যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতির পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন জেলা প্রশাসক
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেছেন, মাঠ প্রশাসনের সহকারীরা সূর্যের মতো কাজ করে বলেই জেলা প্রশাসন জনগণের সেবায় কাজ করতে পারে। তিনি আরও বলেন, তাদের কাজের পরিধি অনুযায়ী পদোন্নতি হয় না এবং প্রশাসনের আটটি পদে একই ধরনের কাজ হলেও ভিন্ন নাম দিয়ে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউরিস্থ অফিসার্স ক্লাবে বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি (বাকাসস) আয়োজিত কেন্দ্রীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সম্মেলনে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৪৭ জেলার প্রায় ২৯০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। বাকাসস কেন্দ্রীয় এডহক কমিটির আহ্বায়ক এস এ আরিফ হোসেনের সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম জেলার সহ-সভাপতি নুরুল মুহাম্মদ কাদেরের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব, চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক ও জেলা নাজির মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “মাঠ প্রশাসনের সহকারীরা প্রশাসনের চালিকাশক্তি, অথচ তারা বছরের পর বছর অবহেলিত।” সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় এডহক কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম। এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, ভোলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফরিদপুর, সিলেট, শরীয়তপুর এবং বান্দরবান জেলার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মাঠ প্রশাসনের সহকারীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, একই ধরনের কাজ করেও পদবিন্যাসে বৈষম্য, বেতন কাঠামো ও পদোন্নতিতে অবিচার করা হয়। অনেক সময় ২৫-৩০ বছর চাকরি করেও তাদের পদোন্নতির কোনো সুযোগ দেওয়া হয় না।
২০১৯ সাল থেকে বাকাসস এই বৈষম্য নিরসনে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। ২০২১ সালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের আটটি পদ একীভূত করে “সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা” পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ২০২২ সালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আপত্তির কারণে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত হয়ে যায় এবং পদগুলোকে তিন ভাগে বিভাজন করা হয়, যা নতুন করে বিভেদ সৃষ্টি করে। এই বৈষম্য নিরসনের দাবি বাকাসস কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলনে জোরালোভাবে উত্থাপিত হয়। সম্মেলনে বাকাসস তাদের তিন দফা দাবি তুলে ধরে:
১. ২০২১ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আটটি পদ একীভূত করে “সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা” পদে রূপান্তর করতে হবে।
২. ২০১০ সালের প্রজ্ঞাপন অনুসারে অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদকে পুনরায় “কম্পিউটার অপারেটর” পদে রূপান্তর করতে হবে।
৩. পদোন্নতিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে সমতা নিশ্চিত করতে হবে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, একজন জেলা প্রশাসক বছরে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার নথি নিষ্পত্তি করেন, যার মূল প্রস্তুতকারী হলেন মাঠ প্রশাসনের সহকারীরা। অথচ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা গড়ে ৮-৯ বার পদোন্নতি পান, যেখানে সহকারীরা পান সর্বোচ্চ একবার। বাকাসস কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস.এম. আরিফ হোসেন বলেন, “আমাদের আন্দোলন ছিল ন্যায়ের জন্য। ২০২১ সালের প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশা বাড়ছে। আমরা চাই প্রশাসনের দক্ষ জনশক্তির মর্যাদা নিশ্চিত হোক।” সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে এস.এম. আরিফ হোসেন এবং মহাসচিব হিসেবে ঢাকা জেলার মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম নির্বাচিত হন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়। এই সম্মেলন মাঠ প্রশাসনের সহকারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২১ সালের প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পুনরায় দাবি জানানো হয়েছে। মাঠ প্রশাসনের সহকারীরা আশাবাদী, এবার তাদের কণ্ঠস্বর রাষ্ট্র শুনবে।
এমএসএম / এমএসএম
ধুনটে সড়ক নির্মাণকাজ ঘুরে দেখলেন এমপি পুত্র আসিফ সিরাজ রব্বানী
বগুড়া-৬ আসনে বিপুল ভোটে বিএনপির বাদশা জয়ী
মাদারীপুর পৌরসভায় প্রকল্প বাস্তবায়নে আরইউটিডিপি কর্মশালা সম্পন্ন
বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, নিয়মিত করদাতাদের জন্য সহজ সুবিধা
গোদাগাড়ীতে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা
ভূরুঙ্গামারীতে ৪৭ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠান
বিলাইছড়িতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা
চাঁদপুরে মাদকসহ সরঞ্জামাদি জব্দ, একজনের কারাদণ্ড
গোদাগাড়ীতে আদিবাসী নারী ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ১
বকশীগঞ্জে নবাগত ইউএনও’র সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়,
তেঁতুলিয়ায় পুলিশের মাথা ফাটিয়ে পলাল গরু চোর
কটিয়াদীতে অবৈধ জ্বালানি তেল মজুদে এক ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা