কর্ণফুলীর বাংলাবাজার ঘাটের ৩১২ মাঝির পরিবারে অভাব-অনটন
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাথে খাস আদায় নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১২ দিন ধরে কর্ণফুলীর বাংলাবাজার ঘাটে কর্মবিরতি পালন করছেন ৩১২ জন মাঝি। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন এ বিষয়ে কোনো সুরাহা না করায় এবং কর্ণফুলী নদীতে খেয়া পারাপার বন্ধ থাকায় চাকরিজীবী, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আর চরম ভোগান্তি চলছে। এদিকে অভাব-অনটন দেখা দিয়েছে মাঝিদের ৩১২টি পরিবারে।
ঘাটের ইজারা ও টোল আদায় নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সাম্পান মাঝিদের বিরোধে কর্ণফুলী নদীতে নগরী ও উপজেলা প্রান্তে ১৬টি ঘাটের মধ্যে বাংলাবাজার ও ইছানগর ঘাটের সাম্পান ওয়ালারা এই ধর্মঘট করছেন গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে। মাঝিদের অভিযোগ গত অর্থ বছরে এ ঘটের ইজারা মুল্য ৩৭ লাখ টাকা উঠলেও চলতি বছর করোনার কারণে যাত্রীর পরিমাণ অনেক কম। তাই আগের অর্থ বছরের সমতুল্য ইজারাদর উঠেনি। পরপর ৪ বার টেন্ডারে কাঙ্কিত ইজারা দর উঠেনি। নিয়ম মোতাবেক কাঙ্কিত ইজারা মূল্য না পেলে পরপর ৩ বার টেন্ডার আহবানের পর সর্বোচ্চ মূল্য দাতাকে কার্যাদেশ না দিয়ে খাস কালেকশনের নামে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মাসুল আদায় শুরু করেছেন। এ টানাপোড়নের মাঝে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
মাঝিরা জানান, চসিক থেকে ২০২৭ বঙ্গাব্দে বাংলাবাজার ঘাট ইজারা দেয়া হয়েছিল ৩৭ লাখ টাকায়। আর এ বছর ওই ঘাটে সর্বোচ্চ দর উঠে ২৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। সাম্পান মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি লোকমান বলেন, আমরা দুইবার সিটি করপোরেশনের সাথে বৈঠকে বসেছি। কিন্তু কোন সমাধান না আসায় আমরা ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছি। যাত্রীদের স্বার্থে আমরা এ আন্দোলন করছি।
সূত্র জানায়, এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার যাত্রী পারাপার হয়। এগুলো দিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষদের পাশাপাশি বিভিন্ন কলকারাখানার শ্রমিক ও বিভিন্ন জাহাজ-ট্রলার ও লাইটারেজের নাবিকরা পারাপার হয়। এসব ঘাটগুলো প্রতি বাংলা বছরে ইজারা দিলেও এ বছর নানা জটিলতায় ইজারা দেওয়া হয়নি বাংলাবাজার ঘাট। অন্যান্য ঘাটে যাত্রী পারাপারে ইজারাদাররা শতকরা ১০ ভাগ তথা প্রতি যাত্রী থেকে এক টাকা করে আদায় করলেও বাংলাবাজার ঘাটে পাঁচ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সাম্পান মাঝিদের। যা শতকরা হিসেবে ৫০ ভাগ। সিটি করপোরেশন এ বছর ঘাট ইজারা না দিলেও আগের ইজারাদারের লোকজন এসব টাকা জোর করে আদায় করছে সিটি কর্পোরেশনের খাস কালেকশনের নামে।
স্থানীয়রা জানান, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগে মাঝিরা সাম্পান চলাচল বন্ধ রেখেছে। তাই এ ঘাট দিয়ে যাত্রী পারাপার হচ্ছে না। ইজারাদারের লোকদের খবর জানতে চাইলে তারা বলেন, সাম্পান চলাচল না করায় কেউ নেই। এদিকে, ধর্মঘটে যাত্রী পারাপার বন্ধ থাকায় মাঝিরা বিপাকে পড়েছে বলে জানান কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি এস এম পেয়ার আলী। তিনি বলেন, এ ঘাটে মোট ৩১২ জন মাঝি আছে। এখন তারা সবাই বেকার তাদের সকলের পরিবারে দুর্দিন চলছে। কিন্তু দাবি আদায় না হওয়ায় তারা সাম্পানও চালাতে পারছেন না।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী জানান, সিটি কর্পোরেশন নীতিমালা না মেনে এসব ঘাট ইজারা দিচ্ছেন। কিন্তু কোন ধরণের শৃঙ্খলা তারা তদারকি করছেন না। আমরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ঘাটগুলো ইজারার আওতায় আনার চেষ্টা করছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিনা সুলতানা বলেন, মুলত অভিবাবকহীন হয়ে পড়েছের মাঝিরা। সিটি কর্পোরেশন ইজারা দিলেও আর কোন দায় দায়িত্ব নেই যেন তাদের। এসব ঘাট বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ কর্ণফুলী উপজেলার লোকদেরই বেশি। আমরা এসব ঘাটের বিষয়ে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করছি।
কথা বলতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা নজরুল ইসলামকে ফোন করা হলের তিনি ফোন না ধরায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয় নি।
এমএসএম / জামান
শ্যামনগরে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন, এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা
টাঙ্গাইল জেলায় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা : ভোরের আলো ফুটতেই হাসছে সূর্যমুখী ফুল
বরগুনায় বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ যুবক আটক
ভোক্তা অধিকার আইন লঙ্ঘন করায় চাঁদপুরে ৫ প্রতিষ্ঠানের জরিমানা
নোয়াখালীতে আব্দুল হালিম মানিক ট্রাস্ট্রের উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ
রায়পুরে অটোরিকশা চালকের ঘুষিতে যুবদল নেতার মৃত্যু
রাণীশংকৈলে কৃষি প্রযুক্তি মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ
বসন্তের ছোঁয়ায় রামুতে মুকুলে নান্দনিক সাজে আমগাছ
ফেইসবুকে সম্পর্ক করে বিয়ের প্রলোভনে সুনামগঞ্জ এনে ১৭বছরের এক কিশোরীকে গণধর্ষণ
ভূরুঙ্গামারী সদর বাজারের মাছ বাজারে ধর্মঘট, বিপাকে সাধারণ ক্রেতারা
বরেন্দ্রের মাঠে মাঠে ধানের চারা রোপণের উৎসব চলছে
বাকেরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ১০