লাকসামে বিএনপি নেতা হিরু-পারভেজ নিখোঁজের ১২ বছর, স্বজনদের অপেক্ষার প্রহর কাটছে না
কুমিল্লার দক্ষিণাঞ্চল বিএনপির প্রাণপুরুষ ও গণমানুষের নেতা, লাকসামের দুই শীর্ষ ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম হিরু এবং হুমায়ুন কবির পারভেজ নিখোঁজের ১২ বছর 'গুম দিবস' আজ ২৭ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার, নীরবে-নিস্তব্দে কেটে যাচ্ছে। দীর্ঘ এক যুগ পার হলেও নিখোঁজ দুই নেতার পরিবার-পরিজনরা সেই ঘটনার তীব্র যন্ত্রণা আজও অনুভব করছেন। ২০১৩ সালের এই দিনে যৌথ বাহিনীর ভয়াবহ নাটকের শিকার হওয়ার পর তাঁদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা জানতে না পারায় স্বজনদের সারা জীবনের অলিখিত এক অজানা অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের এই দিনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে এই দুই শীর্ষ নেতাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু দীর্ঘ ১২ বছরেও তাঁদের কোনো হদিস মেলেনি। অপহৃত দুই পরিবারের দাবি, গুমের ঘটনা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ের সঙ্গে তুলনীয়, যখন লোকজনকে তুলে নিয়ে গেলে তারা আর ঘরে ফেরত আসেনি। কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানি শুকিয়ে যাওয়া এই দুই নেতার পরিবার-পরিজন বলছেন, "হিরু-পারভেজ এখনও বেঁচে আছেন, তাঁরা ফিরে আসবে, না কি তাঁদের মেরে ফেলা হয়েছে? তাহলে অন্তত দু’জনের লাশটি ফেরত দিন।"
দলীয় সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর এই দিনে র্যাব-১১ পরিচয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাদা পোশাকের সদস্যরা লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক এমপি ও দৌলতগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম হিরু এবং পৌর বিএনপির সভাপতি-ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির পারভেজকে কুমিল্লা যাওয়ার পথে আলীশ্বর নামক স্থান থেকে আটক করে। একই সাথে নিখোঁজ হিরুর মালিকানাধীন লাকসাম ফ্লাওয়ার মিল থেকে নগদ টাকা ও বেশক'টি দামি মোবাইল সেটসহ অপর দশজন বিএনপি নেতা-কর্মীকেও আটক করা হয়। ঘটনার দিন সন্ধ্যা পৌনে ৮টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে যৌথ বাহিনীর এই নাটকীয় অভিযান চলে। ওই দিন গভীর রাতে অভিযানকারী যৌথ বাহিনীর সদস্যরা আটক ১০ জনকে লাকসাম থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলেও হিরু-হুমায়ুনের ভাগ্যে কী ঘটেছে, দীর্ঘ এক যুগেও কোনো সংস্থা তার সন্ধান দিতে পারেনি।
অপহৃত দুই নেতার সন্ধান না পেয়ে স্বজনরা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। অপহৃত হুমায়ুনের ছোট ভাই গোলাম ফারুক লাকসাম থানায় ডায়েরী ও কুমিল্লা কোর্টে মামলা দায়ের করলে তার তদন্তভার লাকসাম থানা পুলিশ ও একটি গোয়েন্দা সংস্থার ওপর ন্যাস্ত হয়। মামলা ও ডায়েরীর তদন্তে এক যুগ পার হলেও কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না থাকা এবং মূল পরিকল্পনাকারীদের সনাক্ত করতে বিভিন্ন তদন্ত সংস্থার রহস্যজনক নীরব ভূমিকাকে দায়ী করেছেন স্বজনরা। দুই নেতা নিখোঁজের মামলায় পুলিশী তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে মামলার বাদী গোলাম ফারুক নারাজীর আবেদন জমা দিয়েছেন এবং একই সাথে মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন।
নিখোঁজের ১২ বছরে শুধুমাত্র দু'পরিবার ঘরোয়াভাবে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন ছাড়াও স্থানীয় বিএনপি, অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা হাতে নিয়েছে নানান কর্মসূচি। স্বজন ও ভক্তদের একটাই দাবি—নিখোঁজ দুই নেতার সন্ধান মিলুক এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হোক।
এমএসএম / এমএসএম
লোহাগড়ার সিডি বাজারে গাঁজা বিক্রির সময় জনতার হাতে মাদক কারবারি আটক
ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর পশ্চিম কমিটিতে আইন বিষয়ক সম্পাদক চৌগাছার জাফর ইকবাল
রৌমারীতে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
কুষ্টিয়ায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান
রাণীনগরে পাইকারি দোকানের টিন কেটে দেড় লাখ টাকার সিগারেট চুরি, থানায় অভিযোগ
নওয়াপাড়ায় ব্যবসায়ী হত্যা মামলার প্রধান আসামি যশোর থেকে গ্রেফতার
মেঘনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ: “তিন মাসে চার খুন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করছেনঃ হাসনাত আবদুল্লাহ
ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজে অনিয়মের অভিযোগে আলোচনায় অধ্যাপক শাহ মোঃ মাছুম মিয়া
শিবপুর থেকে চুরি করা শিশু ৪ হাজার টাকায় বিক্রি
মান্দায় গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
পিরোজপুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ
পিরোজপুরে ২৫টি হারানো মোবাইল উদ্ধারকরে মালিকদের হাতে তুলে দিল জেলা পুলিশ