মাদক সম্রাট ও হত্যা মামলার আসামী সন্তোষ চক্রবর্ত্তী মধুর খুটির জোর কোথায়?
চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার কোয়েপাড়া গ্রামের মৃত মিন্টু চক্রবর্ত্তীর ছেলে সন্তোষ চক্রবর্ত্তী ওরফে মধু তার পরিবারসহ মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। তার তিন ভাই, তিন বোন এবং তার মা বকুল রানী চক্রবর্ত্তীও ছেলেকে সহায়তা করতে গিয়ে মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
মধু চক্রবর্ত্তীর মাদক ও ছিনতাই ব্যবসায় জড়িত হওয়ার পেছনে একটি পারিবারিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। তার বাবা মিন্টু চক্রবর্ত্তী এবং কাকা ঝুন্টু চক্রবর্ত্তী দুজনেই অশিক্ষিত ও খারাপ প্রকৃতির লোক ছিলেন। মধুর মা বকুল রানী চক্রবর্ত্তী, যার বাবা জীবন চক্রবর্ত্তী (কবিরাজ) ছিলেন আনোয়ারা উপজেলার। জীবন চক্রবর্ত্তীর চার ছেলের মধ্যে তিনজনই চুরি-ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। খারাপ পারিবারিক পরিবেশের কারণে মধুর মা বকুল রানীকে বিয়ে দিতে অনেক সমস্যা হয়েছিল। মধুর কাকা ঝুন্টু চক্রবর্ত্তী প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে অনেক মেয়েকে বিয়ে করে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিতেন এবং শেষ জীবনে এসে পাগল হয়ে মারা যান।
সন্তোষ চক্রবর্ত্তী মধুর বাবা মিন্টু চক্রবর্ত্তী চট্টগ্রাম শহরের টেরী বাজারস্থ আফিম গলির ফুটপাতে ইলেকট্রিক মিস্ত্রীর কাজ করতেন। সেই আয় দিয়ে তিনি মদ খেতেন এবং কিছু টাকা বাড়িতে পাঠাতেন। মধুর মাও অশিক্ষিত হওয়ায় এবং ভাইদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে পরিবারের কোনো সন্তানই শিক্ষার আলো পায়নি। মধুর বড় দুই ভাই আশুতোষ চক্রবর্ত্তী ও পরিতোষ চক্রবর্ত্তী নিয়মিত মদ পান করতেন, আর মেজ ভাই গাঁজা সেবন করতেন। বড় ভাইদের অনুসরণ করে সন্তোষ চক্রবর্ত্তী মধুও মদ্যপানে আসক্ত হয়ে পড়েন এবং মদের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে ছিনতাই ও ডাকাতিতে লিপ্ত হন। ২০০৭ সালে চট্টগ্রাম কলেজ স্টাফ কোয়ার্টারে ডাকাতি করতে গিয়ে বন্দুকসহ চন্দনপুরা, সিরাজউদদৌল্লা রোড, থানা কোতোয়ালী থেকে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং এই মামলায় প্রায় ৫ বছর হাজতবাস করে বের হয়ে এসেও ছিনতাই, চুরি, ডাকাতির কাজ অব্যাহত রাখেন।
মধুর মা বকুল রানী চক্রবর্ত্তীও খারাপ প্রকৃতির মহিলা হওয়ায় ছেলেদের এই পরিণতি হয়েছে বলে অভিযোগ। বর্তমানে মধুর বড় দুই ভাই আশুতোষ চক্রবর্ত্তী ও পরিতোষ চক্রবর্ত্তী চট্টগ্রাম শহরে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। এক সময় গ্রামের বাড়িতে (কোয়েপাড়া, রাউজান) থাকা অবস্থায় তারা দুজনেই সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত ছিলেন। আশুতোষ চক্রবর্ত্তী গ্রামের বাড়ির অন্যান্য অংশীদারদের গাছ ও পুকুরের মাছ বিক্রি করতেন। নোংরা কাজে জড়িত থাকায় গ্রামের শিক্ষিত লোকেরাও তাদের ভয় পেতো।
বর্তমানে সন্তোষ চক্রবর্ত্তী মধু গ্রাম কোয়েপাড়া, থানা রাউজান, জেলা চট্টগ্রামে বাস করেন। দক্ষিণ রাউজানের মদের ব্যবসা সম্পূর্ণ তার নিয়ন্ত্রণে চলে। গ্রামের বাড়ির অন্যান্য অংশীদারদের সম্পত্তি প্রায় ১২ বছর ধরে তিনি দখল করে রেখেছেন। গত ১১/০৬/২০২৫ইং তারিখে সম্পত্তির অংশীদারগণ তাদের নিজ বাড়িতে গেলে তাদের উপর ধারালো কৃচ ও লাঠিসোঠা নিয়ে হামলা করা হয়। তখন তার পক্ষে প্রায় ১৫-২০ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী উপস্থিত ছিল। এলাকার লোকজন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। তার রয়েছে বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী।
অভিযোগ রয়েছে, মধু আওয়ামী লীগ আমলেও দাপটের সঙ্গে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়েছেন এবং বর্তমানে সরকার পরিবর্তন হওয়ার পরও তিনি একই অবস্থায় বলবৎ রয়েছেন। সে নিজেকে বিএনপির ৮নং ওয়ার্ড সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেয়। সে কথায় কথায় বলে, "তোমরা আমার কিছুই করতে পারবে না। আর্মি, র্যাব, পুলিশ সবার সাথে আমার সম্পর্ক রয়েছে, প্রশাসনের সাথে যদি আমার সম্পর্ক না থাকতো আমার ব্যবসা চলে কি করে? রাউজানে আমার চলার পথে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ালে আমি তাকে দেশ ছাড়া করে ছাড়ব।"
গত তিন মাস আগে কোয়েপাড়া গ্রামে রাজেশ ভট্টাচার্য (গোড়া) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। রাজেশ ভট্টাচার্য নিহত হওয়ার পেছনেও মধুর হাত আছে বলে স্থানীয়রা মনে করে। এখনও এই হত্যার কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। স্থানীয়দের ধারণা, এই মাদক সম্রাট ও সন্ত্রাসী মধুকে গ্রেপ্তার করলে রাজেশ ভট্টাচার্য (গোড়া) হত্যার আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর অনুরোধ, এই মাদক সম্রাট ও সন্ত্রাসী সন্তোষ চক্রবর্ত্তী মধুকে গ্রেপ্তারপূর্বক এলাকার সাধারণ জনগণ যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে তার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
উল্লেখ্য, তার নামে রাউজান থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা আছে। সে বহুবার মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও রাউজান থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভুক্তভোগীগণের পক্ষে গত ১৭/০৬/২০২৫ইং তারিখে আইজিপি বরাবরে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
এমএসএম / এমএসএম
জয়পুরহাটে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা
টাঙ্গাইল পৌরসভার উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন অভিযান
মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণের দায়ে ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড
নেত্রকোণায় তিন উপজেলা ও তিন পৌর শাখার ছাত্রদলের নতুন আংশিক কমিটি অনুমোদন
বাগেরহাটের মোল্লহাটে তুচ্ছ ঘটনায় ছুরিকাঘাতে কৃষক নিহত
অভয়নগরে প্রথম জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন
বিলাইছড়িতে জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন ইউএনও মো. জাকির হোসেন
মোহনগঞ্জে পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন
শালিখায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপিত
মান্দায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত
রাজনগরে স্ত্রীকে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রাখার অভিযোগে স্বামী গ্রেফতার
নেত্রকোণায় সাবরেজিস্টার্ড অফিসে দলিলের তথ্য চাওয়ায় সাংবাদিকের উপর হামলা-থানায় অভিযোগ