নেছারাবাদের মিয়ারহাট বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি, নিঃস্ব ব্যবসায়ীরা
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মিয়ারহাট বন্দরের মাছ বাজার সংলগ্ন এলাকায় আজ ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে প্রায় ৫০টিরও বেশি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়, যার ফলে ক্ষতির পরিমাণ শত কোটি টাকারও বেশি বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বরিশাল, বানারীপাড়া, পিরোজপুর, কাউখালী ও নেছারাবাদ ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট টানা তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালায়। তবে সৌভাগ্যক্রমে এই অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্থানীয় এক ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ীর দোকানে থাকা ডিম ফুটানোর মেশিন থেকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে আমির হোসেন জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত দোকানে ছুটে যান তিনি। কিন্তু ততক্ষণে তার দুটি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়, এতে তিনি প্রায় ১ কোটি ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
মিয়ারহাট বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাদল বেপারী বলেন,
"আমরা বহুবার সরকারের কাছে মিয়ারহাট বন্দরের জন্য একটি অগ্নিনির্বাপক পাম্পসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহের আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু প্রতিবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বারবার অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়ে ব্যবসায়ীরা সর্বস্ব হারাচ্ছেন। এবারও প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন জানান,"খবর পেয়েই আমরা দ্রুত পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠাই। টানা তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।"
তিনি আরও জানান, সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ে একটি নৌ-ফায়ার স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই প্রকল্পের আওতায় ডুবুরিদলসহ একটি সম্পূর্ণ ফায়ার স্টেশন স্থাপনের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে, যা প্রক্রিয়া দিন রয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিনুল ইসলাম আশ্বাস দিয়ে বলেন,
"সরকারি সব দপ্তরের সমন্বয়ে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে আছি। তাদের পুনরুদ্ধারে সহায়তা ও প্রয়োজনীয় অনুদান পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা আবার ঘুরে দাঁড়িয়ে পুনরায় ব্যবসা ফিরে আসতে পারেন ।"
এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান ও সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ে একটি ফায়ার স্টেশন স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
এমএসএম / এমএসএম
সিদ্ধিরগঞ্জে ভ্যাট ফাঁকির তথ্য সংগ্রহ করায় সাংবাদিককে হুমকি, ৪ দিনেও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ
হীরাঝিল আবাসিক এলাকা সমাজ কল্যাণ সমিতি নিয়ম বহির্ভূত কমিটি গঠনের অভিযোগ
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে লোহাগড়ায় দুই খাল পুনঃখনন উদ্বোধন, ১.১৩ কোটি টাকার প্রকল্প
আত্রাইয়ে গ্রামীণ সড়কের কোর রোড নেটওয়ার্ক ও সড়ক অগ্রাধিকার নির্ধারণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
ঘোড়াঘাটে গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
নবীগঞ্জে দিনদুপুরে পিস্তল ও রামদা দেখিয়ে একই দিনে দুই শিক্ষিকার স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই
কুতুবদিয়ায় প্রেমিকের বাড়ির সামনে বিষপান: চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রেমিকার মৃত্যু
যশোরে ‘মামলাবাজ’ চক্রের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
মহেশখালীতে মাদকবিরোধী মোবাইল কোর্ট, যুবকের কারাদণ্ড
কুড়িগ্রামে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত
পাঁচবিবিতে হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
রাঙ্গামাটিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেল ৩৮ জন যাত্রী