ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

‎কুয়াশায় ঢাকা গাইবান্ধা: সূর্যহীন দিনে শীতে বিপর্যস্ত খেটে খাওয়া মানুষ


মজিবর রহমান, গাইবান্ধা photo মজিবর রহমান, গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ২৮-১২-২০২৫ দুপুর ৩:২৩

ঘন কুয়াশা আর কনকনে শীতে দিন দিন স্থবির হয়ে পড়ছে গাইবান্ধার জনজীবন। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ভোরে আলো ফুটলেও দিনের আলো যেন ঠিকভাবে আসে না। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও সূর্যের দেখা মিলছে না। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ও হিমেল হাওয়ার দাপটে শহর থেকে গ্রাম, নদীতীর ও চরাঞ্চল—সবখানেই বেড়েছে শীতের তীব্রতা।

‎সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে কাজে বের হওয়া রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক এবং হাট-বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন শীতের সঙ্গে লড়াই করে জীবিকা চালাচ্ছেন। অনেক সময় যাত্রী বা কাজ না থাকায় আয় কমে যাচ্ছে, আবার কাজ পেলেও কনকনে ঠান্ডায় শরীর ঠিকমতো সায় দিচ্ছে না।

‎গাইবান্ধা শহরের অটোভ্যানচালক আব্দুল কাদের মিয়া বলেন,
‎“ভোরে বের হই, কিন্তু যাত্রী কম। শীতে হাত-পা জমে যায়। কাজ না করলে ভাত জোটে না, আর কাজ করলেও শরীর কষ্ট দেয়।”

‎গ্রামাঞ্চলেও চিত্র ভিন্ন নয়। কুয়াশার কারণে ভোরে জমি স্পষ্ট দেখা যায় না, ঠান্ডায় জমে যায় শরীর। আমন ধান কাটা শেষ হলেও অনেক কৃষক এখনও খড় সংগ্রহ ও জমি প্রস্তুতসহ বিভিন্ন কাজে যুক্ত। তবে শীতের কারণে কাজের গতি কমে গেছে। দিনমজুরদের ক্ষেত্রেও কাজ কমে যাওয়ায় মজুরি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

‎বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নীলুফার ইয়াসমিন শিল্পী বলেন, নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ তুলনামূলক বেশি। খোলা প্রান্তরে শীতের তীব্রতা আরও বেশি অনুভূত হয়। অনেক পরিবারে এখনও পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র নেই। পুরনো কম্বল বা পাতলা চাদরেই রাত কাটাতে হচ্ছে অনেককে। শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

‎শীতের প্রভাব পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। কুয়াশার কারণে সকালে দৃশ্যমানতা কম থাকায় অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো স্কুলে যেতে পারছে না। কনকনে শীতে শিশুদের বাইরে পাঠানো নিয়ে অভিভাবকরাও উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে চর ও গ্রামাঞ্চলের স্কুলগামী শিশুদের কষ্ট বেশি হচ্ছে।

‎এদিকে ঘন কুয়াশায় সড়ক ও নদীপথেও ঝুঁকি বেড়েছে। সড়কে যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। রিকশা ও ভ্যানচালকরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। নদীপথে নৌযান চলাচলেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

‎আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং আগামী কয়েকদিন ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে। এতে তাপমাত্রা আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে।

‎এ অবস্থায় স্থানীয়দের দাবি, খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষক ও চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণসহ সরকারি-বেসরকারি সহায়তা জোরদার করা প্রয়োজন। নতুবা এই কনকনে শীতে গাইবান্ধার মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

‎গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ২২ হাজার ৬০০টি কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং জেলার সাতটি উপজেলায় জনসংখ্যার ভিত্তিতে এসব কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

এমএসএম / এমএসএম

অপরাজনীতি ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সাভারে ঢাকা জেলা যুবদলের বিশাল বিক্ষোভ ও সমাবেশ

দুধকুমার সহ কয়েকটি নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত, চরাঞ্চল প্লাবিত

শালিখায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উন্নয়ন সহায়তা উপকরণ বিতরণ

সেবা নিতে এসে মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন: নরসিংদীর জেলা প্রশাসক

ঠাকুরগাঁওয়ে ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ মামা-ভাগিনা গ্রেফতার

৩৭ বছরের গৌরবময় পুলিশি জীবনের ইতি, রাজকীয় বিদায়ে অবসরে গেলেন এসআই ছবির উদ্দিন শিকদার

বিবাহিত স্ত্রীকে ফুসলায় অন্যত্র বিবাহ অভিযোগে সাতক্ষীরা বিজ্ঞ আমলী আদালতে মামলা

পরিবেশ সুরক্ষায় শরণখোলায় শিক্ষার্থীদের সচেতনতামূলক র‍্যালি ও বৃক্ষরোপণ

চকরিয়ার গৌরব: ৪৭তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেন ইয়াসিন আরাফাত

তিস্তার পানি কমলেও কাটেনি অববাহিকার পানির টান, আগামী ৭২ ঘণ্টায় আবারও বাড়ার পূর্বাভাস

হাটহাজারী পার্বতী মডেল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়োজনে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

‎চট্টগ্রাম বারইয়ারহাট পৌরসভার ক্লাস্টার উন্নয়ন কর্মশালা

মোহনগঞ্জে ‘পার্টনার কংগ্রেস-২০০৬’ অনুষ্ঠিত