স্থানীয় যুবকের সাহসিকতায় পিরোজপুরে টাওয়ার থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক উদ্ধার
পিরোজপুরের নেছারাবাদে বিদ্যুতের টাওয়ারে উঠে জীবন ঝুঁকিতে পড়েছিলেন এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক। প্রায় ছয় ঘণ্টা টাওয়ারের চূড়ায় অবস্থান করার পর অবশেষে স্থানীয় চার তরুণের সাহসী পদক্ষেপে রক্ষা পায় তার প্রাণ। ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে উদ্ধারকাজে ব্যর্থ হন।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ডাকবাংলো সংলগ্ন ৩৫০ ফুট উঁচু বিদ্যুতের টাওয়ারে ওঠেন শংকর বেপারী (৩৫)। মুহূর্তের মধ্যেই এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিস, পল্লী বিদ্যুৎ, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। কিন্তু পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাবে তারা উদ্ধারকাজে অগ্রসর হতে না পারায় অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই টাওয়ারে ওঠেন চার সাহসী স্থানীয় যুবক। তারা হলেন- মোঃ শাহালম ওরফে কালু, মোঃ রিপন, রুবেল এবং মোঃ কালাম। তারা ধৈর্য ধরে শংকরকে বোঝাতে থাকেন। দীর্ঘ ছয় ঘণ্টার প্রচেষ্টায় সন্ধ্যা ৬টার দিকে অবশেষে তাকে নিরাপদে নামাতে সক্ষম হন।
শংকর বেপারী উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের দূর্গাকাঠী গ্রামের নিকুঞ্জ বেপারীর ছেলে। দুপুর ১টার দিকে হঠাৎ তিনি টাওয়ারে উঠতে শুরু করলে এলাকাবাসী প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। কিন্তু ধীরে ধীরে উপরে উঠে চূড়ায় হাঁটাহাঁটি করতে দেখা গেলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কয়েক হাজার মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করলে স্বেচ্ছায় মানবতার তাগিদে ওই চার যুবক টাওয়ারে ওঠেন। ফায়ার সার্ভিস ও পল্লী বিদ্যুতের কর্মীদের সহায়তায় তারা ধাপে ধাপে শংকরের কাছে পৌঁছান এবং মানসিকভাবে শান্ত করতে চেষ্টা চালান। শেষ পর্যন্ত তাদের ধৈর্য ও সাহসিকতার কারণেই যুবকটিকে সুস্থ অবস্থায় নামানো সম্ভব হয়।
এ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখায় পুরো উপজেলায় ছয় থেকে সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকে। পুরো ঘটনাটি সরাসরি তদারকি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদুল ইসলাম শামীম, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বনি আমিন, ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম এবং পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম চন্দ্র শেখর গাইন। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, "টাওয়ারটি ৩৫০ ফুট উঁচু। আমাদের হাতে ওই উচ্চতা থেকে কাউকে নামানোর মতো সরঞ্জাম ছিল না। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলাম এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেছি।" পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম চন্দ্র শেখর গাইন বলেন, "এ ধরনের ঘটনা সচরাচর ঘটে না। টাওয়ারটি নার্সারির ভেতরে হওয়ায় বাইরের লোকজনের সেখানে যাওয়ার কথা নয়। তবে ভবিষ্যতে ঝুঁকি এড়াতে চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" ওসি মো. বনি আমিন জানান, "স্থানীয় চার যুবকের প্রাণপণ চেষ্টার কারণেই শংকরকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং পরে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম শামীম বলেন, "যেখানে প্রশিক্ষিত বাহিনীও সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যর্থ হয়েছিল, সেখানে স্থানীয় চার যুবক যে সাহসিকতা ও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে তা সত্যিই অনন্য। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই এবং আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।" ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগ ও প্রশাসনের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত স্থানীয় চার যুবকের সাহসিকতাতেই বাঁচলো একটি জীবন। নেছারাবাদের মানুষের মুখে মুখে তাদের প্রশংসা।
এমএসএম / এমএসএম
সাংবাদিক মিজানকে হত্যার হুমকি আল আজিমের নামে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে শ্যামনগরে মানববন্ধন
সিংড়ায় বজ্রপাতে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু
রাজস্থলীতে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে দিনব্যাপী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
বাঘায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি সহ ৪ জন আটক, যৌতুক আইনে সাজা ভোগ করছিলেন একজন
রাণীনগরে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ: যেকোনো সময় ভাঙনের শঙ্কায় নির্ঘুম হাজারো মানুষের
মির্জাগঞ্জে অন্ত:সত্ত্বা নারীকে মারধরে সোহাগ মৃধা গ্রেপ্তার
বড়লেখায় সিসি ক্যামেরার সার্ভার ষ্টেশনের উদ্বোধন
কুড়িগ্রামে কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু
মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের ১০ শয্যাবিশিষ্ট আইসিইউ সেবা চালু
রাণীশংকৈলে হাইস্কুল পর্যায়ে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
মোরেলগঞ্জে মাদ্রাসা সুপারের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মানববন্ধন
ফুলবাড়ি সীমান্তে পুই ইন- পুশ ব্যাক নাটকীয়তার পর জয়নাবকে ফেরৎ নিলো বিজিবি