ঢাকা মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

মামলা উপেক্ষা করে তরিঘড়ি নিয়োগপত্র ইস্যু সিডিএ’র


এসএম পিন্টু photo এসএম পিন্টু
প্রকাশিত: ১৭-২-২০২৬ দুপুর ২:৪৭

উচ্চ আদালতে মামলা থাকা, মন্ত্রণালয়ের তদন্তের নির্দেশ ও সিবিএ’র আপত্তি উপেক্ষা ও একের পর এক অনিয়মের বিষয়কে পাশ কাটিয়ে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার পর উচ্চ এবার আদালতের মামলাকেও পাত্তা দিচ্ছে না চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। বিতর্কিত নিয়োগের শর্তে বলা হয়েছিল পুলিশ ভ্যরিফিকেশনের পরে নিয়োগপত্র জারি করার। কিন্তু আদালতের মামলার খবর শুনে তরিঘড়ি করে নিয়োগপত্র জারি করেছে সিডিএ। এই নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে। সংশ্লিষ্টদের মাঝে অনেকেই বলছেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি শুরু থেকেই বিতর্কিত। অনৈতিক লেনদেন, প্রশ্নফাঁসসহ দ্রুতসময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ সবকিছুতেই রহস্যে ভরা। কেউ কেউ বলছেন, যেহেতু নির্বাচনের পরে অনেকেই হয়তো দায়িত্বে থাকবেন না তাই তড়িৎ গতিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করে অনৈতিক লেনদেনের ফয়সালা করে যেতে চাইছেন। 
জানা যায়, নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরু থেকে উচ্চ আদালতে মামলা, মামলা চলমান বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করতে বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত, মন্ত্রণালয়ে শ্রমিক নেতার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে ৭ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার মন্ত্রণালয়ের আদেশ অমান্য করে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে কর্তৃপক্ষ। লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগের স্বীকারোক্তি নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশসহ নানা অনিয়ম নিয়ে এর আগেও অনেক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে সিডিএ। এতোসব অনিয়মের মধ্যে তদন্ত হয়নি একটিরও। তারই সূত্র ধরে পরীক্ষা না দিয়েই পাশ হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এসব কারণে ৭ জনকে বিবাদী করে উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন মামলা দায়ের করেছেন ৭ জন নিয়োগপ্রত্যাশী। এরা হলেন, মো. শাখওয়াত হোছাইন, স্বন্দ্বীপ দে, জিন্নাতুন্নেছা পিংকু, মোহাম্মদ ইমরান খান চৌধুরী, হাফিজুর রহমান,  টিটু কুমার দাস ও জাহিদ হোছাইন খান। এই মামলায় বিাদী করা হয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান , সচিব ও প্রধান প্রকৌশলীকে।
গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারী) মামলার বিষয়টি চেয়ারম্যানকে অবহিত করে আইনজীবী সনদ জমা দিয়েছেন রিটকারী শাখওয়াত হোছাইন। এতে বলা হয়েছে, ”মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনের রীট পিটিশন নং-২১৪৭/২০২৬ দায়ের করি। উক্ত মামলার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করছি।” 
নিয়োগের জন্য প্রকাশিত ফলাফলে পুলিশ ভ্যারিফিকেশনের কথা বলা থাকলেও এই আবেদন জমা দেয়ার পর তরিঘড়ি করে নিয়োগপত্র পাঠানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি বিষয়টি স্বীকারও করেছেন সিডিএ চেয়ারম্যান।

এদিকে এখনই নিয়োগ কার্যক্রম না চালানোর জন্য লিখিত আবেদন করেছে সিবিএ। আবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) প্রশাসনের বিগত ২২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ দৈনিক আজাদী সহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত জনবল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে নিয়োগ প্রার্থীদের আবেদনপত্র সমমূহ যাচাই-বাছাই সহ নিয়োগ পরীক্ষা, ব্যবহারিক পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ পূর্বক নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য গঠিত নিয়োগ কমিটির কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পর্যায়ে সংঘটিত অনিয়ম দুর্নীতি সংক্রান্ত সংবাদ একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। সংক্ষুব্ধ নিয়োগ প্রার্থীগণ এই বিষয়ে ন্যায় বিচার প্রার্থনা  করে হাইকোর্টে রিট মামলা নং- ২১৪৭/২০২৬ দায়ের করিয়াছেন মর্মে বাংলাদেশ সুলীম কোর্টের আদেশ, ৪৪ ডিএলআর (এডি) ২১৯ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও চউক প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা/কর্তৃপক্ষের জ্ঞাতার্থে প্রত্যায়ন পত্র প্রদান করেছেন। ২০২৫ সালের ৩ জুলাই অনুষ্ঠিত চউক এর ৪৬৫ তম বোর্ড সভার ১১ নম্বর এজেন্ডার উপর আদালতে বিচারাধীন মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে ‘আদালতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনের আইনগত ভাবে কোন সুযোগ নেই। আদালতের মামলা রায়ের আলোকে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হইবে মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উক্ত সিদ্ধান্তের আলোকে চউক জাতীয়তাবাদী কর্মচারী দলের (সিবিএ) পক্ষ থেকে মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত ও নালিশী নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ বা নিয়োগপত্র ইস্যু করা থেকে বিরত থাকার আহবান জানান। আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন সিবিএ’র সভাপতি মো. ফয়েজ আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান। আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিবিএ’র সভাপতি মো. ফয়েজ আহমেদ। 
এতোসব কিছুর মধ্যে একটিও মানেনি সিডিএ। কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থেকেছেন।   
এবিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল কবির বলেন, কোন মামলা হয়নি, আমরা একটা উকিল নোটিশ পেয়েছি। একটা উকিল নোটিশের উপর ভিত্তি করে আমরা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে পারি না। নিয়োগে অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সম্পন্ন হচ্ছে নিয়োগ প্রক্রিয়া। এখানে আমাদের কোন আত্মীয় স্বজনকে নিয়োগ দেইনি। এমনকি উপদেষ্টার সুপারিশ পর্যন্ত রাখিনি আমি। কারণ আইন আইনের গতিতে চলতে দিয়েছি। এই নিয়োগে কোন অর্থ লেনদেন হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত সচিবের পিয়নের বিরুদ্ধে কোন তদন্ত কমিটি হয়েছে কিনা, বা কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তাকে আইনের কাছে সোপর্দ করেছি। কিন্তু আপনারাতো কোন মামলা করেননি বরং নিজেরাই গিয়ে আবার ছাড়িয়ে এনেছেন। তাহলে পুলিশের হাতে দেয়াটা কি লোক দেখানো? নাকি অপকর্মকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা? এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন আমি কোউকে ছাড়াইনি। তাহলে মামলা করলেন না কেন জানতে চাইলে এর কোন সদুত্তর দেননি তিনি। 

Aminur / Aminur

ঝিনাইদহের ইতিহাসে এক অনন্য প্রাপ্তি: আইনমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যাড. আসাদুজ্জামান

মুকসুদপুরে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

মাগুরায় লিচু বাগান থেকে এক দিনমজুরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ

তানোরে স্কুলের গেট বন্ধ করে তারকাঁটার বেড়া,ভোগান্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

কাপ্তাইয়ে ভোক্তার অভিযান, ৩ ব্যবসায়ীকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা

শামীমকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় জামালপুরবাসি

রায়গঞ্জে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক সভা

মামলা উপেক্ষা করে তরিঘড়ি নিয়োগপত্র ইস্যু সিডিএ’র

ফেনীতে এম্বিয়েন্স রেস্টুরেন্ট এন্ড কনভেনশন হলের শুভ উদ্বোধন

আসামিকে ধরতে গিয়ে ‘হৃদরোগে’ পুলিশ সদস্যের মৃত্যু

চাঁদপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ ও উদ্ধার, প্রাণনাশের হুমকি

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড: গোপনে ৫৬ নিয়োগ দিলেন চেয়ারম্যান

দাউদকান্দিতে মাদকবিরোধী অবস্থানে হামলা, আহত ৯