খানসামার আলোকঝাড়ী ভূমি অফিসে ঘুষের বাণিজ্য

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সাধারণ ভূমি মালিকদের কাছ থেকে ঘুষের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। অনলাইনে প্রদর্শিত ভূমি উন্নয়ন করের পরিমাণের সঙ্গে বাস্তব অফিসে গিয়ে জানানো টাকার অমিল শুধু নয়, অভিযোগ রয়েছে—ঘুষ না দিলে হয়রানি এবং ফাইল আটকে রাখার হুমকিও দেওয়া হয়।
গত বুধবার (২৮ মে) দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার বাসুলী মৌজার ১৮৬৭ নম্বর খতিয়ান ও ১৮৭০ নম্বর হোল্ডিং-এর অনলাইন যাচাইয়ে দেখা যায়, ভূমি উন্নয়ন কর বকেয়া মাত্র ৪০ টাকা। কিন্তু পরদিন বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সকালে ভূমি মালিক সরাসরি আলোকঝাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে দাবি করা হয়, কর ১০,১৩৬ টাকা।
এ নিয়ে অনুসন্ধানে নামে একজন সাংবাদিক।ছদ্মবেশে ভূমি মালিক পরিচয়ে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক-এর সঙ্গে যোগাযোগ করলে আলোচনার ভিত্তিতে ৮ হাজার টাকার ঘুষে চুক্তি হয়।সেই টাকা দেওয়ার পরে হঠাৎ করেই করের পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ৩,২৬৪ টাকা!
উপজেলার বাসুলী মৌজার ১৩৭৭ নম্বর খতিয়ান ও ১৪৫৯ নম্বর হোল্ডিং-এর মালিক ইয়াকুব আলী, মিজানুর রহমান ও হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন—তারা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের খাজনা পরিশোধ করেও অনলাইনে দেখায় বকেয়া মাত্র ৫০ টাকা। কিন্তু অফিসে জানানো হয়, তাদের সর্বশেষ পরিশোধ হয়েছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছরে।এতে ৮ বছরের বকেয়ার অজুহাতে দাবি করা হয় ২,০০৮ টাকা। এ বিষয়ে মিজানুর রহমান বলেন,“এই অফিসে ঘুষ না দিলে শান্তিতে খাজনাও দেওয়া যায় না। আমাদের সঙ্গে রীতিমতো দুর্ব্যবহার করা হয়েছে।”অন্য এক ভূমি মালিক সুজন ইসলাম জানান,“অনলাইনে কর দেখাচ্ছিল ৬০ টাকা, কিন্তু অফিসে গিয়ে জানায় ৩ হাজার না দিলে ফাইল হবে না। বাধ্য হয়ে টাকা দিই। পরে দেখি, খাজনার দুইটা চেক দিয়েছে ১৫০ টাকা করে, মোট ৩০০ টাকা। অথচ ৪ হাজার টাকা নিয়েছে আমার কাছ থেকে!” তিনি আরও বলেন,“এটা সোজাসাপ্টা চাঁদাবাজি, সরকার যেখানে ডিজিটাল সেবার কথা বলে, সেখানে অফিসে এসে ৬০ টাকার জায়গায় ৪ হাজার টাকা দিতে হয়!”ভূমি ডিজিটাল সেবার উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের হয়রানি রোধ ও ঘুষমুক্ত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।কিন্তু আলোকঝাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এই অভিযোগগুলো ডিজিটাল উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এই ঘটনা শুধু একটি অফিস নয়, বরং গোটা প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাকে নড়বড়ে করে তুলছে।
একটি দেশের নাগরিক যখন অনলাইনে নিজের খাজনার হিসাব দেখে নিশ্চিন্ত হয়, তখন সেই তথ্য যদি স্থানীয় কর্মকর্তার মর্জিতে বদলে যায় এবং ঘুষ দিয়ে সেটা ঠিক করতে হয়—তাহলে সেটাকে আর প্রশাসনিক ভুল বলা যায় না, সেটা পরিকল্পিত দুর্নীতি। ভূক্তভোগীরা এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর ভাষায়,“ঘুষ ছাড়া খাজনা দেওয়া যায় না—এ কেমন প্রশাসন?” তারা সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসক, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এই ব্যাপারে অভিযুক্ত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক-এর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, “অনলাইনে সবসময় সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। অনেক সময় অফিস থেকে ভেরিফাই করতে হয়। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”এই প্রসঙ্গে খানসামা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কেউ সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ দিলে আমরা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব। ভূমি অফিসে হয়রানি বন্ধে আমরা বদ্ধপরিকর।”
এমএসএম / এমএসএম

গাজীপুরে অন্তহীন অভিযোগে অভিভাবকদের তোপের মুখে প্রধান শিক্ষক!

ভূঞাপুরে টাইফয়েড টিকাদান বিষয়ে ওরিয়েন্টেশন সভা

রাণীশংকৈলে পুলিশের ওপেন হাউস ডে অনুষ্ঠিত

সবুজে ঢেকে যাক কালকিনি: পরিবেশ রক্ষায় আনসার-ভিডিপি’র অঙ্গীকার

অভয়নগরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা

শ্রীমঙ্গলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত -১

তানোরে ব্যাক ডেট ও জালিয়াতি নিয়োগের তদন্তে হাজির হননি ভারপ্রাপ্ত অধ্যাক্ষ

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে স্কুল শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন

চট্টগ্রামে নেক্সাস ফেস্ট-২০২৫ সম্পন্ন

পিআর পদ্ধতিতে ভোট হলে মনোনয়ন বাণিজ্য বন্ধ হবে: জামায়াতের অধ্যাপক মজিবুর রহমান

শ্রীপুরে পরিবেশ বিপর্যয় রোধে করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা

অনার্সের খাতা দেখেন কলেজ হোস্টেলের গার্ড !
