বেনাপোল বন্দরে শুল্কফাঁকির পার্টসের চালান জব্দ
দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আনা একটি পার্টসের চালান আটক। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৯ (জানুয়ারী) রাতে বেনাপোল বন্দরের কার্গো ভেহিকেল টার্মিনালে প্রবেশকৃত ৩ টি ভারতীয় ট্রাক জব্দ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। যার মেনিফেস্ট নং ৬০১-২০২৬-০০৩-০০০-৩৩২৬,বি/ই নং-৮৭৭০৯৭৯,তারিখ: ০৭/০১/২০২৬ইং। পরে কাস্টমসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পণ্য চালনটি পরীক্ষণ করলে ৩ হাজার কেজি অতিরিক্ত ঘোষণাবর্হিভূত পার্টসের শুল্কফাঁকির ঘটনা উদঘটিত হয়।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিনব্যাপী আটক ভারতীয় ট্রাক নং (ডাব্লু বি-২৫কে-৩০২৯,ডাব্লু বি ২৩সি-০১৮২ ও ডাব্লু বি-২৯-১০১৬) ট্রাক গুলোতে থাকা পণ্য পরীক্ষণ করে কাগজপত্রবিহীন অতিরিক্ত ৩ হাজার কেজি বেশি পণ্য রয়েছে বলে জানা গেছে।
কাস্টমস সূত্র জানায়, ভারত হতে আমদানিকৃত তিন ট্রাক পার্টসের চালানে ঘোষণাপত্রে ১২৩১ প্যাকেজ “পাটর্স অফ এ্যাসোসোরিজ ফোর হুইলার পার্টস” আমদানি করে। আমদানিকৃত পণ্য চালানে ঘোষীত গ্রস ওয়েট ৪১ হাজার ৭৬ কেজি এবং নিট ওয়েট দেখানো হয়েছে ৩৪ হাজার ২৪৫ কেজি যা গ্রস ওজন থেকে ৬ হাজার ৮০১ কেজি বেশি। একই সাথে ঘোষণা ছিল ফোর হুইলার পার্টস কিন্তু পরীক্ষণের সময় দেড় টনের অধিক টু-হুইলার পার্টস মিলেছে।
কাস্টমস নথী অনুযায়ী,আটক চালানটির ভারতীয় রপ্তানিকারক মেসার্স এ্যাপেক্স ইন্টারন্যাশনাল ও বাংলাদেশি আমদানিকারক যশোরের মেসার্স শাহিন এন্টারপ্রাইজ। বেনাপোল বন্দরে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের দায়িত্বে ছিল বহুল আলোচিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এস এ ট্রেডার্স।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, কাস্টমস ও বন্দরের দুর্নীতিগ্রস্ত কয়েকজন পুরাতন রাজস্ব কর্মকর্তার ঘুস বাণিজ্যের পাতানো ফাঁদে চলছে শুল্ক ফাঁকির নীলনকশা। বিনিময়ে সব ঘাট ম্যানেজ করে প্রতিটি চালানের বিপরীতে মোটা অংকের রফাদফায় পণ্য চালান খালাশ হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া এই শুল্কফাঁকি সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত কিছু কর্মকর্তা হাউসের বাইরে ভাড়া বাসায় থেকে সিন্ডিকেটের সাথে গোপন মিটিংয়ে ছক মোতাবেক শুল্কফাঁকিতে লিপ্ত রয়েছেন।
তারা আরো জানায়, ৫ আগস্ট পরবর্তীতে সিন্ডিকেট চক্রের ১ম এই চালান জব্দের ঘটনা কেবল একটি চালান আটকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বন্দর ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা শুল্ক ফাঁকি ঘোষণার বাইরে পণ্য আমদানি এবং কাস্টমসের ভেতর-বাইরের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কার্যক্রমের বাস্তব প্রতিফলন এমনই একটি চালান এটি। তাছাড়া বেনাপোল কাস্টমসের সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার শরিফুল হাসান লাইসেন্সিং কমিটির সভাপতি থাকাকালিন সময়ে “এস এ ট্রেডার্স” এর মতো ১০ থেকে ১৫ টি লাইসেন্স রাতারাতি মালিকানা পরিবর্তন,নাম পরিবর্তনসহ রেফারেন্স লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। যা লাইসেন্সিং বিধি মোতাবেক হয়নি বলে গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানান।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান,নবনিযুক্ত কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান যোগদানের পরপরই একরপর এক শুল্কফাঁকির চালান আটক হচ্ছে। এতেই স্পষ্ট বোঝা যায় কর্মকর্তাদের পকেটস্তকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন কৌশলে শুল্কফাঁকি হচ্ছিল। যার কারনে গত ৬ মাসে বেনাপোল বন্দরে ১ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। আর আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বণে গেছে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যরা।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, বেনাপোল বন্দরে চলমান শুল্কফাঁকির ঘটনা ঘটছে নবগত কমিশনার ফাইজুর রহমান চোঁখকান খোলা রাখলেই এমন শুল্কফাঁকির চালান নিয়মিত ধরা পড়বে। তাছাড়া বর্তমান শুল্ককর ঘাটতির অন্যতম কারন সাধারণ পরীক্ষণ আর পরীক্ষণের শ্রেণীবিন্যাশ। বেনাপোল বন্দরে বেশি শুল্ক আদায় হওয়া অন্যতম পণ্য মটরপার্টস যা পূর্বে (আইআরএম) শাখায় পরীক্ষণ হত। অথচ এই মটরপার্টস বর্তমান নরমাল পরীক্ষণে খালাশ দেওয়া হচ্ছে। যেখানে কাস্টমসের (আইআরএম) শাখার অধীনে বিগত সময়ে মটরপার্টস পরীক্ষণে বহু শুল্ককর ফাঁকির চালান ধরা পড়ে। অথচ বেনাপোল কাস্টমসের গুরুত্বপূর্ণ শুল্কযুক্ত পণ্যেটি সাবেক কমিশনার খালেদ মোঃ আবু হোসেন নরমাল পরীক্ষণ শাখায় হস্তান্তর করেন। ফলে সমানের দিকে রাজস্ব আদায়ে ব্যপক ঘাটতিসহ শুল্কফাঁকির প্রবণতা বাড়ছে। দ্রুত পূর্বের লিষ্টেড পণ্য (আইআরএম) পরীক্ষণ শাখায় নিলে কর্যকারী পদক্ষেপ ঘটবে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোলের একটি সিন্ডিকেট চক্র সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিতে বন্দর ও কাস্টমসের অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে কাগজপত্রবিহীন অতিরিক্ত পণ্য এনে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। এসব সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে কার্যকারী ব্যবস্থা নিলে শুল্কফাঁকি রোধ হবে।
বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশানার রাহাত হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা ৩ টি ভারতীয় ট্রাক জব্দ করি। পরবর্তীতে আমরা পণ্য চালান পরীক্ষণ করে ৩ টনের অধিক ঘোষণা বর্হিভূত পণ্য পাওয়া যায়। যার দেড় টনের বেশি পণ্য যে এইস এস কোডে ঘোষণা দেওয়া ছিল সেই এইসএস কোড থেকে অন্য এইস এস কোডে সুইচ করি তাতে সরকারে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায় হবে। তাছাড়া এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পূর্বের নথী পর্যালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএসএম / এমএসএম
ঠিকাদারের গাফিলতিতে ধ্বসে গেছে মাদ্রাসা ভবন
আত্রাইয়ে সেই কারামুক্ত অসহায় বৃদ্ধা রাহেলার পাশে ইউএনও শেখ মো. আলাউল ইসলাম
আত্রাইয়ে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম রেজুর গণসংযোগে নেতাকর্মীদের ঢল
বেনাপোল বন্দরে শুল্কফাঁকির পার্টসের চালান জব্দ
রাজস্থলীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত
বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম ইমাম উদ্দিনের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
কুড়িগ্রামে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারনা শুরু
কুমিল্লায় নির্বাচনি প্রচারে মাঠে প্রার্থীরা
রাঙ্গামাটিতে সিএনজির উপর মালবাহী ট্রাক চাপায় এক নারী যাত্রী নিহত
শালিখায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত
মান্দায় গরীবের সম্বল কেড়ে নিলেন- এক ইউপি সদস্য
বাগেরহাটের ফকিরহাটে চুরি করতে এসে গৃহিণীকে হত্যার অভিযোগ