ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

‎কুয়াশায় ঢাকা গাইবান্ধা: সূর্যহীন দিনে শীতে বিপর্যস্ত খেটে খাওয়া মানুষ


মজিবর রহমান, গাইবান্ধা photo মজিবর রহমান, গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ২৮-১২-২০২৫ দুপুর ৩:২৩

ঘন কুয়াশা আর কনকনে শীতে দিন দিন স্থবির হয়ে পড়ছে গাইবান্ধার জনজীবন। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ভোরে আলো ফুটলেও দিনের আলো যেন ঠিকভাবে আসে না। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও সূর্যের দেখা মিলছে না। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ও হিমেল হাওয়ার দাপটে শহর থেকে গ্রাম, নদীতীর ও চরাঞ্চল—সবখানেই বেড়েছে শীতের তীব্রতা।
‎
‎সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে কাজে বের হওয়া রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক এবং হাট-বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন শীতের সঙ্গে লড়াই করে জীবিকা চালাচ্ছেন। অনেক সময় যাত্রী বা কাজ না থাকায় আয় কমে যাচ্ছে, আবার কাজ পেলেও কনকনে ঠান্ডায় শরীর ঠিকমতো সায় দিচ্ছে না।
‎
‎গাইবান্ধা শহরের অটোভ্যানচালক আব্দুল কাদের মিয়া বলেন,
‎“ভোরে বের হই, কিন্তু যাত্রী কম। শীতে হাত-পা জমে যায়। কাজ না করলে ভাত জোটে না, আর কাজ করলেও শরীর কষ্ট দেয়।”
‎
‎গ্রামাঞ্চলেও চিত্র ভিন্ন নয়। কুয়াশার কারণে ভোরে জমি স্পষ্ট দেখা যায় না, ঠান্ডায় জমে যায় শরীর। আমন ধান কাটা শেষ হলেও অনেক কৃষক এখনও খড় সংগ্রহ ও জমি প্রস্তুতসহ বিভিন্ন কাজে যুক্ত। তবে শীতের কারণে কাজের গতি কমে গেছে। দিনমজুরদের ক্ষেত্রেও কাজ কমে যাওয়ায় মজুরি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
‎
‎বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নীলুফার ইয়াসমিন শিল্পী বলেন, নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ তুলনামূলক বেশি। খোলা প্রান্তরে শীতের তীব্রতা আরও বেশি অনুভূত হয়। অনেক পরিবারে এখনও পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র নেই। পুরনো কম্বল বা পাতলা চাদরেই রাত কাটাতে হচ্ছে অনেককে। শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
‎
‎শীতের প্রভাব পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। কুয়াশার কারণে সকালে দৃশ্যমানতা কম থাকায় অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো স্কুলে যেতে পারছে না। কনকনে শীতে শিশুদের বাইরে পাঠানো নিয়ে অভিভাবকরাও উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে চর ও গ্রামাঞ্চলের স্কুলগামী শিশুদের কষ্ট বেশি হচ্ছে।
‎
‎এদিকে ঘন কুয়াশায় সড়ক ও নদীপথেও ঝুঁকি বেড়েছে। সড়কে যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। রিকশা ও ভ্যানচালকরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। নদীপথে নৌযান চলাচলেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
‎
‎আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং আগামী কয়েকদিন ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে। এতে তাপমাত্রা আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে।
‎
‎এ অবস্থায় স্থানীয়দের দাবি, খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষক ও চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণসহ সরকারি-বেসরকারি সহায়তা জোরদার করা প্রয়োজন। নতুবা এই কনকনে শীতে গাইবান্ধার মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
‎
‎গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ২২ হাজার ৬০০টি কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং জেলার সাতটি উপজেলায় জনসংখ্যার ভিত্তিতে এসব কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

এমএসএম / এমএসএম

সিলেটে পুলিশের ধাওয়ার মুখে সুরমায় ঝাঁপ, প্রাণ গেল ৫৮ বছর বয়সী ব্যক্তির

মান্দায় তীব্র সার সংকটে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ

সখীপুরে ধানক্ষেত থেকে নিরাপত্তাকর্মীর মরদেহ উদ্ধার

সিলেটের মাজার এলাকা থেকে কুমিল্লার নিখোঁজ ৪ শিক্ষার্থী উদ্ধার

আদমদীঘিতে ৫ মাদক কারবারির জেল-জরিমানা

সিংড়ায় সার পেতে কৃষকদের ভোগান্তি, দীর্ঘ লাইন

জিয়ানগরে পল্লী চিকিৎসক দলের সদস্য সচিব সহ দুজনকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা

জুড়ীতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল স্বেচাসেবক লীগ নেতা গ্রেফতার

ফুটপাত দখল মুক্ত করতে কোনাবাড়িতে জিসিসির উচ্ছেদ অভিযান

তেঁতুলিয়ায় ঢাকঢোল পিটিয়ে জমির দখল বুঝিয়ে দিলো আদালত

স্কাউটিংয়ে খুলনা অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ উপজেলা অভয়নগর, সংবর্ধিত ইউএনও

রায়গঞ্জে নতুন ইউনিয় নয় পুরাতন ইউপিতেই থাকতে চান নাগরিকেরা, প্রতিবাদে গণ সাক্ষর ও সভা অনুষ্ঠিত

জুড়ীতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল স্বেচাসেবক লীগ নেতা গ্রেফতার