ঢাকা রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬

সাতক্ষীরায় ডিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আকলিমার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষককে স্কুলে না আসার হুমকি দেয়ার অভিযোগ


এস কে কামরুল হাসান, সাতক্ষীরা photo এস কে কামরুল হাসান, সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ৩০-৭-২০২৫ দুপুর ১২:৩২

 সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান মুকুলের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর দুটো পর্যন্ত ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কক্ষে ও প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষে সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নারায়ন চন্দ্র মণ্ডল এই তদন্ত পরিচালনা করেন। নিরাপত্তা রক্ষায় উপস্থিত ছিলেন ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান।

এদিকে, প্রাথমিক তদন্ত শেষে মূল অভিযোগকারী, বিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের শিক্ষিকা আকলিমা খাতুন দাবি করেন যে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসতে পারবেন না। এলে তারা কোনো শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে পড়াতে যাবেন না—এমন মন্তব্যে শিক্ষার্থী ও কিছু অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের হেফাজতে থাকা রেজুলেশন খাতা শিক্ষক আকলিমা খাতুন, শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানসহ কয়েকজন জোর করে নিতে চাপ সৃষ্টি করেন। প্রধান শিক্ষক আপত্তি করায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে উপপরিদর্শক মনিরুজ্জামানের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে তদন্তকালে প্রধান শিক্ষকের ভাইয়ের নেতৃত্বে বহিরাগত লোকজন অভিযোগকারী ও শিক্ষকদের হুমকি ধামকি দিয়েছেন মর্মে আকলিমা খাতুন অভিযোগ করলেও প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান তা অস্বীকার করেন।

ডিবি সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের সহকারী শিক্ষিকা আকলিমা খাতুনের গত ২০ এপ্রিল সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান ১৯৯৬ সালের ৩০ জুলাই কম্পিউটার বিভাগ খোলার ১০ মাস আগে ওই বিভাগের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ ও এমপিওভুক্ত হন। নিয়োগের সময় তার কোনো কম্পিউটার সার্টিফিকেট ছিলো না। ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ বোর্ড ত্রুটিপূর্ণ বলে দাবি করেন তিনি। প্রধান শিক্ষকের বিএড সনদ অবৈধ ছাড়াও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণির পাঁচজন কর্মচারী থাকার পরও নিয়ম বহির্ভূতভাবে একজন অফিস সহায়ক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের সেশন চার্জ, পরীক্ষার ফি, বেতনের টাকা ব্যাংকে জমা না দেওয়া, বিদ্যালয়ের সামনে ১০টি দোকানঘর বাবদ অগ্রিম জামানত হিসাবে ১১ লক্ষাধিক টাকা ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে নিয়ে হিসাব না দেওয়া, পিজিবিএসআই স্কিমের সোয়া তিন লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও পিএফ এর এক স্যারের বাবদ ২২ হাজার ও নিজের এক লাখ ৭৮ হাজার টাকা উত্তোলনসহ দুই দফায় গাছ বিক্রির এক লাখ ৫৪ হাজার টাকা রেজুলেশন ছাড়াই আত্মসাৎ এর অভিযোগ রয়েছে।

প্রাক্তন আয়া কদবানু বিবি বলেন, "আমি দীর্ঘ ৩০/৩২ বছর কাজ করেছি, শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন কোনো কথা শুনিনি বা কারো বিরুদ্ধে। তিনি ভালো মানুষ, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সঠিক নয়।" অভিভাবক রোজিনা খাতুন, সালমা, মো: শাহিনুর রহমান বলেন, "আমরা স্কুলে সন্তান পাঠিয়েছি শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য। কিন্তু অন্য শিক্ষকরা আমাদের সন্তানদের রাস্তায় নামাচ্ছে, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছে। যদি সেই শিক্ষকরা আমাদের সন্তানদের লেলিয়ে দেয়, তারা শিক্ষক নয়। আমাদের সন্তানদের যেন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া না হয়। আর যারা দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে যেন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।" স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র জিল্লুর রহমান বলেন, "কেন আমাদের শিশুদের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামানো হচ্ছে। যে সকল শিক্ষকরা এই ষড়যন্ত্র করছে তাদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়।" তিনি আরও বলেন, "প্রধান শিক্ষক থাকলে অন্যান্য শিক্ষকরা স্কুল ও ক্লাস ফাঁকি দিতে পারবে না, তাই তারা এই ষড়যন্ত্র করছে।" আরেকজন প্রাক্তন ছাত্র বলেন, "আমরা প্রধান শিক্ষকের নিকট পড়াশোনা করেছি। স্যারের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, কিন্তু একটি পক্ষ স্যারকে অপরাধী করছে, মব সৃষ্টি করে স্যারকে অপমান অপদস্থ করছে। আমাদের কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের রাস্তায় নামানো হচ্ছে।"

তদন্তকারী কর্মকর্তা নারায়ন চন্দ্র মণ্ডল বলেন, তিনি অভিযোগকারী ও তার মনোনীত সাক্ষীদের অভিযোগসমূহ শুনেছেন। এ ব্যাপারে তারা কিছু কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। জবাবে প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করতে বেশ কিছু কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। অবশিষ্ট কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য তাকে আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। তবে সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক হয়ে মোট ২৯ বছর মমিনুর রহমান চাকরি করলেও এতদিনে আকলিমা খাতুন বা অন্য অভিযোগকারী শিক্ষকগণ কোথায় ছিলেন তা নিয়ে তদন্তকালে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তিনি।

প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান বলেন, তিনি কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি করে থাকলে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দোষী প্রমাণিত হলে যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেবেন। এর আগে গত ১৩ জুলাই বিদ্যালয়ের ফটকে সহকারী শিক্ষকরা তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের লেলিয়ে দিয়ে মানববন্ধনের নামে তার সম্মানহানি ঘটিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও ঐতিহ্য নষ্ট করিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের উস্কে দিয়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করানো হয়েছে, যা মব ভায়োলেন্স ছাড়া কিছুই না। এছাড়া তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি বিদ্যালয়ে আসলে সহকারী শিক্ষকগণ শ্রেণিকক্ষে ঢুকবেন না, এটা আইন বহির্ভূত। তাছাড়া তার কাছ থেকে রেজুলেশন খাতা নিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি কাগজপত্রের আলোকে আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সব ধরণের জবাবদিহিতার নিশ্চয়তা দিয়েছেন বলে দাবি করেন।

এদিকে বিল্লাল হোসেন মিঠুন মোড়ল, আব্দুল মালেকসহ বিদ্যালয়ের ৮৯ জন অভিভাবক মঙ্গলবার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে প্রধান শিক্ষককে মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের লেলিয়ে দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করানোর জন্য শিক্ষার্থীদের ভুল বোঝানোর প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন। একইভাবে তারা প্রধান শিক্ষককে বিতাড়িত করার পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

এমএসএম / এমএসএম

বোয়ালখালী সাংবাদিক ফোরাম - চট্টগ্রামের আত্মপ্রকাশ

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে এপেক্স ক্লাব অফ গোপালগঞ্জ-এর ৫ম দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত

রাজস্থলীতে এ্যাম্ভুল্যান্সের চালক ডিউটি অবহেলায় রোগীবহন ভোগান্তি স্বীকার

ভূরুঙ্গামারীতে সার্কেল এএসপি নেতৃত্বে ভারতীয় প্রাসাধনী ও বাসুমতি চাল জব্দ

নবীনগরে ছাত্রের মায়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে মাদ্রাসা প্রিন্সিপাল গ্রেপ্তার

রাজারহাটে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা ২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু

জিয়ার শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে তারেক মঞ্চের মতবিনিময় সভা, ১২ জুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

সেচ ব্যবস্থা উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা বিএনপির: প্রধানমন্ত্রী

চাঁদপুরে খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সুবর্ণচরে জামায়াত নেতার বাড়িতে ৯৯ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার

আমি সবার এমপি, সবার কল্যাণে কাজ করবো : প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ

কক্সবাজারে ট্রাফিক পুলিশ ও দালালদের চাঁদার রাজত্ব