বারহাট্টায় প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণকাণ্ডের মূল আসামি কারাগারে
নেত্রকোনার বারহাট্টায় ১৪ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত মো. কিবরিয়ার (২৪) জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ধর্ষক কিবরিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে গেলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মো. কিবরিয়া নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার চন্দ্রপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার আ. ছাত্তারের ছেলে। বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম অভিযুক্তের জামিন নামঞ্জুর ও কারাগারে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ এপ্রিল বারহাট্টা থানাধীন চন্দ্রপুর লম্বপাড়া গ্রামের প্রতিবেশী মোছা. পারুলা বেগমের (৪৫) সহায়তায় তার বাড়িতে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
ধর্ষণের ঘটনার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগীর পাশের বাড়ির দুঃসম্পর্কের আত্মীয় পারুলা বেগম প্রয়োজনীয় কাজের কথা বলে ভুক্তভোগী কিশোরীকে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে যার সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করা কিবরিয়ার সাথে কিশোরীকে রেখে পারুলা বেগম ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে দেন। এরপর কিবরিয়া ওই কিশোরীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণেরর প্রায় ৫ মাস পর ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নেত্রকোনার ‘নাবিলা ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ এ আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো পর জানা যায় ভুক্তভোগী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারায় বারহাট্টা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরে এ মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামির মধ্যে দ্বিতীয় অভিযুক্ত ধর্ষণের সহায়তাকারী পারুলা বেগমকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। কিন্তু প্রধান অভিযুক্ত ধর্ষক কিবরিয়া দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকেন। গত ৩ মাস আগে ধর্ষিতা একটি বাচ্চা প্রসব করেছেন। পরে ভুক্তভোগীর পরিবার কারও কাছ থেকে সহায়তা না পেয়ে ধর্ষিতার পরিবার গত ডিসেম্বর মাসে বারহাট্টা প্রেসক্লাবের শরণাপন্ন হন। পরে প্রেসক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন। কিন্তু তাতেও কোন এক অদৃশ্য কারণে প্রশাসন নিশ্চুপ ছিল। পরবতর্তীতে এ বিষয় নিয়ে পুনরায় সংবাদ প্রকাশ হয়।
অবশেষে প্রধান অভিযুক্ত কিবরিয়াকে গ্রেফতার ও ভুক্তভোগীর নবজাতকের পিতৃ পরিচয় দেওয়ার দাবিতে চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’ এর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগীর বাবা আক্ষেপ করে জানান, মেয়ের বিচারের খরচ জোগাতে তিনি উপার্জনের একমাত্র সম্বল অটোরিকশাটি বিক্রি করে বর্তমানে নিঃস্ব হয়ে গেছেন।মানববন্ধনে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ৭ দিনের মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার না করলে রাস্তাঘাট অবরোধ ও আসামির বাড়ি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে চরম অসহায়ত্বের সময়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়ায় বেসরকারি সংস্থা 'স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি'। সংস্থার প্রোগ্রাম ম্যানেজার কোহিনুর বেগম জানান, প্রথম অবস্থায় ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর তারা এলাকায় গিয়ে তদন্ত করেন। তাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানেই মেয়েটির আল্ট্রাসনোগ্রাম থেকে শুরু করে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ, সন্তান প্রসবের ব্যবস্থা এবং আইনি লড়াইয়ের যাবতীয় সহায়তা প্রদান করা হয়।
অবশেষে প্রশাসনের তৎপরতা, এলাকাবাসীর প্রতিবাদ এবং আইনি চাপের মুখে প্রধান অভিযুক্ত কিবরিয়া আদালতে সিদ্ধান্তে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। ভুক্তভোগী পরিবার এখন ন্যায় বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। এবং প্রতিবন্ধী কিশোরী ও তার নবজাতকের আশ্রয় দাবি করছেন।
এমএসএম / এমএসএম
পঞ্চগড়ে করতোয়া নদীতে নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পর কিশোর বকুলের মরদেহ উদ্ধার
তাড়াশে বৃহত্তর নওগাঁ হাটে অবৈধ কারেন্ট ও চায়না দুয়ারী রিং জালের রমরমা বেচাকেনা
রায়গঞ্জে ২ শতাধিক মানুষের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও বিতরণ
বাঘায় অবৈধ বালু উত্তোলনে দুই ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা
নেত্রকোণায় লাথিতে অন্তঃসত্ত্বার গর্ভপাতের অভিযোগ,সেই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষার অভিযোগে তারাগঞ্জের একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এডহক কমিটি গঠন
শেরপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপিত
মান্দায় এলসিএস শ্রমিক নিয়োগে এলজিইডির প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়মে অভিযোগ
বাঙ্গালহালিয়ায় জলাবদ্ধতা স্থানীয় ও সেনাবাহিনীর জরুরী উদ্যােগে ড্রেন পরিস্কার নিরসন প্লাবিতবাসী স্বস্তি ফিরেছে
প্রবাস থেকে ফিরে সফল বাগান উদ্যোক্তা শিবচরের রাসেল মিয়া
দেশের পাঁচ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর
টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত