ঢাকা রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬

পতাকাহীন গাড়ি, সাইরেনহীন পথ: বাংলার ধূলোমাখা পথে এক নিঃসঙ্গ কর্মবীর তারেক রহমানের পদধ্বনি


আব্দুর রউফ photo আব্দুর রউফ
প্রকাশিত: ২৩-২-২০২৬ বিকাল ৭:৪

দীর্ঘ ১৮ বছরের প্রতীক্ষা আর জনজোয়ারের মহাপ্রলয় পেরিয়ে বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। তবে তাঁর এই অভিষেক কেবল একটি সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা ছিল না; এটি ছিল কয়েক দশকের পুরনো ভিভিআইপি সংস্কৃতি এবং প্রটোকল বিলাসিতার কফিনে শেষ পেরেক। ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে তিনি তাঁর সেই বহুল আলোচিত "আই হ্যাভ প্ল্যান' এর পূর্ণাঙ্গ ব্লু-প্রিন্ট উন্মোচন করেছেন। এটি কেবল একটি ভাষণ নয়, বরং একবিংশ শতাব্দীর এক আধুনিক, স্বনির্ভর মানবিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকারনামা।

. বিলাসিতা বিসর্জনের এক অনন্য উপাখ্যান: তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী শব্দটির চিরাচরিত সংজ্ঞাকেই আমূল বদলে দিয়েছেন। বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশের সরকার প্রধান হয়েও তিনি প্রটোকলের প্রাচীর ভেঙে পথে নেমেছেন।

 নিজস্ব অর্থে দেশসেবা: তিনি রাষ্ট্রীয় কোনো বিলাসবহুল গাড়ি বা চালক গ্রহণ করেননি। নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছেন এবং সেই গাড়ির জ্বালানি খরচও নিজের পকেট থেকে মেটাচ্ছেন।

গাড়িবহরের অবসান: আগে যেখানে ১৩-১৪ টি গাড়ির বহর শহর স্তব্ধ করে দিত, সেখানে তিনি মাত্র -৪টি ছোট বহর নিয়ে পথ চলছেন

রাস্তা এখন জনগণের: যাতায়াতের সময় রাস্তা বন্ধ রাখা বা পুলিশের সারিবদ্ধ পাহারা তিনি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছেন। তাঁর সাফ কথা "দলমত ধর্ম দর্শন যার যার, রাষ্ট্র সবার।"

 

. আইনের শাসন আত্মশুদ্ধি: ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন, যা বিশ্ব গণমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে:

মাফিয়া সিন্ডিকেট নির্মূল: দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে তিনি ব্যবসায়ীদের মুনাফালোভী মানসিকতা ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, কোনো মাফিয়া সিন্ডিকেটকে রাষ্ট্র বরদাশত করবে না।

মাদক জুয়ার বিরুদ্ধে জিহাদ: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে যাওয়া মাদক জুয়ার বিষদাঁত ভেঙে দেওয়া হয়।

সাপ্তাহিক ছুটিতেও কর্মমুখর: প্রশাসনের গতি ফেরাতে তিনি নিজে শনিবারও অফিস করছেন এবং মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক সচিবালয়ে সরিয়ে এনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছেন।

 

. নৈতিকতার এক নতুন হিমালয়: ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি প্লট বর্জন: ভাষণে তিনি এক অবিস্মরণীয় ঘোষণা দেন - বিএনপির কোনো এমপি সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি বা প্লট সুবিধা নেবেন না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে মহানবীর (সা.) ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ অনুসরণ করব এই সিদ্ধান্ত তারই প্রতিফলন।" এই একটি ঘোষণা ক্ষমতার লোভী চরিত্রকে এক নিমেষে ত্যাগের মডেলে রূপান্তরিত করেছে।

. যানজট নিরসন যোগাযোগ বিপ্লব: রেল-নৌ-সড়ক সমন্বয়: রাজধানীর ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে তিনি সারাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর ঘোষণা দিয়েছেন। মানুষ যাতে নিজ জেলায় থেকেও ঢাকায় অফিস করতে পারে, সেই লক্ষ্যে রেল, নৌ সড়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এটি কেবল যানজট কমাবে না, বরং পরিবেশ রক্ষায় এক বিশাল ভূমিকা রাখবে।

আশার আলো: দক্ষ জনশক্তিই হবে জনসম্পদ- তারেক রহমানের ভিশনে বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠী কোনো বোঝা নয়, বরং সম্পদ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে দেশকে নেতৃত্ব দিতে তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তিতে পারদর্শী করার জন্য সরকার সব ধরণের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, "মেধায় জ্ঞানে বিজ্ঞানে যোগ্য হওয়ার জন্য যত রকম সহযোগিতা প্রয়োজন, এই সরকার তা দেবে।"

বাংলাদেশ কি তার সেই কাঙ্ক্ষিত সন্তান কে খুঁজে পেল?: কবি কুসুমকুমারী দাশ লিখেছিলেন "আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে" আজ বাংলার টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটি ঘরে মানুষ বলছে আমরা কি তবে সেই সন্তানকে খুঁজে পেয়েছি?

যে নেতা নিজের আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়ে সাধারণ মানুষের মতো যানজটে আটকে থেকে অফিস করেন, যিনি রাষ্ট্রের একটি টাকা বাঁচানোর জন্য নিজের পকেটের পয়সায় গাড়ির তেল কেনেন তিনি কেবল একজন প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি একটি জাতির আস্থার শেষ আশ্রয়স্থল।

বিশ্ব গণমাধ্যম এখন অবাক বিস্ময়ে বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছে। তারেক রহমান কেবল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি হয়ে উঠছেন বিশ্বজুড়ে মডেল অব সিম্পল লিভিং অ্যান্ড হাই থিংকিং -এর জীবন্ত উদাহরণ।

"বাংলাদেশ আজ জাগছে, কারণ তার নেতা আজ জাগছে। এটি কেবল পরিবর্তন নয়, এটি একটি নতুন ভোরের সূচনা"

এমএসএম / এমএসএম

ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, পতন অনিবার্য

৬ মাসের সময়সীমা বনাম ৬০ দিনের ধৈর্য: শাসন, সংকট ও সাংবিধানিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন

কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করে এগিয়ে যেতে হবে

দুর্নীতি-চাঁদাবাজি কখনোই বন্ধ হবে না—কারণ রাষ্ট্র নয়, রাজনীতিই তার আশ্রয়

পতাকাহীন গাড়ি, সাইরেনহীন পথ: বাংলার ধূলোমাখা পথে এক নিঃসঙ্গ কর্মবীর তারেক রহমানের পদধ্বনি

তারেক রহমানের বিজয় ইতিহাসে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে পুরুষ প্রধানমন্ত্রী: তারেক রহমানের সামনে বাস্তবতা ও প্রত্যাশা

রেলকে বাঁচাতে ইঞ্জিন সংকটের সমাধান খুব জরুরী

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও ঐতিহাসিক বিজয়

মহাশিবরাত্রি: পরম চেতনার জাগরণ ও শিবত্বে উত্তরণ

ক্ষমতা হাতে, প্রত্যাশার চাপ সামনে: সংখ্যাগরিষ্ঠতা কি তারেক রহমানকে জাতীয় নেতৃত্বের আইকনে পরিণত করবে?

হ্যাঁ জয় মানেই কি লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সচুয়াল ও ট্রান্সজেন্ডারের অধিকার আইনগত হবে?

জাতির বৃহত্তর স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দরে আর কোন ধর্মঘট নয়