টানা ভারী বর্ষণে তানোরে বন্যা, ডুবেছে শত শত হেক্টর রোপা আমন ধান
রাজশাহীর তানোরে দুই দিনের টানা ভারী বর্ষণে বন্যার সৃষ্টি হয়ে কৃষকদের রোপা আমন ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার মোহর, কামারগাঁ, পাঁচন্দর, কলমা ইউনিয়ন ও তানোর পৌরসভাসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে বন্যার ভয়াবহতা। এতে কৃষকের মুখে নেমে এসেছে হতাশার ছায়া। বুধবার দিবাগত রাত থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত টানা বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ঘরবন্দী হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষ। উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে গ্রামীণ রাস্তাঘাট, খাল-বিল ও পুকুরে পানি উপচে পড়েছে। নিচু এলাকার ফসলি জমি এখন পানির নিচে। মাঠজুড়ে পানিতে তলিয়ে আমন ধান সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, একরের পর একর সোনালী রঙে পাক ধরা আমন ধান পানিতে তলিয়ে আছে। কোথাও কোথাও হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে ধানের মাজা ভেঙে জমিতে পড়ে গেছে। তালন্দ ইউনিয়নের মোহর গ্রামের কৃষক রাব্বানী, মিলন, তুষার, বাদল ও নাসির আলী জানান, “দুই দিনের ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে মাঠের ধান লুটিয়ে পড়েছে। যদি দ্রুত পানি না নেমে যায়, তাহলে ধানের চরম ক্ষতি হবে।” তানোর পৌর এলাকার সিন্দুকা গ্রামের কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, “ধানের জমিতে প্রচুর পানি ঢুকেছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন না করলে ধানে গাছ গজিয়ে উঠবে, এতে ধানের মান নষ্ট হয়ে যাবে।” থইথই পানি, উজান থেকে নামছে স্রোত এলাকাবাসী জানায়, উজান থেকে নামতে থাকা পানির স্রোতে প্রতিটি ব্রিজের মুখ দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই থইথই পানি। ফলে নিচু এলাকার গ্রামগুলোতে ঘরবাড়ি ও গবাদিপশুর আশ্রয় সংকট দেখা দিয়েছে। অতীতের তুলনায় বেশি বৃষ্টি স্থানীয়দের দাবি, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন মাসজুড়ে এমন বৃষ্টি অন্য কোনো বছর দেখা যায়নি। এবছর রোপা আমন রোপণের সময় থেকেই অতিবৃষ্টি চলছে। এখনো মাঝেমধ্যে ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সকালে বৃষ্টি থামলেও আকাশে ছিলো ঘন মেঘের ছায়া, ফলে আতঙ্ক কাটেনি কৃষকদের। শুধু ধান নয়, ক্ষতিগ্রস্ত মাছ ও সবজিও কৃষকরা জানান, টানা বৃষ্টিতে শুধু ধান নয়, পুকুরের মাছও বের হয়ে গেছে প্রচুর পরিমাণে। পাশাপাশি সবজিখেতও পানির নিচে ডুবে গেছে। এতে কৃষকদের ওপর পড়েছে দ্বিগুণ চাপ। কৃষি অফিসের হিসাব উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কামারগাঁ ব্লকের কামারগাঁ ৩০ হেক্টর, মাদারিপুর ৮ হেক্টর, ছাঐড় ১৪ হেক্টর, কৃষ্ণপুর ৫ হেক্টর, পাঁচন্দর ব্লকের মোহাম্মদপুর ৭ হেক্টর, চাঁদপুর ১০ হেক্টর, চান্দুড়িয়া ব্লকের চান্দুড়িয়া ১৫ হেক্টর, সিলিমপুর ৫ হেক্টর এবং তানোর পৌরসভায় ১১০ হেক্টর রোপা আমন ধান পানিতে ডুবে গেছে। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০৩ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে আংশিকভাবে ডুবেছে ১৫৭ হেক্টর এবং সম্পূর্ণ ডুবেছে ৪৬ হেক্টর। তবে কলমা ইউনিয়নের আজিজপুর, চন্দনকোঠা ও কুজিশহর এলাকার ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো কৃষি অফিসে পৌঁছায়নি। কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, “পুরো উপজেলায় রোপা আমনের চাষ হয়েছে ২২ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে বর্তমানে ২০৩ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদি তিন-চার দিনের মধ্যে পানি নেমে যায়, তবে ধানের তেমন ক্ষতি হবে না। তবে এর চেয়ে বেশি সময় পানি থাকলে ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য সংগ্রহ করছি। পানি নেমে গেলে কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হবে।” হঠাৎ এই অপ্রত্যাশিত বন্যা তানোরের কৃষকদের জন্য যেন এক দুঃস্বপ্ন। সারা বছরের পরিশ্রমের ফসল রক্ষা নিয়ে এখন তাদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও সরকারি সহায়তার প্রত্যাশায় দিন গুনছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
এমএসএম / এমএসএম
জয়পুরহাটে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ
নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত
সীমান্তের ওপার থেকে শ্রমিক অসন্তোষ উসকে দিয়ে বিশৃঙ্খলার অপচেষ্টা চলছেঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার
অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের স্মারকলিপি
ধামরাইয়ে চার বাড়ির সামনে কাফনের কাপড়-আতর ও গলাকাটা মুরগি, আতঙ্কে গ্রামবাসী
সৌদি আরবে ভালো চাকরির প্রলোভনে কোটি টাকা হাতিয়ে আত্মগোপনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদম দালাল লিটু
উজিরপুরে নতুন কুড়ি স্পোর্টস সিজন ২ উদ্ভোধন
টানা আন্দোলনের পর গাজীপুরে শান্তিপূর্ণ ভাবে কাজে ফিরেছেন শ্রমিকেরা: কঠোর অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
পিরোজপুরে ইসলামী যুব আন্দোলনের যুব সম্মেলন অনুষ্ঠিত
পিরোজপুরে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে মতবিনিময় সভা: ৭ সদস্যের পৌর কমিটি গঠন