলো আমার জায়গাজমি নিয়ে যাদের সাথে ঝামেলা তারাই এসব রটাচ্ছে।তবে কে মারল কে মারেনি তা আমি জানিনা কিন্তু তার কথায়ও ওটা স্পষ্ট যে মৃত্যুটা আঘাতের।
এদিকে হাসমতের দোকানের একাধিক দোকানদার ঘটনার বিষয়ে জানলেও আসলটা বলতে পারবেননা কারণ তারা মুখ খুল্লে রাতে ঘুমাতে পারবেননা বলে এক ভিডিও বার্তায় আতংক প্রকাশ করেন।তবে স্থানীয়রা জানান প্রশাসন যদি যারা খেলায় অংশগ্রহণ করেছিল তাদের ধরলে বুঝা যাবে তৌহিদ প্রকাশ্যে লাথি মারছে কি না?
এমএসএম / এমএসএম
নাচোলে "প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায়" করণীয়, আর্থিক সহায়তা প্রদান ও পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত
রায়গঞ্জে জরাজীর্ণ ঘরের বাসিন্দা হাজেরা খাতুন পেলেন প্রশাসনিক সহায়তা
মৌলভী ধানাইড় সাইদুর রহমান নূরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত
বোদায় সরকারি সেবা প্রাপ্তিতে অনগ্রসরদের অধিকতর অন্তর্ভুক্তি শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
লামায় এনআইসি লেক গোল্ডকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের জমকালো উদ্বোধন
তেঁতুলিয়া থেকে পায়ে হেটে,টেকনাফে উদ্দেশ্যে টি এম খালিদ মাহমুদ প্রিজম
নন্দীগ্রামে সরকারী গাছ কাটা মামলার তদন্তকালে পুলিশের সামনেই বাদীকে হত্যা চেষ্টা
শতভাগ নিরপেক্ষ ভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবেঃ গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক
আক্কেলপুরে গণভোটে উদ্বুদ্ধকরণে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত
শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলের ৩৫টি গাছ প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি
সৌদি গিয়ে প্রাণ গেল পটুয়াখালীর প্রবাসী রফিকুলের
কেশবপুরে কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে খুলনার আদালতে যৌতুক ও নির্যাতনের মামলা