ঢাকা শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬

পদ্মা সেতু এড়াতে ফেরির বিকল্প রুট হতে পারে মৈনট-গোপালপুর


ফরিদপুর প্রতিনিধি  photo ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪-৮-২০২১ দুপুর ৩:৪২

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর পিলারে বারবার ফেরির ধাক্কা উদ্বেগে ফেলেছে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকে। এসব ধাক্কা কেবলই দুর্ঘটনা, নাকি ইচ্ছাকৃত, তা নিয়েও চলছে বিতর্ক। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ধাক্কা এড়াতে ফেরি চলাচলে রুট স্থানান্তরের কথা ভাবছে সরকার। এক্ষেত্রে ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের গোপালপুর ও ঢাকার দোহারের মৈনট ঘাটকে ফেরি চলাচলের বিকল্প রুট হিসেবে বিবেচনা করার দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী। বিগত সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন রুট পরিদর্শনের কথাও বলছেন তারা।

এলাকাবাসী বলছেন, গোপালপুর-মৈনটঘাট এলাকা পরিদর্শনের পর কার্যক্রম থমকে গেছে। এখন যেহেতু পদ্মা সেতুর পিলারে ধাক্কায় ফেরির রুট স্থানান্তরের আলোচনা সামনে এসেছে, সেক্ষেত্রে গোপালপুর-মৈনটকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের গোপালপুর থেকে ঢাকার দোহার উপজেলার মৈনট রুটে বর্তমানে ফেরি ছাড়া লঞ্চ, ট্রলার, স্পিডবোটসহ অনেক নৌযান চলাচল করে। ফরিদপুরের নগরকান্দা, সদরপুর ও ভাঙ্গা উপজেলাসহ আশপাশের এলাকার হাজারো যাত্রী প্রতিদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গোপালপুর-মৈনট নৌরুট দিয়েই যাতায়াত করেন। এ নৌপথ দিয়ে যাত্রীরা স্পিডবোটে মাত্র ২০ মিনিটে পদ্মা নদী পার হতে পারেন। মৈনটে উঠেই যাত্রীরা ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ঢাকা পৌঁছাতে পারেন। এ অঞ্চলের ঢাকাগামী যাত্রীদের বেশিরভাগই গোপালপুর-মৈনটঘাট দিয়ে পদ্মা নদী পার হন।

এলাকাবাসী বলছেন, এ রুটে ফেরি চলাচল শুরু হলে ফরিদপুর ও ঢাকার পাশাপাশি সুফল ভোগ করবে গোপালগঞ্জ, নড়াইল, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও মুন্সীগঞ্জ জেলার কোটি মানুষ। বিশেষ করে এই রুট দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক জেলার সঙ্গে ঢাকার দূরত্ব কমিয়ে দেবে। এলাকাবাসী মনে করেন, এ রুট চালুর জন্য শুধু প্রয়োজন পদ্মা নদীতে ড্রেজিং, সংযোগ সড়ক চওড়া এবং ঘাট নির্মাণ করা।

এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গোপালপুর-মৈনট রুটে ফেরি চলাচলের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গত বছরের ৩১ জানুয়ারি এলাকা পরিদর্শন করেন তৎকালীন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব পংকজ কুমার। সেদিন তিনি জানান, এই রুটে ফেরি চলাচল শুরু হলে ঢাকার দোহার ও ফরিদপুরের যাতায়াত ব্যবস্থার আরো উন্নতি হবে। এছাড়া পদ্মা সেতু চালু হলে কোন রুটে ফেরি চলাচল সহজ হবে এ বিষয়েও আলোচনা করেন পংকজ কুমার। পরদিন ১ ফেব্রুয়ারি গোপালপুর-মৈনট এলাকা ঘুরে দেখে অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) একটি প্রতিনিধি দল। তাদের সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী)। পরে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় জরিপ করে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে এই রুটে ফেরি চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়।

ওই সময় নিক্সন চৌধুরী বলেন, ফেরিঘাটটি চালুকরণের বিষয়টি আমার নির্বাচনী ওয়াদা। পুরো প্রক্রিয়া শেষের পথে। আগামী মাস (মার্চ) থেকে সি-ট্রাক ও ৪-৫ মাসের মধ্যে ফেরি চালু হবে। এতদিন এ অঞ্চলের মানুষের যে ভোগান্তি হতো তা লাঘব হবে।

তবে ওই পরিদর্শন কার্যক্রমের পর করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রকোপ দেখা দেয় দেশে। তারপর থমকে যায় এই রুটে ফেরি চলাচলের আলোচনাও।

এই রুটে ফেরি চালুর ব্যাপারে চরভদ্রাসন উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মো. ফয়সাল হাসান শাওন বলেন, এপার ফরিদপুরের চরভদ্রাসন-গোপালপুর ‍আর অপর পার ঢাকার দোহার-কার্তিকপুর এলাকা। এ পারের যাত্রীরা নদী পার হয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা পৌঁছাতে পারেন। সেজন্য এ অঞ্চলের ঢাকাগামী বেশিরভাগ যাত্রী গোপালপুর-মৈনট ঘাট দিয়ে পদ্মা নদী পার হন।

ফয়সাল হাসান শাওন বলেন, এ রুটে ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা করলে প্রথমে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। অন্যদিকে দুই পারের মানুষেরও সময়-অর্থ সাশ্রয় হবে। উপকৃত হবে দুই পাশের ৮-১০ জেলার মানুষ। এমনকি গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, নড়াইলসহ বেশ কয়েকটি জেলা থেকে রাজধানীসহ পূর্বাঞ্চলের বাজারে পণ্য পাঠানোও সহজ হবে।

ইজারাদার হিসেবে গোপালপুর-মৈনট ঘাট পরিচালনা করেন দোহারের মাহমুদপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মো. আবুল কাশেম। তিনি  বলেন, ঘাটটি আমার মামা আব্দুল আলিম মৃধার নামে ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকায় ইজারা নেয়া। আমি এটি পরিচালনা করি। বছরখানেক আগে এমপি নিক্সন চৌধুরী ও বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা কয়েকবার এ ঘাট পরিদর্শন করেন। ড্রেজার দিয়ে বালু কাটাও শুরু হয়। তখন বেশ জোরালোভাবে শুনলাম এ পথে ফেরি চালু হবে। তারপর যে কেন বন্ধ হয়ে গেল তা বলতে পারব না।

চরভদ্রাসন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আজাদ খান বলেন, বিকল্প ফেরিঘাট হিসেবে এই রুট চালু করতে এলাকাবাসীর পক্ষে সরকারের কাছে বিনীতভাবে দাবি জানাই।

এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোতালেব মোল্যা  বলেন, গোপালপুর-মৈনটঘাট রুটে ফেরি চালু হলে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর পিলারের সঙ্গে ফেরির ধাক্কা এড়ানো যাবে। পাশাপাশি মানুষের সময় ও অর্থ বাঁচবে। ব্যবসায়ী ও কৃষকদের জন্যও বিপ্লব ঘটবে, কারণ চরাঞ্চলের অবহেলিত কৃষক কখনই তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান না। তিনি মনে করেন, দুই পাশের রাস্তা সংস্কার আর ফেরিঘাট স্থাপন করলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ রুটে ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা করা সম্ভব।

চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মাসুম রেজা বলেন, এটা একটা জাতীয় ইস্যু। আমি অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকলেও এ বিষয়ে আমার পক্ষে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) অতুল সরকার  বলেন, আগে ওখানে যাচাই-বাছাই করে দেখতে হবে ফেরি চালু করার উপযোগী কি-না। রাস্তাঘাটসহ অন্যান্য বিষয় সরেজমিন দেখে-জেনে-বুঝে তারপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী) বলেন, এ রুটে ফেরি চালুর বিষয়টি আমার নির্বাচনী একটা ওয়াদা। পুরো প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে। অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের জরিপসহ সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। সেজন্য ড্রেজিং করা, সংযোগ সড়কটি চওড়া ও ঘাট নির্মাণ করা প্রয়োজন। সে লক্ষ্যে ড্রেজিংয়ের কাজ শুরুও হয়েছে। সড়ক বিভাগ সংযোগ সড়কটি যত দ্রুত চওড়া করে দেবে তত তাড়াতাড়ি ফেরি চলাচল চালু করা সম্ভব হবে।

করোনা ভাইরাসের কারণে ফেরি চলাচল চালুতে দেরি হচ্ছে উল্লেখ করে নিক্সন চৌধুরী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নে বিশ্বাসী। বর্তমান পরিস্থিতি ‍এই এই রুটে ফেরি চলাচলের বিষয় নিয়ে সম্প্রতি নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফেরি চালু হবে।

পদ্মা সেতুর পিলারে ২৩ দিনের মধ্যে চারবার ধাক্কা খেয়েছে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের বাংলাবাজার রুটে চলাচলকারী ফেরি। সবশেষ শুক্রবার (১৩ আগস্ট) সকালে বাংলাবাজার ঘাট থেকে শিমুলিয়া ঘাটে আসার পথে কাকলী নামে একটি ফেরি সেতুর ১০ নম্বর পিলারে ধাক্কা দেয়। গত ৯ আগস্ট একই পিলারে ধাক্কা খায় আরেকটি ফেরি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ আগস্ট ওই নৌরুট এবং ঘাট এলাকা পরিদর্শনে যান নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। সেখানে তিনি জানান, বারবার ফেরির ধাক্কার পর সেতু এড়িয়ে ফেরি চলাচলের জন্য ঘাট স্থানান্তরের চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন পেলে ঘাট স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

দেশের এই স্বপ্নের সেতুর পিলারে প্রথমবার ধাক্কা লাগার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি সেতুর নিচ দিয়ে ফেরি চলাচল বন্ধের সুপারিশ করেছিল। এজন্য ঘাট স্থানান্তর করা দরকার বলেও মত দিয়েছিল তারা। ওই প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর আরো তিনবার ধাক্কা লাগার ঘটনা ঘটল।

এমএসএম / জামান

তারাগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

২ জনের মরদেহ উদ্ধার, ১১ জন জীবিত উদ্ধার, বাসে ছিল ৪৫ জন

রূপগঞ্জে জামদানী ভিলেজ প্রকল্প পরিদর্শনে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

ঈদ উপলক্ষে ঘুরতে গিয়ে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহত

ব্রিজ ভেঙে নদীতে পড়ল শতাধিক মানুষ, দুই সহোদরসহ ৪ শিশু নিহত

চাঁদপুরে শুটিং করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার শুটিং ইউনিট!

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ২০ কিলোমিটার যানবাহনের ধীরগতি

নবীগঞ্জে দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের পুরস্কার বিতরণ ও ইফতার মাহফিল

সান্তাহারে হাজারো যাত্রী নিয়ে দুর্ঘটনার কবলে নীলসাগর এক্সপ্রেস

বগুড়ার শেরপুরে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত

নড়াইলে গরীব, দুস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের নগদ অর্থ বিতরণ

ঈদে সাময়িক দর্শক বাড়লেও সারা বছর লোকসান টিকে থাকার লড়াইয়ে শ্রীমঙ্গলের সিনেমা হল

বগুড়ায় মাংস সমিতি’র ৭৭ লাখ টাকা নিয়ে জামায়াত নেতা উধাও