ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

সাতকানিয়ার সাঙ্গু নদে নিষিদ্ধ জালের থাবা,হুঁশ নেই মৎস কর্মকর্তার


সৈয়দ আককাস উদদীন, সাতকানিয়া  photo সৈয়দ আককাস উদদীন, সাতকানিয়া
প্রকাশিত: ৫-৩-২০২৬ দুপুর ১২:৫৩

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া সাঙ্গু নদীতে নিষিদ্ধ জালের অবাধ ব্যবহারে মৎস্য সম্পদ এখন চরম হুমকির মুখে। কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারি ও মশারির জালের মতো বিধ্বংসী উপকরণের কারণে ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় মাছের পোনা ও জলজ জীববৈচিত্র্য। ফলে একদিকে যেমন নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে জীবিকা সংকটে পড়েছেন নিবন্ধিত ও বৈধ মৎস্যজীবীরা।

সরেজমিনে উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের শীলঘাটা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। বিশেষ করে শীলঘাটা-ধোপাছড়ি ঘাটে একদল জেলেকে বেড় জাল ব্যবহার করতে দেখা যায়, যার ফাঁসের আকার এতটাই ছোট যে তাতে মাছের ডিম ও অতি ক্ষুদ্র পোনাও রেহাই পাচ্ছে না। পরিবেশবিদদের মতে, এই ধরণের নির্বিচার নিধন চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সাঙ্গু নদী মাছশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বৈধ উপায়ে মাছ শিকার করা লালমোহন জলদাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা আইন মেনে জাল ফেলি, কিন্তু দিনশেষে আমাদের ঝুলি খালি থাকে। কারণ অসাধু শিকারিরা কারেন্ট জাল দিয়ে আগেই সব মাছ সাবাড় করে ফেলছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।

অন্যদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জেলে জানান অভাবের তাড়নার কথা। তার দাবি, নদীতে এখন বড় মাছ না থাকায় সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে তারা সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল ব্যবহার করছেন। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দিনের আলোতে কিছুটা রাখঢাক থাকলেও রাতের আঁধারে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

স্থানীয় মৎস্যচাষি নাছির উদ্দিন মনে করেন, কেবল অভিযান চালিয়ে এই সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা। অন্যদিকে, সাতকানিয়ার একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ইসমাঈল মোহাম্মদ রাশেদ প্রস্তাব দেন বিকল্প কর্মসংস্থানের। তিনি বলেন,

"অনেক জেলে দারিদ্র্যের কারণে নিষিদ্ধ পথে পা বাড়াচ্ছেন। তাদের যদি সঠিক প্রশিক্ষণ ও সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনা যায়, তবেই এই অপরাধমূলক তৎপরতা বন্ধ হবে।"

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফাহাদ হাসান জানান, ইতিপূর্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অনেককে জরিমানা করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন আমরা জেলেদের স্বার্থেই কাজ করছি। সাময়িক লাভের জন্য তারা নিজেরা নিজেদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করছেন। আমাদের অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।"

স্থানীয়দের দাবি নদীর বাস্তুসংস্থান ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় নিয়মিত প্রশাসনিক টহল বাড়ানোর পাশাপাশি অসাধু সিন্ডিকেটগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সাতকানিয়ার সাধারণ মানুষ ও ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবীরা।

এমএসএম / এমএসএম

পঞ্চগড়ে করতোয়া নদীতে নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পর কিশোর বকুলের মরদেহ উদ্ধার

তাড়াশে বৃহত্তর নওগাঁ হাটে অবৈধ কারেন্ট ও চায়না দুয়ারী রিং জালের রমরমা বেচাকেনা

রায়গঞ্জে ২ শতাধিক মানুষের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও বিতরণ

বাঘায় অবৈধ বালু উত্তোলনে দুই ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা

নেত্রকোণায় লাথিতে অন্তঃসত্ত্বার গর্ভপাতের অভিযোগ,সেই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষার অভিযোগে তারাগঞ্জের একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এডহক কমিটি গঠন

শেরপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপিত

মান্দায় এলসিএস শ্রমিক নিয়োগে এলজিইডির প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়মে অভিযোগ

বাঙ্গালহালিয়ায় জলাবদ্ধতা স্থানীয় ও সেনাবাহিনীর জরুরী উদ্যােগে ড্রেন পরিস্কার নিরসন প্লাবিতবাসী স্বস্তি ফিরেছে

প্রবাস থেকে ফিরে সফল বাগান উদ্যোক্তা শিবচরের রাসেল মিয়া

দেশের পাঁচ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর

টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত

সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক ছাড়লেন আরও ৩১১ পর্যটক