ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

যশোর জেলার শীতের ঐতিহ্য খেজুরের রস


মতিন গাজী, অভয়নগর photo মতিন গাজী, অভয়নগর
প্রকাশিত: ১১-১-২০২৪ দুপুর ৩:৩৩

যশোরের প্রতিটা উপজেলায় শীত এলেই গাছিরা ব্যস্থ হয়ে পড়ে খেজুর গাছ কেটে খেজুরের রস সংগ্রহ করার জন্য।দেশের অন্যান্য জেলার থেকেও যশোরের গুড় ও খেজুরের রস বিখ্যাত,গাছিরা খুঁজে খুঁজে, খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহে ব্যস্থ সময় পার করছেন এখন। জেলার বিভিন্ন রামগঞ্জে মোড়ে মোড়ে সাত সকালে বসে ছোট-বড় রসের মেলা।

প্রতি বছর শীতের মৌসুম এলেই এক সময়ে গ্রাম-বাঙলার ঘরে ঘরে খেজুরের রস দিয়ে খির,পায়েস, রসের গুড়, ভাঁপা পিঠা এবং গাড় রস তৈরি করে মুড়ি, চিড়া, খই ও চিতই পিঠাসহ হরেক রকম পিঠাপুলির মহাউৎসব চলত,এখন তেমন প্রচলন দেখা না গেলেও দেখা যায়,শীতের সকালে হাড় কাঁপানো মধ্য দিয়েও দাছীদের রস সংগ্রহ এবং রস জ্বালিয়ে রসের গুড় তৈরি করার দৃশ্য। 

শীত এলেই খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য বিশেষ পদ্ধতিতে গাছ কাটেন গাছিরা। হেমন্তের শুরুতেই গাছ কাটা শুরু হয় খেজুরগাছ থেকে রস বের করার উপযোগী করার জন্য। প্রথম গাছ কাটার পর দ্বিতীয়বার চাঁছ দিয়ে সেখানে বসানো হয় বাঁশ/কঞ্চির বিশেষভাবে তৈরির নলি। তার পাশে বাঁশের তৈরি ছোট শলাকা পোতা হয় ভাঁড়/কলস টাঙানোর জন্য। চোঁখ বেয়ে নলি দিয়ে রস পড়ে ভাঁড়ের ভেতরে। খেজুরগাছ কাটা ও তা থেকে রস বের করার মধ্যেও কিছু কৌশল আছে,চাইলেই যে কেউ ভালো করে গাছ কাটতে কিংবা রস বের করতে পারেন না খেজুর গাছ থেকে।

কিন্তু আগের মতো গ্রাম্য রাস্তার দুপাশে সারি সারি খেজুর গাছ আর নেই বল্লেই চলে। গ্রামের রাস্তাগুলো সংস্কার ও নতুন করে খেজুর গাছ রোপণে মানুষের আগ্রহের অভাবে বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুর গাছ ও যশোর জেলার খেজুরের রস ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। তবে এখনও রাস্তার আশেপাশে কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অনেক খেজুর গাছ। 

আগের মতো যেমন নেই খেজুর গাছ তেমন নেই গাছিও। তারপরও শীত এলেই শহর থেকে গ্রামে ছুটে আসেন প্রিয় জনেরা,কেননা শীতের সময় টাতেই গ্রামে তৈরি হয় খেজুরের রস দিয়ে রসের বিভিন্ন পিঠা। যা খেতে খুবই মজাদার। যারা খেজুরের রসের নাস্তার স্বাধ একবার পেয়েছে তারাই শীত এলে দুর দুরান্ত থেকে ছুটে আসে গ্রাম বাংলায়।  অনেকেই আবার প্রবাস  থেকে ছুটি কাটিয়ে শীতের এই সময় টাকে টার্গেট করে আসেন দেশে বা গ্রামে।

যশোরের খেজুরের রসের পাটালি গুড়েরও বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে। এই গুড় দিয়ে নানা রকম পিঠা তৈরি করা হয়। ভাপা, সিদ্ধপুলি, রসের চিতই এর মতো হরেক রকমের পিঠা সহ অরো অনেক মজাদার মজাদার খাবার। আর এই পিঠা বানানোকে ঘিরে শিশু-বৃদ্ধার বসে থাকার দৃশ্য বাংলার এক পুরনো সংস্কৃতিরই অংশ। মনে হয় শীত যতো বেশি, তাদের পিঠা খাওয়ার তৃপ্তি,আনন্দটাও ততো বেশি।কবি সুফিয়া কামাল বলেছিলেন-"পৌষ পবনে পিঠে খেতে বসে খুশিতে বিষম খেয়ে। বড় উল্লাস বাড়িয়াছে মনে মায়ের বকুনি খেয়ে" যুগ যুগ ধরে বহু পুরনো যশোরের এই ঐতিহ্য শীতের খেজুরের রস।

এমএসএম / এমএসএম

সম্পদ বিলিয়ে আজ অনুতপ্ত ৮৫ বছরের শামসুল, বললেন ‘ভুল করেছি’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাগেরহাটে আগমনকে ঘিরে বিএনপি ও সাধারণ কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা

পটুয়াখালীতে আনসারের উচ্চতর প্রশিক্ষণের সমাপনী : গণপ্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান মহাপরিচালকের

তরিকুল ইসলামের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শালিখায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

শিবগঞ্জে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিরোধপূর্ণ জমিতে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ

কালাইয়ে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ

বাউফলে ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজের এডহক কমিটির সভাপতিকে সংবর্ধনা

রৌমারীতে স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে ৫ দিন ধরে অনশন স্ত্রীর, বিচার প্রতারণায় পরিবার

নবীগঞ্জে মাদ্রাসাবিরোধী অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সমাবেশ

গুরুদাসপুরে কৃষকের বাড়িতে দফায় দফায় অগ্নিকাণ্ড, আতঙ্কে পরিবার

রায়পুরে চরবংশিতে ছুরিকাঘাত, বিএনপি নেতাসহ আহত ৪

বড়লেখায় ১৮ চা বাগানে শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনে প্রশাসনের প্রস্তুতি শুরু, ভোটার ৪ হাজার

আত্রাইয়ে ৫৬ জন শিক্ষার্থীকে পবিত্র কুরআনের সবক প্রদান