৮৪০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮০৯টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে
ভোটারদের নিরব আনন্দ; সর্বোচ্চ নজরদারিতে খুলনা নগরী
রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। খুলনার ছয়টি আসনে ৮৪০টি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারী)। ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। ঝুকিপূর্ন এবং নিরাপত্তার বিষয় মাথায় রেখে ৮৪০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮০৯টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে, ভোটকে ঘিরে খুলনায় নিরাপত্তায় কাজ করছে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম।
এদিকে খুলনার ছয়টি আসনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভোটের প্রচারনার সময় শেষ হওয়াতে এখন নিরবতা বিরাজ করছে। জেলা ও উপজেলা থেকে ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটের সরঞ্জাম যাচ্ছে। মার্কেট ও অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকাতে সাধারন মানুষের মধ্যে একটা নিরবতা কাজ করছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী—কোষ্ট গার্ডের একাধিক টিম কাজ করছে নিরাপত্তায়। খুব বেশী জরুরি না হলে বের হচ্ছেন না সাধারন মানুষ। তবে ভোটারদের মধ্যে শেষ মুহুর্তে ভোট ঘিরে একটা নিরব আনন্দ রয়েছে। খুলনায় এবার প্রায় ৮৫ হাজার নতুন ভোটার হয়েছেন। যাদের মধ্যে তরুন ভোটার সংখ্যা গরিষ্ঠ। তরুনদের মধ্যে রয়েছে ভোট ঘিরে আনন্দ। তবে নির্বাচিত প্রার্থীর কাছে থাকছে তাদের উন্নয়ন এবং পরিবর্তনের অনেক দাবী।
জেলা নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা—১ আসনে ১১৯টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১০৪টি, খুলনা—২ আসনে ১৫৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০০টি, খুলনা—৩ আসনে ১১৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০০টি,খুলনা—৪ আসনে ১৪৪টি কেন্দ্রের সবগুলোতে,খূলনা—৫ আসনে ১৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩৯টি এবং খুলনা—৬ আসনে ১৫৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২২টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩০০টি কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের সাথে থাকবে বডি ওর্ন ক্যামেরা।
শাহরিয়ার ইসলাম চয়ন খুলনা—২ আসনের একজন তরুন ভোটার। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেন। এবারের ভোটে ছুটিতে খুলনা এসেছেন। তিনি বলেন, আগামীকাল ভোট। ভোটকে ঘিরে হৈ হুল্লোড় না থাকলেও একটা নিরব আনন্দ রয়েছে। ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়া পর্যন্ত একটা নিরব আনন্দ অনুভব করছি। তিনি আরো বলেন, আমি দীর্ঘ ৫ বছর ঢাকাতে রয়েছি। ছুটিতে খুলনায় পরিবারের কাছে চলে আসি। দীর্ঘ সময় পর পর আসাতে চোখে হঠাৎ করে উন্নয়ন বা পরিবর্তন ধরা পড়ার কথা। কিন্তু তেমন পরিবর্তন খুলনার হয়নি। খুলনা নগরীতে আরো উন্নয়ন প্রয়োজন। বিভাগীয় শহর হিসেবে খুলনার দৃশ্যমান উন্নয়ন বিগত দিনে হয়নি। তবে এবার উন্নয়ন করতে পারবে তেমন যোগ্য মানুষকে ভোট দিবো।
খুলনা—৪ আসনের ৮০ বছর বয়সি ভোটার মুকুল দাস। তিনি বলেন, প্রায় ৬০ বছর ধরে রুপসায় বসবাস করছি। এখানকার স্থানীয় উন্নয়নে অনেক সমস্যা আছে। কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য সমস্যা নেই। সবকিছুর সাথে তারা মানিয়ে নিয়েছেন। তবে ভোট কাকে দিবেন—এমন সিদ্ধান্ত তিনি এখনো নেননি। ভোট কেন্দ্রে সকালেই যাবো। ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত যেতে যেতে নিবো।
খুলনা—৩ আসনের ভোটার নতুন আফরিন বলেন, এবার প্রথমবার ভোট দিবো। একটা আনন্দ তো কাজ করছে। আমাদের আসনে অনেকজন প্রার্থী হিসেবে দাড়িয়েছেন। তবে সৎ, যোগ্য এবং মেধাবী ব্যক্তিকে প্রথম ভোটটা দিবো। আমি মনে করি সকলে ভোটের স্বাধীনতায় নিজের পছন্দের প্রার্থীকেই ভোট দিতে পারবে। তিনি আরো বলেন, শিল্পাঞ্চলখ্যাত আমাদের অঞ্চলটির নাম মানুষের মুখে মুখে। তবে আমি শিল্পের কোনো কিছু ছোট থেকেই দেখছি না। শিল্প কলকারখান যা ছিলো, সব বন্ধ হয়েছে আরো এক যুগ আগে। ধাপে ধাপে অন্যান্যগুলো বন্ধ হয়েছে। এই শিল্প কলকারখানাগুলো চালু করার মানসিকতা নিয়ে প্রার্থীরা তাদের ভোটারের কাছে গেছেন। আমি চাই বিজয়ী যেই হোক, সে যেনো কলকারখানা গুলো চালু করে।
খুলনা—৫ আসনের ভোটার ইয়াসিন সরদার জানান, ডুমুরিয়ায় ভোটের পরিবেশ ভালো। নিরবতা রয়েছে। ভোটকে ঘিরে কোনো অরাজকতা কিংবা বিশৃঙ্খলা নেই। তিনি আরো জানান, ডুমুরিয়ায় পুরাতন ভোটার অনেক। এবার সকলের মধ্যে আলাপচারিতায় একটা আনন্দ আনন্দ ভাব বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু সেই আনন্দ দৃশ্যমান হচ্ছে না। মানুষের সাথে কথা বললে বিষয়টা বুঝা যাচ্ছে। তবে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দিতা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
খুলনা জেলা জেলা প্রশাসক ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আ স ম জামশেদ খোন্দকার বলেন, ঝুকিপূর্ন কেন্দ্র গুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দে্রর মধ্যে প্রায় ৩০০টি কেন্দে্রর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের বডিতে থাকবে বডি ক্যামেরা। যা সরাসরি পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে মনিটরিং হবে। সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ১২০০ আর্মি স্টাফ মাঠে থাকবেন। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে তারাও কাজ করবেন। সার্বক্ষণিক সব সিসি ক্যামেরা মনিটরিং করা হবে। তিনি আরো বলেন, ভোটের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করণের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন সফল করতে পারবো বলে আশা করছি।
খুলনা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, ভোটকে ঘিরে ষ্ট্রাইকিং ফোর্স মাঠে রয়েছে। ভোট দিতে এবং ফিরতে ভোটারের নিরাপত্তায় ষ্ট্রাইকিং ফোর্স মাঠে থাকবে। কিছু কিছু জায়গায় উত্তেজনাকর খবর পেলেও প্রার্থীদের সাথে কথা বলে তা সমাধান করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, স্বাচ্ছান্দ্যে এবং নির্বিঘ্নে সকলে ভোট দিতে পারবেন। এমন প্রত্যাশা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আজ (১১ ফেব্রুয়ারী) তিনটার পর আমরা কয়েকটা ভোট কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক ভাবে যাবো পরিদর্শনে। কোনো ঝুকি আছে কিনা পরিদর্শনে সেগুলো নজরে আনবো। এছাড়া সবগুলো ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র সিসি ক্যামেরা দ্বারা কেএমপি সদরদপ্তর, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট থানা মনিটর করা হবে। কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলে সব বাহিনী একসঙ্গে ব্যবস্থা নেবে।
এমএসএম / এমএসএম
সীতাকুণ্ডে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, ঝুঁকিপূর্ণ ৪৮ কেন্দ্র
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা ২ আসনে বিজয়ের ক্ষেত্রে আশাবাদী - তুষার আহমেদ শুকুর।
আজ বহুকাংখিত সেই ত্রয়োদশ সংসদ ও গণভোট চৌগাছায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন ৮১টি কেন্দ্রে ৩৯৪ বুথে ভোটাররা ভোট প্রদান করবেন
রাজস্থলীতে কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাচ্ছে ভোটের ব্যালেট সহ সরঞ্জাম বিতরণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ র্নিবাচন-২০২৬ বাগেরহাটের সকল কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে ভোট গ্রহন সামগ্রী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষ্যে মেহেরপুরে স্থানীয় পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত-
দৌলতপুর সীমান্তে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার
শেরপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন: নতুন কমিটি ঘোষণা
কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
মাদারীপুর-৩ আসনের ৭২টি ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ
মুন্সীগঞ্জ -৩ আসনের গজারিয়ায় কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জাম.
মাগুরায় জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মতিনের ওপর হামলার অভিযোগ।