খুলনায় বেপরোয়া সন্ত্রাসীরা
খুলনায় বেড়েছে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। সন্ত্রাসীদের কাছে রয়েছে অবৈধ অস্ত্র। মহানগরীতে খুন, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা , চুরি, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে। জনমনে বিরাজ করছে আতঙ্ক। সেপ্টেম্বর থেকে চলমান সময় পর্যন্ত খুলনা মহানগরী জুড়ে ব্যাপক হারে বেড়েছে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। অধিকাংশ ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মাদক ব্যবসা এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলা এবং খুনের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এবং হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি একাধিক হামলার ঘটনা:
গত শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) রাত ৮ টার দিকে খুলনা মহানগরীর মিয়াপাড়া বন্ধনের মোড়ে হামলার ঘটনায় আকাশ নামে একজন গুলিবিদ্ধ হন। তার আগে বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) খুলনায় দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রেজা শেখ নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। তার একটি অঙ্গহানি হয়েছে এ হামলায়। এদিকে, ৯ই ডিসেম্বর মহানগরীর শেখ পাড়া এলাকায় সিরাজুল ইসলাম সুজন (৪৫) নামে একজনকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি আশংকা জনক অস্থায় ভর্তি আছেন। তার দুই দিন আগে শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) খুলনার রূপসায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক যুবক আহত হন। সে একজন মাছ কোম্পানির শ্রমিক। একই সপ্তাহে গত মঙ্গলবার (৩রা ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় এলাকায় মো. ইউনুছ (৩০) নামে একজনকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এদিকে, গত মাসের ২৯ শে নভেম্বর রাতে মহানগরীর টুটপাড়া এলাকায় সন্ত্রাসীরা এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বিএনপি নেতা আমিন মোল্লা বোয়িংকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে সন্ত্রাসীরা। গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার পর গত ৪ ঠা ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়াও গত দুই মাসে চুরি, ছিনতাই এবং দোকান লুটের মতো একাধিক ঘটনা ঘটেছে।
কেএমপি সূত্র জানায়, খুলনা মহানগরীতে অপরাধের প্রবণতা বেড়েছে। অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করছে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। অনেকে জামিনে বের হয়ে ফের চাঁদাবাজি এবং আধিপত্য বিস্তার শুরু করেছে। কিশোর গ্যাং গুলো চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সাথে ঘুরছে। সব ঘটনার এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িতদের তালিকা করা হচ্ছে। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বর্তমান গতিবিধি এবং কর্মকান্ড নজরে রাখা হচ্ছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় আড়াই মাসে হামলার শিকার হয়ে বেশী রোগী ভর্তি হয়েছে। খুলনার বিভিন্ন উপজেলা এবং আশে পাশের অঞ্চল থেকেও হামলায় আহত রোগী প্রতিনিয়িত ভর্তি হচ্ছে। পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ হামলা আধিপত্য বিস্তার এবং জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হয়েছে বলে জানা যায়।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, চলমান এই পরিস্থিতির লাগাম টানতে বিশেষ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ সদর দপ্তর। তারই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সময়ে খুলনায় অভিযান চালিয়ে মাদকের বড় চালান উদ্ধার করা হয়েছে। অনেক অপরাধীদেরকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, খুলনায় সন্ত্রাসীদের এবং মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম বেশি টুটপাড়া, পূর্ব বানিয়া খামার, জিন্নাহ পাড়া, হরিণটানা, নিরালা বিল এলাকা, জিরো পয়েন্ট, খালিশপুর, দৌলতপুর, বয়রা এং ফুলবাড়ীগেট এলাকা।
পুলিশ মাঠ পর্যায়ে তথ্য বিশ্লেষণ করে জানতে পেরেছে, খুলনায় সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসী কর্মকান্ড টুটপাড়া , জিন্নাহ পাড়া, বিশ্ব রোড, বানিয়াখামার , শেখ পাড়া এবং বয়রা এলাকা জুড়ে বেশী হচ্ছে।
অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীগুলো ঠিকমতো জোরালো ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অপরাধীচক্রগুলো এর সুযোগ নিচ্ছে। যার ফলে অপরাধ কর্মকান্ড বেড়েই চলেছে।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দরা এক বিবৃতিতে জানান, গত চার মাস খুলনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি দৃশ্যমান হচ্ছে। নগরীর রূপসা, চাঁদমারি, লবণচরা, আড়ংঘাটা, দৌলতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই অস্ত্রধারীদের মহড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। গুলি করে কিংবা কুপিয়ে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। কিন্তু পুলিশের তৎপরতা দৃশ্যমান হচ্ছে না। অবিলম্বে পুলিশকে সন্ত্রাসীদের প্রেপ্তারে তৎপর হওয়ারার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দরা।
খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মুনীর উল গীয়াস বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সদর থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে। রাতে একাধিক টহল টিম মাঠে থাকে। পুলিশের ওপর হামলায় পুলিশ সদস্যদের মনোবল ভেঙ্গে পড়েছে। তবে পুলিশ বাহিনী ঘুরে দাড়িয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো: জুলফিকার আলী হায়দার জানান, সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনের সকল চেষ্টা চালানো হচ্ছে। মহানগরীতে রাতে পুলিশি নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় চেকপোষ্ট বসানো হয়েছে। অধিকাংশ অভিযানে পুলিশ সফল হয়েছে।
T.A.S / T.A.S
কেশবপুরে বিভিন্ন স্থানে ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযানে কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা
চন্দনাইশে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে র্যালী ও মহড়া অনুষ্ঠিত
নেত্রকোণায় শ্রেষ্ঠ সার্জেন্ট ত্রিশালের সন্তান আসাদুজ্জামান সুমন
মান্দায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা
তারাবির নামাজ চলাকালে মাদ্রাসায় আগুন, বেঁচে গেলেন শতাধিক শিক্ষার্থী
বাবুগঞ্জে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০২৬ উদযাপন
গোদাগাড়ীতে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে র্যালি ও অগ্নিনির্বাপন মহড়া
দুবাইয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত সালেহ উদ্দিনের পরিবারের পাশে সরকার, জানাযায় মন্ত্রী
টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম: কাগজে-কলমে কেনাকাটা, বাস্তবে শূন্য বিদ্যালয়
ফটিকছড়ির সাবেক প্রধান শিক্ষককে মারধর ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
রায়গঞ্জে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবসে র্যালি ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি
কুড়িগ্রামে ৪০ হাজার পিস মেট্রোনিডাজল ট্যাবলেট ও ১৮টি ওয়েট মেশিন পাচারের সময় স্টোর কিপার আটক