"এক নেত্রীর প্রস্থান, এক রাজনৈতিক মহাকালের অবসান"
বেগম খালেদা জিয়া: রাষ্ট্র, গণতন্ত্র ও প্রতিরোধের দীর্ঘ ইতিহাস
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু কিছু মৃত্যু কেবল একজন মানুষের প্রস্থান নয়—তা হয়ে ওঠে একটি সময়ের সমাপ্তি, একটি ধারার অবসান, একটি যুগের পর্দা নামা। তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের প্রথম নারী সরকারপ্রধান, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপোষহীন প্রতীক ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু তেমনই এক ঐতিহাসিক ঘটনা। আজ তাঁর ইন্তেকালের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি হারাল এক দৃঢ়চেতা অভিভাবককে, রাষ্ট্র হারাল এক পরীক্ষিত নেতৃত্বকে এবং ইতিহাস হারাল এক জীবন্ত অধ্যায়কে। এই মৃত্যু শুধু শোকের নয়—এটি বিশ্লেষণের, আত্মসমালোচনার এবং রাষ্ট্রীয় বিবেচনারও সময়।
শোকের আবহ, রাষ্ট্রের নীরবতা এবং ইতিহাসের দায়ঃ
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশবাসী গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। রাজনৈতিক বিভাজন সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের মধ্যে যে আবেগ, বেদনা ও শূন্যতার অনুভূতি দেখা দিয়েছে, তা স্পষ্ট করে দেয়—তিনি কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না; তিনি ছিলেন জাতীয় জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
ইতিহাসের কঠিন সত্য হলো—বাংলাদেশে জীবদ্দশায় রাষ্ট্র অনেক সময় তার গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের যথাযথ মর্যাদা দিতে ব্যর্থ হয়, কিন্তু মৃত্যুর পর ইতিহাস সেই দায় রাষ্ট্রের কাঁধে চাপিয়ে দেয়। বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও সেই প্রশ্ন অবধারিতভাবে উঠছে।
রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিঃ
চলতি মাসেই সরকার তাঁকে রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (Very Important Person) হিসেবে ঘোষণা করেছিল। এই সিদ্ধান্ত নিছক আনুষ্ঠানিক ছিল না; এটি ছিল এক ধরনের বিলম্বিত রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি—যা প্রমাণ করে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য যত তীব্রই হোক, রাষ্ট্র তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা অস্বীকার করতে পারেনি।
এই স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে কার্যত স্বীকার করা হয়েছিল—বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসের এমন এক চরিত্র, যাঁকে বাদ দিয়ে আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা অসম্পূর্ণ।
গৃহবধূ থেকে গণআন্দোলনের নেত্রী: এক অসম্ভব যাত্রাঃ
১৯৮১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর বেগম খালেদা জিয়ার জীবন নাটকীয়ভাবে মোড় নেয়। তিনি তখন কোনো রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না, ছিলেন না রাজনীতির অভ্যন্তরীণ কৌশলে অভিজ্ঞ। ছিলেন একজন গৃহবধূ—কিন্তু ইতিহাস অনেক সময় অসম্ভবকে সম্ভব করে। ১৯৮২ সালে সামরিক শাসক এরশাদের শাসনামলে রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশ ছিল অনেকের চোখে সাময়িক ও প্রতীকী। কিন্তু খুব দ্রুতই তিনি প্রমাণ করেন—নেতৃত্ব উত্তরাধিকার নয়, নেতৃত্ব তৈরি হয় সংকটে। রাজপথে নামা, গ্রেপ্তার, হুমকি, দমন—সবকিছু উপেক্ষা করে তিনি ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মুখ। এরশাদের দীর্ঘ ৯ বছরের দুঃশাসনের পতনে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ভিত্তিঃ
১৯৮০ ও ৯০-এর দশকের বাংলাদেশ ছিল এক গভীর গণতান্ত্রিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাত্রা করা রাষ্ট্র। সেই সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল না—তা ছিল ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম।
এই সংগ্রামেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ‘গণআন্দোলন’ শব্দটি নতুন অর্থ পায়। তাঁর নেতৃত্বে স্বৈরতন্ত্র পতনের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়, সেটিই পরবর্তী তিন দশকের রাজনীতির ভিত্তি রচনা করে।
প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী: প্রতীক নয়, বাস্তব ক্ষমতাঃ
১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া শুধু ইতিহাস তৈরি করেননি—তিনি একটি মানদণ্ডও স্থাপন করেছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ার পুরুষতান্ত্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় একজন নারী প্রধানমন্ত্রীর সফলভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা ছিল একটি বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক বার্তা।
তাঁর নেতৃত্ব প্রতীকী ছিল না; ছিল বাস্তব, কার্যকর ও সিদ্ধান্তমূলক। প্রশাসন, অর্থনীতি, কূটনীতি—সব ক্ষেত্রে তিনি নিজস্ব ছাপ রেখে যান।
নির্বাচনী রাজনীতিতে অনন্য রেকর্ডঃ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়ার একটি ব্যতিক্রমী রেকর্ড রয়েছে—তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি।
১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে পাঁচটি পৃথক সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত
২০০৮ সালে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনটিতেই বিজয়
এই সাফল্য কেবল জনপ্রিয়তার নয়, বরং তাঁর প্রতি জনগণের আস্থার প্রতিফলন।
রাষ্ট্র পরিচালনায় নীতি ও সংস্কারের দিকনির্দেশনাঃ
১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে বেগম খালেদা জিয়া অর্থনৈতিক উদারীকরণ, বেসরকারিকরণ ও বাজারমুখী নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিকে নতুন গতিপথে পরিচালিত করেন। শিল্প, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে তাঁর সরকারের সিদ্ধান্তগুলো পরবর্তী অর্থনৈতিক কাঠামোর ভিত্তি গড়ে দেয়।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো—মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি কর্মসূচি। এই সিদ্ধান্ত শুধু নারী শিক্ষার প্রসার ঘটায়নি; এটি গ্রামীণ সমাজের মানসিক কাঠামো বদলে দিয়েছে। বাংলাদেশে নারীশিক্ষার অগ্রগতিতে এই নীতির অবদান ইতিহাসে স্বীকৃত।
ক্ষমতার বাইরে থেকেও নেতৃত্বঃ
ক্ষমতা হারানোর পরও বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতির কেন্দ্র থেকে সরে যাননি। বরং ক্ষমতার বাইরে থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন বিরোধী রাজনীতির প্রধান মুখ। সংসদ, রাজপথ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি বিরোধী কণ্ঠস্বরকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এখানেই তাঁর নেতৃত্বের প্রকৃত পরীক্ষা হয়—ক্ষমতায় থাকা সহজ, কিন্তু ক্ষমতার বাইরে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া কঠিন। তিনি সেই কঠিন পরীক্ষায়ও অবিচল ছিলেন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও রাষ্ট্রের কঠিন অধ্যায়ঃ
পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়া চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন। মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তাঁকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দীর্ঘ কারাবাস, অসুস্থতা এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ—সব মিলিয়ে এই অধ্যায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক গভীর কালো দাগ।
ইতিহাস একদিন প্রশ্ন তুলবেই—রাষ্ট্র কি তার প্রধান বিরোধী নেত্রীর সঙ্গে ন্যায়বিচার করতে পেরেছিল?
দ্বিমুখী রাজনীতির দুই মেরু: খালেদা–হাসিনা অধ্যায়ঃ
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের রাজনীতি মূলত দুই মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়ে—একদিকে শেখ হাসিনা, অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়া। এই দ্বিমুখী রাজনীতি একদিকে যেমন সংঘাত সৃষ্টি করেছে, তেমনি অন্যদিকে গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার ধারাকেও দীর্ঘদিন সচল রেখেছে।
শেখ হাসিনার শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন ক্ষমতার বাইরে থেকেও এক শক্তিশালী রাজনৈতিক মেরু। রাষ্ট্রক্ষমতা তাঁর হাতে না থাকলেও তিনি ছিলেন বিরোধী রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু—যাকে ঘিরেই সমর্থন, বিরোধিতা, আলোচনা ও সমালোচনা আবর্তিত হতো।
এই দুই নেত্রীর পারস্পরিক বিরোধ কখনো কখনো রাষ্ট্র পরিচালনার স্বাভাবিকতা ব্যাহত করেছে—এটি সত্য। কিন্তু একই সঙ্গে এটিও সত্য যে, এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাই বাংলাদেশের রাজনীতিকে এককেন্দ্রিক হয়ে পড়া থেকে বহু সময় রক্ষা করেছে।
বিরোধী রাজনীতির শেষ বড় প্রতীকঃ
বেগম খালেদা জিয়া ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের শেষ বড় বিরোধী রাজনৈতিক প্রতীক। তাঁর উপস্থিতি মানেই ছিল একটি বিকল্প রাজনৈতিক বয়ান, একটি প্রতিরোধী ভাষা এবং একটি ভিন্ন রাষ্ট্রদর্শনের অস্তিত্ব।
তিনি রাজনীতিতে ছিলেন বলেই বিরোধী মতের অস্তিত্ব রাষ্ট্রীয় আলোচনায় টিকে ছিল। তাঁর অনুপস্থিতিতে সেই শূন্যতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে—এ কথা আজ অনস্বীকার্য।
আন্তর্জাতিক পরিসরে খালেদা জিয়াঃ
দেশীয় রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেগম খালেদা জিয়ার গ্রহণযোগ্যতা ছিল উল্লেখযোগ্য। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে তিনি পরিচিত ছিলেন একজন দৃঢ়চেতা, রক্ষণশীল কিন্তু বাস্তববাদী নেত্রী হিসেবে।
আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক শক্তি, মানবাধিকার সংগঠন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশ তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে, বিশেষ করে তাঁর কারাবাস ও অসুস্থতার সময়ে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অবস্থা নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা সৃষ্টি করেছিল।
এই বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে, বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাষ্ট্রের আচরণ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতেও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বনাম ন্যায়বিচারঃ
বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় ছিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়া। মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড, দীর্ঘ সময় কারাবাস, অসুস্থ শরীর নিয়ে অমানবিক পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে এই অধ্যায় ইতিহাসে ন্যায়বিচারের প্রশ্নকে গভীরভাবে উত্থাপন করে।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী নেতাকে দমন করা রাষ্ট্রীয় শক্তির প্রকাশ হতে পারে, কিন্তু তা কখনোই রাষ্ট্রের শক্তিমত্তার প্রমাণ নয়। বরং এটি রাষ্ট্রীয় দুর্বলতার লক্ষণ—এই শিক্ষা ইতিহাস বারবার দিয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের এই অধ্যায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে।
মানবিকতা, অসুস্থতা ও রাষ্ট্রের দায়িত্বঃ
রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতার প্রশ্নে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাষ্ট্র যে আচরণ করেছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন বিতর্ক চলবে। গুরুতর অসুস্থতা সত্ত্বেও তাঁকে যথাসময়ে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়নি—এ অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, মানবিক প্রশ্ন হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।
একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, একজন প্রবীণ নাগরিক এবং একজন গুরুতর অসুস্থ মানুষ হিসেবে তিনি যে সহানুভূতি ও মর্যাদা পাওয়ার কথা, তা রাষ্ট্র কতটা নিশ্চিত করতে পেরেছে—এই প্রশ্ন ইতিহাসের কাঠগড়ায় উঠবেই।
বিএনপি ও উত্তরাধিকার সংকটঃ
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বিএনপি একটি গভীর নেতৃত্ব সংকটে পড়েছে। তিনি ছিলেন দলটির ঐক্যের কেন্দ্র, শেষ আশ্রয়স্থল এবং আবেগের প্রতীক। তাঁর অনুপস্থিতিতে বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—এই শূন্যতা কীভাবে পূরণ করা হবে।
রাজনীতি শুধু সংগঠন নয়, এটি আবেগ, বিশ্বাস ও নেতৃত্বের প্রশ্ন। বেগম খালেদা জিয়া সেই তিনটি উপাদানই একত্রে ধারণ করতেন। তাঁর উত্তরাধিকার রক্ষা করা বিএনপির জন্য শুধু রাজনৈতিক নয়, অস্তিত্বের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে।
নারী নেতৃত্ব ও সামাজিক প্রভাবঃ
বেগম খালেদা জিয়ার সবচেয়ে বড় অবদানগুলোর একটি হলো—তিনি নারী নেতৃত্বকে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিলেন। তাঁর আগে নারী নেতৃত্ব ছিল ব্যতিক্রম, তাঁর পর তা হয়ে ওঠে সম্ভাবনা।
তিনি প্রমাণ করেছিলেন—নারী শুধু রাজনীতিতে অংশগ্রহণই করতে পারে না, বরং রাষ্ট্র পরিচালনাও করতে পারে দক্ষতার সঙ্গে। এই প্রভাব আজও বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতিতে বিদ্যমান।
রাষ্ট্রের জন্য শিক্ষা: কী শিখলাম আমরা?
বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও মৃত্যু রাষ্ট্রকে কিছু কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়—
আমরা কি বিরোধী রাজনীতিকে টিকিয়ে রাখতে পেরেছি?
আমরা কি রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত করেছি?
আমরা কি আমাদের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের জীবদ্দশায় সম্মান দিতে শিখেছি?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা জরুরি—না হলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।
ইতিহাসের আদালতে চূড়ান্ত মূল্যায়নঃ
সময় যত এগোবে, রাজনৈতিক আবেগ প্রশমিত হবে। তখন ইতিহাস নির্মোহভাবে বিচার করবে। সেই বিচারে বেগম খালেদা জিয়া থাকবেন—
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সাহসী নেত্রী হিসেবে
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে
নির্বাচনী রাজনীতিতে অনন্য সাফল্যের অধিকারী হিসেবে
এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার এক দৃঢ় প্রতীক হিসেবে
তাঁর ভুল ছিল, সীমাবদ্ধতা ছিল—কিন্তু তাঁর অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
শূন্যতা যা পূরণ হয় নাঃ
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক শূন্যতা তৈরি করেছে—যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। আজকের রাজনীতিতে হয়তো ক্ষমতা আছে, কিন্তু সেই ধরনের নেতৃত্ব, সেই ধরনের আত্মত্যাগ, সেই ধরনের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব—দুর্লভ হয়ে উঠছে।
সময় একদিন সব ঢেকে দেয়, কিন্তু কিছু নাম ইতিহাসে থেকে যায়।
বেগম খালেদা জিয়া তেমনই এক নাম।
আজ শোকের এই দিনে জাতি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে। রাজনীতি চলবে, ক্ষমতা বদলাবে, কিন্তু ইতিহাস তাঁকে মনে রাখবে—
একজন আপোষহীন নেত্রী হিসেবে, যিনি ক্ষমতার জন্য নয়, বিশ্বাস ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছিলেন।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
লেখকঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট এবং সভাপতি বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি
Aminur / এমএসএম
বঙ্গশারদুল মেজর গনি: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবদান
ফিরে দেখা দুই হাজার পঁচিশ
জাতি একজন মহান অভিভাবককে হারালো
পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্য: বিপন্ন জনপদ ও আমাদের করণীয়
ম্যাডাম খালেদা জিয়া নেই: জাতীয় ঐক্যের এক অভিভাবকের বিদায়
বেগম খালেদা জিয়া: রাষ্ট্র, গণতন্ত্র ও প্রতিরোধের দীর্ঘ ইতিহাস
স্মার্ট প্রযুক্তির যুগে বিবেক ও নৈতিকতা
সংকট কালের স্থিতিশীল নেতৃত্বে তারেক রহমান
স্বদেশে প্রত্যাবর্তন ও রাষ্ট্রচিন্তা: তারেক রহমান এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি
নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারেক রহমানের স্বপ্ন ও বাস্তবায়ন
স্বৈরাচার মরে না, বারবার ফিরে আসে
আইনশৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার ও জনআস্থা: হাদীর রাজনৈতিক দর্শন