আলোর মেলা গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে: দীপাবলির রাতে প্রদীপের গল্প
“হেইরে মামা, দেখছো, আকাশটা কেমন হলুদে মাখা? বাতাসে কেমন কুসুমের গন্ধ! দ্যাশের মতো লাগে, এই শহরের ভেতরেও আজ যেন হঠাৎ শান্তি নামছে। আহা, মনে হইতেছে, বাড়ির উঠানে মা প্রদীপ ধরতেছে!” বলতে বলতেই হেসে উঠল পাশের মেয়ে, হাতে দুলছে এক প্রদীপের নরম শিখা। সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয় (গবি) ৩২ একর জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই নিরিবিলি ক্যাম্পাস সেই রাতে যেন পরিণত হয়েছিল এক রঙিন মেলায়। লোকে বলে, দীপাবলি মানেই আলোর জয়, আর সেই আলোর ঢেউ যেন ছুঁয়ে গেছিল গবির প্রতিটি কোণায় কোণায়।
২০ অক্টোবর, সোমবারের সেই দীপাবলির রাতে বিশ্ববিদ্যালয় যেন নিজেই আলোকিত হয়ে উঠেছিল। বাদামতলা থেকে প্রশাসনিক ভবন, ট্রান্সপোর্ট চত্বর থেকে একাডেমিক প্রাঙ্গণ, সবখানেই আলো ছড়িয়ে দিয়েছে প্রদীপ আর মোমবাতির সারি। একেকটা প্রদীপ যেন কারুকাজ করা রত্নের মতো, প্রতিটিতে যেন নতুন সূর্যোদয়ের আশ্বাস। আয়োজনের পেছনে ছিল সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘বাণী অর্চনা সংঘ’।
মেয়েদের শাড়িতে যেন জ্বলছিল আগুনের রুদ্ধদ্বার, চোখে চোখে ফুটছিল অশুভের বিদায়। ছেলেরা পরিধান করেছিল পাঞ্জাবি, কেউ একা প্রদীপ জ্বালাচ্ছে, কেউ তিন-চারজন মিলে। আলোর মাঝে যেন ভেসে বেড়াচ্ছে গান, “জ্বালাবো আলো, অন্ধকার মুছবো” বলে কণ্ঠ মিলেছে, বাতাসে মিশেছে ঝংকার। হাতের প্রদীপগুলো যেন জোনাকি হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছিল, যেন নতুন রঙের আবির্ভাব, যেন প্রতিটি শিখা শিক্ষার্থীদের শান্তি ও আনন্দের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছিল।
এই সময় বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী রহিত সাহা অরিন বলেন, “দীপাবলী শব্দের অর্থই হলো ‘প্রদীপের সারি’। এই দিনটি অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর, অসত্যের বিরুদ্ধে সত্যের, এবং দুঃখের বিরুদ্ধে আশার জয়ের প্রতীক। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার দেখা প্রথম এই উৎসব পালন করতেছি। সকলের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ এবং হাজারো প্রদীপের আলোতে প্রাঙ্গণ আরও উচ্ছ্বাসিত এবং প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।”
২০১৯ সালে প্রথম দীপাবলি আয়োজন হয়েছিল এই ক্যাম্পাসে। এবার দ্বিতীয়বারের মতো সেই আলোয় ভরে উঠল প্রিয় প্রাঙ্গণ। বাণী অর্চনা সংঘের সভাপতি অনিক মালো বললেন, "সভাপতি হিসেবে এ বছর প্রথমবার দীপাবলির আয়োজন করছি। অনুভূতিটা সত্যিই আনন্দের। আমরা বিশ্বাস করি, প্রদীপের আলো সব অপশক্তিকে দূরে সরিয়ে দেবে।"
দূর-দূরান্ত থেকে এসে মিলিত হচ্ছিল সাবেক শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করছিল বর্তমান শিক্ষার্থীরাও। হিন্দু ধর্মের রীতি অনুযায়ী, কেউ রাধা-কলকাতা সুরে মন্ত্রোচ্চারণ করছিল, কেউবা ভাগ্য ও সমৃদ্ধি কামনায় মোমবাতি জ্বালাচ্ছিল। কেউ প্রদীপ হাতে দিচ্ছে আগুন, কেউ মোম সাজিয়ে লিখছে, কেউ আবার গানের তালে তালে নাচছে “আলো জ্বালো, দাও প্রাণে দাও দিশা।”
চারদিকে তখন কেবল আলো, গান আর হাসির ঢেউ। বাদামতলার আকাশে হালকা ধোঁয়ার পর্দার ভেতর দিয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে প্রদীপের ঝিলিক। বাতাসে মিশে আছে মিষ্টি মোমের গন্ধ, পাখির কিচিরমিচির। কেউ হাতে ফোন তুলে সেলফি তুলছে, কেউ বন্ধুর সঙ্গে নাচছে গানের তালে, কেউবা একা দাঁড়িয়ে প্রদীপের আলোয় হারিয়ে যাচ্ছে নিজের ভাবনায়।
ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদের শিক্ষার্থী অপর্ণা কর্মকার বলেন,“অনেকদিন পর গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে শুভ দীপাবলি উৎসব। সকাল থেকে আমরা নানা আয়োজন করেছি এবং সিনিয়র-জুনিয়র একসাথে মিলে আনন্দ মুখর ছিল সারাদিন। আজ আমরা প্রদীপ জ্বালিয়ে উৎসব পালন করছি এবং বিশ্বাস করি, এই আলো আমাদের সকল কু*** দূর করবে ও সবার মঙ্গল কামনা করবে।”
আয়োজকরা বলেন, "দীপাবলি শুধু আলো নয়- এটি জীবনের প্রতিটি অন্ধকারে আশা জ্বালানোর উৎসব। প্রতিটি প্রদীপ যেন মনে করিয়ে দেয়, আলো শেষ পর্যন্ত জয়ী হবেই।”
এই আলোর উৎসবে শুধু প্রদীপ নয়, ছিল মমতার আলোকচ্ছটা। সহপাঠী-বন্ধু, শিক্ষার্থী-শিক্ষক, প্রাক্তন-বর্তমান সবাই যেন এক রঙে মিলে গেছিল। শেষদিকে সবাই জড়ো হলো প্রশাসনিক ভবনের সামনে। শুরু হলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ছোট্ট একটি পর্ব, ‘মিলন হবে কতদিনে’ গানে একসঙ্গে কণ্ঠ মিলল শত শত কণ্ঠে। নাচ, হাসি আর করতালির ছন্দে পুরো প্রাঙ্গণ যেন এক জীবন্ত কবিতা হয়ে উঠল। দূরে প্রশাসনিক ভবনের দেয়ালে ছায়া পড়ে প্রদীপের, যেন আলো আর অন্ধকার খেলছে লুকোচুরি। রাতের শেষে সবাই মিলে উচ্চারণ করল, “শুভ দীপাবলি।”
এমএসএম / এমএসএম
জাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বামপন্থীদের অবস্থান কর্মসূচি
জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসে তরুণদের প্রতিনিধি রাবি শিক্ষার্থী
সার্ক শক্তিশালী হলেই, শক্তিশালী হবে দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি
ইবিতে হযরত ফাতেমা (রাঃ) কে নিয়ে কটুক্তি
ডিআইইউ-তে ল’ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কমিটি ঘোষণা
প্রাণিস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারি দিবসে গবির শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত দিন
শেকৃবিতে তিন দিনে ভর্তি ৪১৪ শিক্ষার্থী, ফাঁকা ২৯১ আসন
কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তি বিনিময়ে শেকৃবি-হকৃবি’র সমঝোতা চুক্তি
চবিতে চালু হলো অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম
রাবিসাসের নতুন কমিটি গঠন, নেতৃত্বে কাদির-মাহবুব
ইবির সঙ্গে রেললাইন সংযোগ দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে - আইন মন্ত্রী
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা আজ, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা