রামুতে শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহীন ডাকাত গ্রেপ্তার
কক্সবাজারের রামুর শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহীনুর রহমান ওরফে শাহীন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী। বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সকাল ১০ টার সময় রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের জাউচপাড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে সেনাবাহিনী পক্ষ থেকে গর্জনিয়া এলাকায় প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
রামু উপজেলার পূর্বাঞ্চলের অস্ত্র, গরু, মাদক চোরাচালানসহ বহু মামলার আসামি, শাহীনুর রহমান শাহীন ওরফে ডাকাত শাহীনের আস্তানায় ২৫ মে অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। ঐ অভিযানে অস্ত্র, মাদক, জাল টাকা ও ওয়াকিটকি উদ্ধার হলেও কৌশলে পালিয়ে যান ডাকাত শাহীন।
পুলিশ সঃত্রে জানা যায়, সিআর ও জিআর মামলা এবং জিডিসহ প্রায় ১৯ মামলার পলাতক আসামি ডাকাত শাহীন। তার মামলার মধ্যে ৯টি ডাকাতি, ডাকাতি প্রস্তুতি ও ছিনতাই, ৪টি হত্যা মামলা, দুটি অস্ত্র মামলা, দুটি মাদক মামলা এবং বাকিগুলো বিভিন্ন থানায় জিডি হিসেবে রয়েছে।
বান্দরবানের নাইক্ষংছড়ি ও কক্সবাজারের রামু উপজেলায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে শাহীনুর রহমান শাহীন ওরফে ডাকাত শাহীন। খুন, ডাকাতি, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, গরু ও মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণ, মতের বিরোধ থাকা লোকজনকে এলাকা ছাড়া করেছে।তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ সীমান্ত এলাকার লোকজন।
কক্সবাজারের রামুর গর্জনিয়ার জমিদার হাজী ইসলামের পুত্র ডকাত শাহীন ।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, পড়াশোনার জন্য পরিবার থেকে শাহীনকে ঢাকা এবং চট্টগ্রামে পাঠালেও সেদিকে মন না দিয়ে চলে আসেন গ্রামে। অপরাধ জগতে পা দেয় ঈদগড়ের ভয়ঙ্কর ডাকাত কালু, কলিমুল্লাহসহ কয়েকজনের হাত ধরে। শুরুতে ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কে ডাকাতি করতে গিয়ে আটক হয়ে জেলে যায় শাহীন। সেখান থেকেই ঘুরে যায় জীবন। সন্ত্রাসীদের অনুসারী থেকে হয়ে উঠে সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান। ২০১২ সালে সন্ত্রাস জগতে পা রাখা শাহীন এখন সীমান্তের অপরাধ জগতের ডন।
জানা যায়, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রতিদিন হাজার হাজার গরু অবৈধভাবে প্রবেশ করে। প্রতিটি গরু থেকে ৩ হাজার টাকা করে দিতে হতো শাহীনকে। শুধু গরু নয়, সাথে আসে আইস, ইয়াবা, সিগারেটসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য যার মূল নিয়ন্ত্রক হচ্ছে শাহীন। গরু, আইস, ইয়াবা, সিগারেট চোরাচালান বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে সীমান্তের এই এলাকায় বেড়ে যায় খুনাখুনির ঘটনাও। শাহীনের গরু এবং ইয়াবা পাচারে কেউ নূন্যতম বাঁধা হলেও তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হতো বলে জানায় এলাকাবাসী। এক এক করে সীমান্তের এই এলাকাগুলোতে গত কয়েক বছরে প্রায় ১২ খুনের নেতৃত্ব দিয়েছে শাহীন।
২০২৩ সালের ৩ মার্চ। সেদিন ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হয় গর্জনিয়ার বেলতলীর মানুষ। এলাকাবাসীরা জানায়, নাইক্ষ্যংছড়ির শফিউলাহর ছেলে ইরফানকে ডাকাত শাহীন তার নিজের মোটরসাইকেলে বসিয়ে পেছন থেকে গুলি করে হত্যা করে নৃসংশভাবে।
স্থানীয় আবুল কাশেম। ২০২৪ সালের ৮ মে মধ্যরাতে শাহীন তাকে নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নারাইম্মাজিরি পাহাড়ে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে হত্যা করে। নিহত আবুল কাশেমের ভাই মো. শহীদুল্লাহ জানান, ডাকাত শাহীন গ্রুপের নেতৃত্বে ৪০/৫০ জন সন্ত্রাসী বাহিনী ভারী অস্ত্র নিয়ে তার ভাইকে বাড়ি থেকে ডেকে পাহাড়ে নিয়ে যায়। এরপর গুলি করে হত্যা করে। আবুল কাশেম কৃষি কাজের পাশাপাশি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। ডাকাত শাহীনের নেতৃত্বে অবৈধ গরু পাচারে বাধা হয়ে দাঁড়ায় আবুল কাশেম। সে কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের দাবি। তাছাড়াও গরু পাচারে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করায় ২০২৪ সালের ১৬ মার্চ গর্জনিয়ার থিমছড়ির আহমদুর রহমানের ছেলে আবু তালেবকে নির্মমভাবে হত্যা করে ডাকাত শাহীন।
এদিকে সেনাবাহিনীর অভিযানে ডাকাত শাহীন আটক হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্রের মানুষ স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলছে । এলাকার জনগণ সেনাবাহিনীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।
এমএসএম / এমএসএম
নাটোর- ৩ (সিংড়া) আসনে ১১ দলীয় জোটে জামায়াতের শক্ত অবস্থান
রৌমারীতে তিন দিন পর পুকুর থেকে বৃদ্ধনারীর লাশ উদ্ধার
গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে ঝুট গোডাউনে ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট
ঠাকুরগাঁওয়ে ‘আলমগীর ফর টুমোরো’ ওয়েবসাইট উদ্বোধন
মুকসুদপুরে ২দিনব্যাপী জাতীয় শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত
চন্দনাইশে কার মাইক্রো-হাইচ শ্রমিক সমবায় সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত
ত্রিশালে করিম-বানু ফাউন্ডেশনের শীতবস্ত্র বিতরণ
শেরপুরের শ্রীবরদী সীমান্তে বন্য হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে কৃষকের মৃত্যু
নালিতাবাড়ীতে অধিকাংশ জনগণই জানেনা ভোটের গাড়ি কি
রায়গঞ্জে শীতার্ত মানুষের পাশে মানবাধিকার কল্যাণ ট্রাস্ট ও অগ্রযাত্রা রুরাল ফাউন্ডেশন
রাঙ্গামাটিতে বনভান্তের ১০৭তম শুভ জন্মদিন পালিত
কালিয়ায় প্রান্তিক জেলেদের মাঝে গরু বিতরণ