মনপুরায় সংরক্ষিত বনে গাছ নিধনের হাহাকার; নীরব দর্শকের ভূমিকায় বন বিভাগ
ভোলা জেলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরা। একসময় ঘন সবুজে ঘেরা এই দ্বীপের সৌন্দর্য টিকিয়ে রেখেছিল বিস্তীর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল। কিন্তু এখন সেই বনেই চলছে নির্বিচার গাছ নিধনের মহোৎসব। রাতের অন্ধকারে কিংবা দিনের ফাঁকফোকরে কেটে নেওয়া হচ্ছে মূল্যবান গাছ। কোথাও গাছের গুঁড়ি পড়ে আছে, কোথাও আবার নতুন করে বনের মাঝখান খালি করে তৈরি করা হচ্ছে ‘গোপন পথে’ পরিবহনের রাস্তা।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মনপুরা উপজেলার বিভিন্ন বনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়মিত গাছ কাটছে। বনের ভেতর করাতের শব্দ মাঝেমধ্যেই শোনা গেলেও বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না। অভিযোগ রয়েছে অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় গাছকাটা চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
বনের অভ্যন্তরে ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন জায়গায় কাঁচা গাছের স্তূপ পড়ে আছে। কিছু জায়গায় ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে নতুন করে আগুন দিয়ে ‘মাঠ’ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। এতে শুধু গাছই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বনের জীববৈচিত্র্যও। পাখির বাসা, বন্যপ্রাণীর আশ্রয়স্থল সবকিছু ধ্বংসের মুখে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এমন চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে মনপুরার সবুজ ঐশ্বর্য পুরোপুরি উজাড় হয়ে যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দা লিটন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান , আমরা বারবার বন বিভাগকে জানালেও তেমন কোনো ব্যবস্থা দেখি না। যারা গাছ কেটে নেয়, তারা এতটাই শক্তিশালী যে সাধারণ মানুষ ভয় পায় কথা বলতে।
এ বিষয়ে মনপুরা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের রিং বেড়িবাঁধের কাজের জন্য এই গাছ গুলো টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি হয়ে গেছে। এর পর যে-ই লড গুলো রয়ে গেছে সেগুলো টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি হয়ে গেছে। ভেতর থেকে যে গাছ গুলো কাটা হয়েছে সেই গাছ গুলো উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এ ছাড়াও ভিট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা ঘটনাস্থল নিয়মিত পরিদর্শনের কথা দাবি করেন । তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, তাদের উপস্থিতি শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।
এ বিষয়ে ভোলা জেলা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আরিফুল হক বেলাল এর সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।
পরিবেশবিদ মনপুরা সরকারি ডিগ্রি কলেজ প্রভাষক মোঃ মফিজুল ইসলাম এর মতে, সংরক্ষিত বনে এভাবে গাছ নিধন চলতে থাকলে মনপুরার পরিবেশের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। উপকূলীয় সুরক্ষা দুর্বল হয়ে যাবে, বাড়বে ভাঙন, কমে যাবে জীববৈচিত্র্য। তিনি আরও বলেন, অনেক প্রাণী আছে আমরা বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন কিন্তু বন উজার করার কারণে সে সকল প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়াও মানব দেহের জন্য গাছ অক্সিজেন ত্যাগ করে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে। যদি গাছ কেটে উজাড় করা হয় তাহলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাবে এবং মানুষের দেহের জন্য ক্ষতি হবে।
মনপুরার মানুষ তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন। তাদের কথা বন যদি না থাকে, তাহলে মনপুরার অস্তিত্বই একদিন প্রশ্নের মুখে পড়বে।
এমএসএম / এমএসএম
তাহিরপুরে ধুমধাম করে ১৩ বছরের কিশোরীকে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি ভেঙে দিলেন উপজেলা প্রশাসন।
চবিতে ‘একেএম ফজলুল কাদের চৌধুরী হল’ নামকরণের দাবিতে মানববন্ধন
আনোয়ারায় পূর্ব শত্রুতায় জেরে স্থানীয় যুবদল নেতার উপর হামলার অভিযোগ
পঞ্চগড়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চা বাগান দখল চেষ্টার অভিযোগ
পেকুয়ায় বন বিভাগের অভিযানে মিশিয়ে দেওয়া হলো অবৈধ বালুর স্তূপ
গুরুদাসপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল মতিন গ্রেপ্তার
বেশি দামে সার বিক্রি, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা
বেনাপোল স্থলবন্দর পরিচালক বদলি,আলোচনায় সাবেক পরিচালক মামুন
গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মানববন্ধন, থানায় মামলা, গ্রেফতার ২
মধুখালীতে নবাগত ইউএনও এর সাথে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির ফুলের শুভেচ্ছা বিনিময়।
হাটহাজারীতে চাঞ্চল্যকর নুরুল আজিম হত্যার প্রধান আসামী গ্রেফতার
চুয়াডাঙ্গার সিমান্তগুলোতে স্বর্ণ পাচারের বাহকরা ধরা পরলোও অধরাই নেপথ্যের হোতারা