বাঙালি নদীর ভাঙনের মুখে শেরপুরের ১০ গ্রাম
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার একটি বড় অংশ চলতি বর্ষা মৌসুমে বাঙালি নদীর অব্যাহত ভাঙনের কবলে পড়তে পারে। উপজেলার ঝাঁজর, বিলনোথার, নলডিঙ্গিপাড়া, চক খানপুর, গজারিয়া, বড়ইতলী, চকধলী, চককল্যাণী, কল্যাণী, আওলাকান্দি, বিনোদপুর, জোরগাছাসহ আরো কয়েকটি এলাকার ফসলি জমি ও বাড়িঘর অনেকটাই বিলীনের পথে।
সুঘাট ইউনিয়নের চক কল্যাণী গ্রামে সরেজমিন দেখা যায়, বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে নদীপাড়ের বসতিদের মাঝে। নদীভাঙনের কারণে বসতবাড়ি সরানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তারা। ইতোমধ্যেই কয়েকটি বাড়ি, ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ও রাস্তাঘাট বাঙালি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অথচ বাঙালি নদীর কোথাও কোনো স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি।
বাঙালি নদীর ভাঙনে সর্বস্ব হারানো চক কল্যাণী গ্রামের নজরুল, বক্কার, ছামসুল, মজিদ, মহির উদ্দিন, মফিজ বলেন, আমরা গত ৪ বছর যাবৎ নদীভাঙনের কবলে পড়ে বসতবাড়ি হারিয়েছি। এবারো নদীভাঙনের কবলে পড়েছি। নদীভাঙনের ফলে আমরা সংসারের ঘাটতি থেকে উঠতে পারছি না। এত পরিশ্রম করে চাষাবাদ করেও যদি নদীভাঙনের কারণে ঘাটতি থেকে না উঠতে পারি তাহলে কিভাবে আমরা চলব? আমাদের বসতবাড়ি ও গ্রামগুলো রক্ষার জন্য সরকারের কাছে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
বাঙালি এবং করতোয়া নদীর তীর সংরক্ষণের টেন্ডার হয়েছে বেশ কিছুদিন আগে। তার পরও শুরু হয়নি কাজ। বগুড়ার শেরপুরে আজও শুরু হয়নি বাঙালি নদীর তীর সংরক্ষণের কাজ। ফলে বাঙালি নদীর অব্যাহত ভাঙনে বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। অপরদিকে এক শ্রেণির মুনাফালোভী বালু ব্যবসায়ী শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু তোলার কাজ অব্যাহত রেখেছে। এতে নদীপড়ের মানুষগুলো বাড়ি-ঘর হারানোর আশংকায় দিনাতিপাত করছেন। বিষয়টি প্রশাসনের গোচরে দেয়া হলে যদিও তারা প্রায়ই ভ্রাম্যমাণ আদালতে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তবুও বেপরোয়া তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার সোনাতলা, সারিয়াকান্দি, ধুনট ও শেরপুর উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বাঙালি নদীর ১৯ কিলোমিটার এলাকায় ২২টি লটে নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ করা হবে। এছাড়াও সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ওই নদী খনন করা হবে বলে জানা গেছে। এজন্য সরকারের ব্যয় হবে ৩২০ কোটি টাকা। এ কাজের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ১৫ কোটি টাকা। ইতোমধ্যেই বগুড়ার ওই ৪ উপজেলায় নদীর তীর সংরক্ষণের জন্য সিসি ব্লক নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এখনো পর্যন্ত শেরপুর উপজেলায় নদী খননের কাজ শুরু হয়নি বলে সরেজমিন দেখা গেছে। এদিকে বাঙালি নদীর অব্যাহত ভাঙনে চলতি বর্ষা মৌসুমে শেরপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান জানান, বগুড়ার অংশে ১৯ কিলোমিটার বাঙালি নদীর ভাঙন রোধে তীর সংরক্ষণ ও নদী খননের কাজ বগুড়ার ধুনট উপজেলা থেকে শুরু হয়েছে। নদী খননের কাজ হবে আগে। সেনাবাহিনী নদী খননের কাজ তদারকি করবে। নদীর তীর সংরক্ষণের কাজের জন্য ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা সিসি ব্লক তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বন্যার পানি নেমে গেলেই খননকাজ বা তীর সংরক্ষণের কাজ শুরু হবে।
এমএসএম / জামান
রেলওয়ে সমবায় ঋণদান সমিতির নির্বাচন বাতিল
বিএসসিতে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, ইউসুফ-জিয়াসহ ৪ জনকে মন্ত্রণালয়ের শুনানিতে তলব
হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, সারজিসসহ আহত অনেকে
জনগনের উপরে যারা ক্ষমতা দেখান তারা জনগনের শত্রু, দেশের শত্রু, সরকারের শত্রু : জহির উদ্দিন স্বপন
বারহাট্টায় মাদক বিরোধী ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত
কুমিল্লায় প্রায় ৫২ কোটি টাকার উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ধ্বংস করল বিজিবি
মানিকগঞ্জে সোহান হত্যা মামলায় দুই জনের মৃত্যুদণ্ড
ধামরাইয়ে পানিতে ডুবে ৭বছরের শিশুর মৃত্যু
লামায় জেলা পরিষদ কর্তৃক কৃষকদের মাঝে ফলজ ও বনজ চারা বিতরণ
উপকূলের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে শ্যামনগরে ১০ লাখ বীজ রোপণ উদ্যোগ
কৃষিপণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: কৃষি মন্ত্রী
চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য মিটিং অনুষ্ঠিত