কাপ্তাইয়ের পাহাড়ে আনারস চাষে সফলতা
আনারস চাষের জন্য পার্বত্য জেলা রাঙামাটির খ্যাতি রয়েছে সারাদেশ জুড়ে। প্রতিবছরই এই জেলার উৎপাদিত আনারস স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রয় হয়ে থাকে। স্বাদে, গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় এসব আনারস কমবেশি সকলের কাছে জনপ্রিয় হয়ে থাকে।
মৌসুমী ফল হিসেবে পরিচিত এই আনারস বর্তমানে রাঙামাটির হাটবাজারে গেলেই চোখে পড়ছে। আগামজাতের আনারস গুলো বাজারে আসলেও এখনো কিছু কিছু জাতের আনারস গাছে রয়েছে। আস্তে আস্তে পরিপক্ক হওয়ার তা বাজারে আনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন চাষীরা।
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় একসময় আনারস চাষ কম হলেও চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে এর চাষ বাড়ছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হরিণছড়া, ব্যাঙছড়ি, চাকুয়া পাড়া, চিৎমরম, কারিগড়পাড়া, তিনছড়ি, রাইখালী, ওয়াগগা ও মুরালী এলাকা সহ প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে বর্তমানে আনারসের চাষ হচ্ছে। এছাড়া গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচি আওতায় উপজেলার স্থানীয় কয়েকজন কৃষককে ১১ হাজার ২শত ৫০ পিস এমডি-২ সুপার সুইট নামক উন্নত জাতের আনারসের চারা বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয় জাতের আনারস চারা এখানে বেশি চাষ হয়। কৃষি বিভাগ থেকে এই চাষীদের বিভিন্ন সহযোগিতা করা হয় এবং প্রতিটি বাগান পরিদর্শন করে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকে।
সম্প্রতি উপজেলার কয়েকটি আনারস বাগানে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি আনারস গাছে ফল এসেছে। যেগুলো পরিপক্ক বা লাল হলেই কৃষকরা চিহ্নিত করে তুলছেন। এসব আনারস তারা বাগান থেকে নিয়ে গিয়ে স্থানীয় বাজারে বিক্রয় করে থাকেন। আবার অনেকে দুর দুরান্ত থেকে এসে পাইকার দরে আনারস ক্রয় করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা হলে তারা জানান, রাঙামাটির নানিয়ারচর, সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আনারসের চাষ হয় জানতাম। তবে আমরা আনারসের চাহিদার কথা শুনে কৃষি বিভাগের সহায়তা নিয়ে কাপ্তাইয়ের পাহাড়ী অঞ্চলে আনারসের চাষ শুরু করেছি। কারণ পাহাড়ি এলাকার জমিতেই আনারসের ভালো ফলন হয়ে থাকে। এসব আনারস খুচরা বাজারে আকারভেদে প্রতি পিস ৩০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০,৭০ টাকাও বিক্রয় করা হয়। এছাড়া পাইকার দরে কিনলে আরো কিছুটা কম মূল্যে পাওয়া যায়। পাহাড়ের এসব আনারসের আরেকটি ভালো দিক হচ্ছে এসব আনারস খেতে রসালো, টক- মিষ্টি ও সুস্বাদু হয়। তাই এই ফলটি ছোটবড় সকলের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
পাহাড়ের এসব আনারস ক্রয় করে শহরে নিয়ে বিক্রয় করা কয়েকজন পাইকার ক্রেতার সাথে কথা হলে তারা জানান, এসব আনারসের কদর সারাদেশেই রয়েছে। বিশেষ করে মাহেরমজান মাসে বিপুল পরিমাণ আনারস শহরে নেওয়া হয়েছে। প্রতিবছরই এসব আনারস শহরে নেওয়ার জন্য ক্রয় করা হয়ে থাকে। এতে বেশ লাভবান হওয়া যায় এবং শহরে আনারসের চাহিদাও মেটানো সম্ভব হয়।
কাপ্তাই উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ ইমরান আহমেদ জানান, আনারস অত্যন্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ ও ঔষধি গুণসম্পন্ন রসালো ফল। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, ম্যাঙ্গানিজ ছাড়াও অসংখ্য পুষ্টি উপাদান ও মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় এন্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। আনারসে থাকা ডায়াটারি ফাইবার কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আনারস উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, আর্থরাইটিস, ক্যান্সার ও বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। এই ফলটি পার্বত্য অঞ্চলে বেশ ফলন হয়ে থাকে। কাপ্তাই উপজেলায়ও আনারস চাষ বৃদ্ধির জন্য কৃষি বিভাগ কাজ করছে। এছাড়া বর্তমানে আনারস চাষীদের নানাভাবে সাহায্য সহযোগীতা করা হচ্ছে। আগামীতেও যেন আনারস চাষ আরো বৃদ্ধি করা যায় সেই লক্ষে উদ্যোগ গ্রহন করা হবে।
এমএসএম / এমএসএম
ধুনটে সড়ক নির্মাণকাজ ঘুরে দেখলেন এমপি পুত্র আসিফ সিরাজ রব্বানী
বগুড়া-৬ আসনে বিপুল ভোটে বিএনপির বাদশা জয়ী
মাদারীপুর পৌরসভায় প্রকল্প বাস্তবায়নে আরইউটিডিপি কর্মশালা সম্পন্ন
বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, নিয়মিত করদাতাদের জন্য সহজ সুবিধা
গোদাগাড়ীতে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা
ভূরুঙ্গামারীতে ৪৭ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠান
বিলাইছড়িতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা
চাঁদপুরে মাদকসহ সরঞ্জামাদি জব্দ, একজনের কারাদণ্ড
গোদাগাড়ীতে আদিবাসী নারী ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ১
বকশীগঞ্জে নবাগত ইউএনও’র সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়,
তেঁতুলিয়ায় পুলিশের মাথা ফাটিয়ে পলাল গরু চোর
কটিয়াদীতে অবৈধ জ্বালানি তেল মজুদে এক ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা