রংপুরে পৈতৃক জমি দখলমুক্ত হলেও হুমকিতে ভুক্তভোগী পরিবার
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের খোর্দ বেলাইচণ্ডী সরদারপাড়া গ্রামে ৭০ বছর ধরে দখলে থাকা পৈতৃক জমি আদালতের মাধ্যমে উদ্ধার হলেও দখল দিচ্ছে না প্রভাবশালী মশিউর রহমান ও তার অনুসারীরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভুক্তভোগী আব্দুল জব্বার আদালতের নির্দেশে ১৩ জুলাই ২০২৫ তারিখে জমি ফিরে পাওয়ার দিনই দখলদারদের হাতে হামলার শিকার হন। এরপর থেকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকিতে দিন কাটছে জব্বার ও তার পরিবারের। এ বিষয়ে অসহায় আব্দুল জব্বার জানান, তাঁর দাদা জমির উদ্দিনের রেখে যাওয়া ৬৮ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে জোর করে ভোগদখল করে আসছিলেন স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি, যাদের মধ্যে মশিউর রহমান কালুয়া অন্যতম।
জমি উদ্ধারে পরিবারটি একাধিক প্রজন্ম ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছিল। ২০১৫ সালে আব্দুল জব্বার এই মামলার বাদী হন। মামলার দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাঁর পক্ষে রায় দেন এবং জমি ফেরতের নির্দেশ দেন। এরপর গত ১৩ জুলাই রংপুর জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, তারাগঞ্জ থানা পুলিশ ও আদালতের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জমি দখলমুক্ত করে তাঁর হাতে বুঝিয়ে দেয়। তবে জমি বুঝে পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুর্বৃত্তরা তাঁর ঘরবাড়িতে হামলা চালায়। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই হামলার হুমকি পাচ্ছেন তিনি ও তাঁর পরিবার।
অভিযোগ উঠেছে, মশিউর রহমান (কালুয়া) ও তার অনুসারীরা আব্দুল জব্বারকে হুমকি দিয়ে বলছে, ‘তুই জমি নিছস, এবার তোকে শেষ করুম’। এমন হুমকিতে আতঙ্কিত হয়ে তারাগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন জব্বারের মেয়ে জেসমিন আক্তার। জেসমিন বলেন, “প্রতিপক্ষরা আমাদেরকে রাস্তাঘাটে আটকিয়ে ভয় দেখায়। পুলিশের সামনেই মারতে আসে। কোথায় যাবো, কী করবো— কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দখলদারেরা দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল জব্বার ও তাঁর পরিবারের ওপর নানা রকম অত্যাচার চালিয়ে এসেছে। থাকার মতো জায়গা না থাকায় পরিবারটি খড়ের ছাউনিতে ১০ হাত একটি ঘরে গাদাগাদি করে থাকতো। গোসল করতো সেচ ক্যানেলে, প্রাকৃতিক কাজ সারতো ঝোপ-ঝাড়ে। অন্যের নলকূপের পানি ব্যবহার করে চলতো তাদের জীবন। আব্দুল জব্বার আরও বলেন, “আদালতের রায় অনুযায়ী জমি পেয়েছি। প্রশাসনের উপস্থিতিতে দখলও নিয়েছি। এখন তারা আমাকে আবার জমিতে যেতে দিচ্ছে না। আমার পরিবারের জীবন হুমকির মুখে। সরকার ও প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ বিষয়ে তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ ফারুক জানান, “অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উল্লেখ্য যে, এ ঘটনায় রাজু, জামাল উদ্দিন ওরফে টোল্লা, দুলু, খোকন সরদার, রেজাউল হোসেন, রফিক আলী, চন্টু, কালা মিয়া, জিকরুল ইসলাম, জিয়ারুল ইসলাম, আরজিনা বেগম, দুলালী বেগম, রফিকা বেগম, মশিউর রহমান ওরফে কালুয়া, লাল বাহাদুর, মাসুদ ও আফেজা বেগমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এমএসএম / এমএসএম
তারাগঞ্জে একই দিনে মাদকবিরোধী জোরালো অভিযান
জেলা ট্রেজারি পরিদর্শন ও ভেরিফিকেশন কার্যক্রম পরিচালনা করলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার
চট্টগ্রাম বন একাডেমির পরিচালক আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ
ভূরুঙ্গামারীতে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত
নাচোলে ১৭১তম ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালিত
উলিপুরে কৃষি প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণ
৭০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার
সুনামগঞ্জে সিয়ামের চুরি হওয়া সিএনজি ১ মাসেও উদ্ধার হয়নি, পরিবারে হতাশা
বোদা পৌরসভার ৮১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা
পাঁচবিবিতে মাদক নির্মূলে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি
রাজশাহীতে ‘Run for Padma’র সংবাদ সম্মেলন
কুড়িগ্রামে ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের ওপর হামলার অভিযোগ