ঢাকা মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা , বন্ধ আছে গর্ভবতী নারীদের অস্ত্রোপচার


রাজেশ ভৌমিক (শ্রীমঙ্গল) photo রাজেশ ভৌমিক (শ্রীমঙ্গল)
প্রকাশিত: ২২-৪-২০২৫ বিকাল ৫:১১

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের জনবল সংকটের কারণে  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা৷ নামে ৫০ শয্যা হাসপাতাল হলেও ৫০ শয্যা হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় রোগীদের চিকিসা সেবা দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে চিকিসকদের।৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি জনবল সংকটের কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে।

স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৩ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও মাত্র ১০ ডাক্তার দিয়ে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। সাব এসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসাররা প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছেন রোগীদের। সামন্য রোগ নিয়ে আসা রোগীদেরকেও চিকিৎসার জন্য পাঠানো হচ্ছে জেলা হাসপাতালে। ডাক্তার ছাড়াও বিভিন্ন পদ শুন্য থাকায় চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, 
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের গড়ে প্রতিদিন জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন শ্রীমঙ্গল প্রায় ৯০ জন রোগী, আউটডোরে বিভিন্ন রোগ নিয়ে চিকিৎসা সেবা নেন প্রায় ৩০০ জন আর হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ৪০ জন রোগী ভর্তি থাকেন৷  হাসপাতালে জুনিয়র কনসালটেন্ট (বিষয়হীন) ৬ জন থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ১ জন আর মেডিকেল অফিসার/সহকারী সার্জন ৭ জনের জায়গার রয়েছেন মাত্র ১ জন। সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে শূন্য রয়েছে ৭টি, ফার্মাসিস্ট পদে শূন্য রয়েছে ১টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (এসআই) পদে শূন্য রয়েছে ১টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফী) পদে শূন্য রয়েছে ১টি, পরিসংখ্যানবিদ পদে শূন্য রয়েছে ১টি, কার্ডিওগ্রাফার পদে শূন্য রয়েছে ১টি, কম্পিউটার অপারেটর পদে শূন্য রয়েছে ১টি, অফিস সহকারী কাম ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে শূন্য রয়েছে ১টি, স্বাস্থ্য সহকারী পদে শূন্য রয়েছে ৪টি, হেলথ এডুকেটর পদে শূন্য রয়েছে ১টি, অফিস সহায়ক পদে শূন্য রয়েছে ২টি, ওয়ার্ড বয় পদে শূন্য রয়েছে ২টি, আয়া পদে শূন্য রয়েছে ১টি, বাবুর্চি পদে শূন্য রয়েছে ১টি এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে ৩টি পদ শূন্য রয়েছে। 
হাসপাতালের এক্সরে মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন ও ইসিজি মেশিনটি অকেজো পড়ে আছে।
এ ছাড়া চিকিৎসক সংকটের কারণে উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ৪জন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারকে দিয়ে ইমার্জেন্সি ডিউটি করানো হয়। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে তৃণমূলে স্বাস্থ্য সেবাও।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের ২য় তলায় অবস্থিত নারী, শিশু ও পুরুষ ওয়ার্ডের কোন সিট খালি নেই৷ হাসপাতালের ডাক্তারদের চেম্বারের বাহিরে রোগীদের দীর্ঘ লাইন। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পরিবর্তে সাব এসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসাররা প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছেন রোগীদের। 
বহিঃবিভাগে ডাক্তার দেখাতে আসা রোগীরা কাঙ্খিত চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ডাক্তারের নাম লিখা রুমগুলোর বেশীরভাগেই ডাক্তারের উপস্থিতি নেই। সিনিয়র স্টাফ নার্স ও কমিউনিটি মেডিকেল অফিসাররা বহিঃবিভাগে আসা রোগীরের চিকিৎসা দিচ্ছেন।
ইকবাল হোসেন নামে একজন বলেন, প্রায় ২ ঘন্টা ধরে আমার বাচ্চাটারে নিয়ে আছি। বাচ্চার কানের সমস্যা। এখানে কানের ডাক্তার নাই। 
সিরাজ মিয়া নামের একজন বলেন, আমার স্ত্রী গর্ভবতী। এখানে আজ এসে জানলাম গাইনী ডাক্তার কেউ নাই। আমরা গরীব মানুষ প্রাইভেট ডাক্তার দেখানোর টাকা নাই। এখন অন্য কোন ডাক্তার দেখিয়ে যাবো। তাই এখনো বসে আছি। 

সেবা নিতে আসা বিদ্যাবিল চা বাগানের ধনঞ্জয় বাউরী সকালের সময়কে বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে শ্বাস কষ্টে ভুগছি। সকাল থেকে এসে হাসপাতালে দাড়িয়ে রয়েছি। চিকিৎসকের তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি তাই র্দীঘক্ষন অপেক্ষা করছি। এর আগে এমন কখনো হয়নি। কয়েক মাস ধরে হাসপাতালের অবস্থা খুব নাজুক হয়ে পড়েছে।

রাহেলা আক্তার নামে এক নারী বলেন, সকাল ১০ টায় হাসপাতালে আইছিলাম। এখনো দেড় ঘন্টা ধরি লাইনে দাড়ানি আছি। অসুস্থ শরীর নিয়া আইয়া আরো অসুস্থ হয়ে যাবে। অনেক মানুষের ভিড়। 
হাসপাতালে ভর্তি থাকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, হাসপাতালে তিন দিন ধরে ভর্তি আছি। নার্স রা আসেন বার বার, ডাক্তার খুব কম আসে। এখানে বিদ্যুৎ গেলে ফ্যান বন্ধ থাকে। অন্ধকার থাকে। খুব অসস্থি লাগে। টয়লেট এর অবস্থা খুবই খারাপ। 

হাসপাতালে রোগী দেখাতে আসা একাধিক রোগী ও রোগীর স্বজন সকালের সময়কে জানান, হাসপাতালে এখন এমবিবিএস ডাক্তার কম। সিনিয়র স্টাফ নার্সরাই রোগী দেখেন। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই বললেই চলে। হাসপাতালে রোগীরা কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না। সব  ওষুধও পাওয়া যাচ্ছে না। সেবার মানও খুবই খারাপ। সামান্য রোগেও জেলা হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হয়।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিনিয়র নার্স বলেন, প্রায় ২০ -২৫ দিন ধরে গাইনি চিকিৎসক নেই। হাসপাতালে সিজার বন্ধ, গাইনি ডাক্তার না থাকায় গর্ভবতী নারীরা এসে ঘুরে যান। আমাদেরও এটা খারাপ লাগে।  ডাক্তার ও নার্সের সংখ্যা রোগীর তুলনায় কম হওয়ায় আমরা খুবই চাপের মধ্যে আছি। আমাদের অভারটাইম ডিউটি করতে হয়, একসাথে অনেক রোগীকে চিকিসা দেওয়া কষ্ট হয়ে যায়। রোগীর স্বজনদের সাথেও এ নিয়ে ঝামেলা হয়। আমরা সর্বোচ্চ কাজ করেও রোগীর মন রক্ষা করতে পারছি না। এভাবে চলতে পারে না৷ রোগীরা ভালো সেবা না পেলে আমাদের বদনাম হবে। দ্রুত জনবল নিয়োগ প্রয়োজন। 
জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, মানুষ কত ধরনের রোগ নিয়ে আসে। আমরা এখন শুধু প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি৷ মৌলভীবাজার রেফার করে দিচ্ছি। 

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন সকালের সময়কে বলেন, ৫০ শয্যার জনবল না থাকায় প্রচুর চাপ যাচ্ছে। ২৩ জন চিকিৎসক এর জায়গায় আছে মাত্র ১০ জন। প্রচুর রোগী চিকিৎসা নিতে আসছে। 
জনবল চেয়ে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়েছি। জনবল নিয়োগ হলে রোগীদের আরও ভালো সেবা দেওয়া যাবে। হাসপাতালে জেনারেটর থাকলেও তেল বরাদ্ধ না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

এমএসএম / এমএসএম

মাগুরা এলজিইডিতে তাসমিন আক্তারকে ফুলেল শুভেচ্ছা

নেত্রকোণায় অবৈধ মজুতের ৪ হাজারের বেশি লিটার ডিজেল জব্দ

পটুয়াখালীতে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান

ধুনটে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে ইউএনও, দ্রুত কাজ শেষের নির্দেশ

বাঁশখালীতে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করে সরকারি স্কুল বন্ধের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

দাউদকান্দিতে ছাত্রদল নেতা মুক্তার প্রধানের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি, সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে প্রশংসা

পটুয়াখালীতে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত: বিজ্ঞানভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের আহ্বান

পাথরঘাটায় সাবেক মেয়রসহ ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঠিকাদারের মামলা

রায়গঞ্জে তিন পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেফতার

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু

রায়গঞ্জে নববর্ষের গামছা তৈরির ধুম, তাঁতঘরে বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য

মোহনগঞ্জে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন ঘিরে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ইলিশ ধরার সাথে জড়িত জেলে সহ সকলকেই ভূমিকা রাখতে হবে: মন্ত্রী