চাঁদা না দেয়ায় হাতের আঙ্গুল হারালেন বগুড়া পলিটেকনিকের শিক্ষার্থী আনারুল ইসলাম
নওগাঁর ধামইরহাটের মেধাবী শিক্ষার্থী আনারুল ইসলাম (২১) চাঁদা না দেয়ায় সন্ত্রাসীদের দ্বারা প্রহৃত হয়েছেন, হারিয়েছেন মহামূল্যবান ডান হাতের দুই আঙ্গুল। এ ঘটনায় রিকসাচালক বাবা ও অন্যের বাড়িতে কাজ করা মায়ের আকুতিতে পুরো গ্রামে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বগুড়া জেলা ডিবি পুলিশ বাড়িতে এসে ভুক্তভোগীর বাড়ি ও তাকে প্রত্যক্ষ করেছে। নওগাঁ জেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জিয়া সাইবার টিম বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আনারুল ইসলামকে নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, উপজেলার চক উমার (পাটারিপাড়া) গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আনারুল ইসলাম (২১) ২০১৭ সালে ধামইরহাট সফিয়া পাইলট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করে জয়পুরহাট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে চান্স পান। সেখানে নতুন স্বপ্ন নিয়ে পড়ালেখা শুরু করেন। চতুর্থ সেমিস্টার সম্পন্ন করে পঞ্চম সেমিস্টারের জন্য বগুড়া পলিটেকনিকে ট্রান্সফার হন এবং গত ১২ সেপ্টেম্বর বগুড়া শহরের কলোনির একটি ছাত্রাবাসে ওঠেন। সেখানে থাকাকালে গত ২১ সেপ্টেম্বর রুমমেট নাহিদ হাসান ঘুমন্ত অবস্থায় আনারুল ইসলাম বাড়ির বািইরে যান। কিছুক্ষণ পর আনারুল রাস্তায় পড়ে আছেন- মেসের খালা (বুয়া) এমন খবর রুমমেট নাহিদকে জানালে তাৎক্ষণিক খোঁজ নিতে এলে তাকে সেখানে না পেয়ে আনারুলকে ফোন করেন। আনারুল হাসপাতালে ভর্তি আছেন জানতে পেরে রুমমেট নাহিদ হাসপাতালে যান।
সেখানে উপস্থিত থানা পুলিশ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষার্থী আনারুল ইসলাম বলেন, আমি নাস্তা খাবার জন্য রুমের বাইরে এলে দুজন অজ্ঞাত লোক আমার কাছে মোবাইল ও টাকা দাবি করে। আমি দিতে অস্বীকার করলে তারা আমাকে মেসের দোতলার বাথরুমে নিয়ে হাত ও চোখ বেঁধে ডান হাতের দুটি (তর্জনী ও মধ্যমা) আঙ্গুল কেটে রাস্তায় ফেলে রাখে। অজ্ঞান অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে শমিজেক হাসপাতালে নিয়েছেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে বগুড়ার কলোনি এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ২৫ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে থেকে রিলিজ নিয়ে তাকে ধামইরহাট উপজেলায় তার গ্রামের বাড়িতে আনা হলে হামলাকারীদের আতংকে ভুক্তভোগী আনারুল ইসলাম ভুলভাল বকছেন, কখনো নীরব থাকছেন, কখনো বলছেন আমি মামলা করব না, আমার ভবিষ্যতের জন্য কিছু করে দেন।
আনারুলের মা সাহারা খাতুন জানান, লকডাউনে আমার স্বামী অসুস্থ থাকায় ছেলে আনারুল নিজে রিকসা চালিয়েছে। কোনো বাজে চলাফেরা তার নেই। ঘটনার পর থেকে আমার ছেলেকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। মোবাইল ফোনে একাধিক ফোন করা হচ্ছে। আমি আমার ছেলের প্রতি করা বর্বরতার সুবিচার প্রার্থনা করছি।
বগুড়া সড়র থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম রেজা জানান, বিষয়টি আমি জেনেছি। এখন পর্যন্ত কেউ থানায় আসেনি বা অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ মো. শহীদুল ইসলাম এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে এই বর্বরোচিত হামলা মেনে নেয়া যায় না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি করছি।
এমএসএম / জামান
মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: ভূরুঙ্গামারীতে অসহায় বৃদ্ধের পাশে শ্রী পরিমল চন্দ্র সাহা
সুনামগঞ্জে গৃহবধূ সুমি দাশের আত্মহত্যা এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর, স্বামী কারাগারে
একনজরে লক্ষ্মীপুর জেলা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬
পাঁচবিবিতে দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার ৯ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত
রাণীনগর- আদমদীঘি সীমান্ত রেখার ডোবা থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার
ট্রেনের ধাক্কায় দুই যুবক নিহত
বারহাট্টাবাসীর জনপ্রিয়তার শীর্ষে বিএনপি'র প্রার্থী ডাঃ আনোয়ারুল হক
মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে টেকনাফে শিশু নিহত
বেনাপোল বন্দরে সিন্ডিকেটের কারসাজিতে চলছে শুল্কফাঁকি
চট্টগ্রাম ডিসি পার্কে মাসব্যাপী ফুল উৎসবের উদ্বোধন
লাকসামের অলি-গলিতে শীতের পিঠা বিক্রেতাদের মহা-ধুমধাম
শেরপুরে পিআইবির উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন