শিবচরের এক্সপ্রেসওয়েতে ভাড়া কমলেও ঈদে বাড়তি ভাড়া ঠেকানো বড় চ্যালেঞ্জ
দক্ষিণাঞ্চলের স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের যাতায়াতের সহজ ও দ্রুততম রুট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে। তবে সেতু চালু হলেও অতিরিক্ত ভাড়ার বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাননি সাধারণ যাত্রীরা। বিশেষ করে ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবের সময় স্বাভাবিকের তুলনায় ভাড়া দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এছাড়া যাত্রীচাপ বাড়লেই সুযোগ নিয়ে ভাড়া বাড়ানোর অভিযোগও রয়েছে পরিবহনগুলোর বিরুদ্ধে।
এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন মাদারীপুরের শিবচর ও ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকার যাত্রীরা। ভাঙ্গা থেকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী ও গুলিস্তান রুটে সাধারণত লোকাল পরিবহন চলাচল করে। দীর্ঘদিন ধরে শিবচরের পাঁচ্চর থেকে ঢাকার ভাড়া ছিল ২০০ টাকা। তবে এবার স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে ভাড়া কমিয়ে ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ সিদ্ধান্তে যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও সামনে ঈদকে ঘিরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা ও শিবচর থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী রাজধানী ঢাকা যাওয়া-আসা করেন। ভাঙ্গা থেকে ছেড়ে আসা লোকাল পরিবহনগুলো এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন স্টপেজ থেকে যাত্রী নিয়ে থাকে। ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে ঢাকার যাত্রাবাড়ি, গুলিস্তান পর্যন্ত যাত্রী প্রতি ২ শত টাকা ভাড়া। একই ভাড়া ৮/১০ কিলোমিটার পরে এসে শিবচরের সূর্যনগর, পাঁচ্চর থেকেও নেয়া হতো এতোদিন। বাড়তি ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সাথে বাসের চালক ও সংশ্লিষ্টদের সাথে বাক-বিতন্ডা ছিল নিত্য দিনের ঘটনা। এদিকে এক্সপ্রেসওয়ের সূর্যনগর, পাঁচ্চরসহ বিভিন্ন স্টপেজ থেকে যাত্রী নিলেই বাস সংশ্লিষ্টদের দিতে হয় ২০ টাকা হারে চাঁদা! স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এই চাঁদা আদায় করা হতো। ফলে যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া দিয়েই ঢাকা যেতে হতো। ঈদ মৌসুমে এই ভাড়ার পরিমান বেড়ে ২ থেকে ৩ গুণও হয়। তখন চাঁদার পরিমানও বাড়ে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাঁচ্চর এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান,'মূলত রাজনীতির সাথে জড়িত স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের পক্ষ হয়েই এই স্ট্যান্ড থেকে চাঁদা আদায় হয়। তবে সম্প্রতি নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে বাসের ভাড়া কমানো হয়েছে। তবে এখনও চাঁদা উত্তোলন করা হয়। ঢাকার উদ্দেশ্যে আসা বিভিন্ন বাস থেকে যাত্রী প্রতি এই চাঁদা আদায় করে একটি চক্র। তবে আগের চেয়ে এদের তৎপরতা কমেছে।'
যাত্রীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে,'আগে পাঁচ্চর থেকে ঢাকার ভাড়া ছিল ২শত টাকা। বর্তমানে ১৭০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। এখানে ভাড়ার তালিকা টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে।'
এদিকে ঢাকাগামী লোকাল পরিবহনের এক চালক জানান,'তেলের দাম, ব্রিজের টোল তো কমেনি। অথচ, যাত্রীদের ভাড়া কমানো হয়েছে। তাছাড়া রাস্তায় চলতে গেলে কোন না কোন ভাবে চাঁদা দিতেই হয়। কম আর বেশি। সব মিলিয়ে এখন যে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে তাতে আমাদের কষ্টই। তাছাড়া সব সময় যাত্রী বেশি হয় না। অনেক যাত্রী বেশি টাকা দিয়ে পরিবহনে চলে যায়।'
সামিম শেখ নামের এক যাত্রী বলেন,'এখন ভাড়া কিছুটা কমানো হয়েছে। আমাদের নতুন এমপি বাড়তি ভাড়া নেয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তিনি বাসস্ট্যান্ডে বেশ কয়েকবার এসেছেন। এখন ভাড়ার তালিকা টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে ঈদের সময় বাড়তি ভাড়ার বিড়ম্বনা ঠেকানো বেশ চ্যালেঞ্জ হয়ে যাবে বলে মনে হয়। ঢাকা থেকে বেশি ভাড়া দিয়ে বাড়ি ফিরতে হয় সব সময়। তাছাড়া যাত্রীদের চাপ বাড়লে পরিবহনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেও বাড়তি ভাড়া নিতে পারে। বিগত সময়েও এরকমটা হয়েছে। তাছাড়া, প্রশাসনের সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকলে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ন্ত্রন সম্ভব। অন্যথায় কঠিন!'
আরেক যাত্রী মো.সুলাইমান বলেন,'কদিন ধরে ভাড়ার পরিমান ত্রিশ টাকা কমানো হয়েছে। এটা লোকাল পরিবহনের ভাড়া। দূরপাল্লার পরিবহনে ২ শত টাকাই নেয়। তবে ঈদের সময় এই ধারা কতটুকু বজায় থাকে এটাই দেখার বিষয়। কারণ, বাড়তি ভাড়া নিয়ে যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে হেনস্তার শিকার হতে হয়। এজন্য যাত্রীরা তেমন কিছু বলতে পারে না। এখন প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ থাকলে বাড়তি ভাড়ার বিড়ম্বনা কমবে।'
এদিকে দূর্ঘটনা এড়ানোসহ মহাসড়কে যেকোন বিশৃঙ্খলা রোধে হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) জহুরুল ইসলাম। তিনি জানান,'ঈদে যাত্রীসেবা নিশ্চিতে বাড়তি টহল থাকবে। তাছাড়া দূর্ঘটনা রোধে গতি নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক পুলিশের তৎপরতা রয়েছে।'
মাদারীপুর ১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা জানান,'শিবচর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাওয়া যাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরেই জুলুমের শিকার হচ্ছেন। মহাসড়কের সূর্যনগর ও পাঁচ্চর এলাকায় পরিবহনে চাঁদাবাজির কারণে বাড়তি ভাড়া গুনতে হয় যাত্রীদের। আমরা চাদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছি। সকল বাসের চালকদের বলে দেয়া হয়েছে, স্ট্যান্ডে কোন চাঁদা তারা দেবেন না। আর যাত্রীভাড়ার পরিমানও বাস-মালিকদের সাথে আলাপ করে কমানো হয়েছে।'
ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ততা বেড়ে যায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে। দূরপাল্লার পরিবহনের পাশাপাশি লোকাল পরিবহনেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়ায় দ্বিগুণ। বাড়ি ফেরার তাড়া অথবা ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার ব্যস্ততা উভয় কারণেই যানবাহনে থাকে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। আর এই ভিড়কে পুঁজি করেই পরিবহনে বাড়ানো হয় ভাড়ার পরিমান। ঈদে ২/৩ গুণ ভাড়া দিতে হয়__এমনটাই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। শিবচর থেকে ঢাকার ভাড়ার পরিমান নির্ধারণ করে তালিকা টাঙানো হয়েছে পাঁচ্চর গোলচত্বরে। তবে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ছাড়া ঈদে বাড়তি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন সাধারণ যাত্রীরা।
Aminur / Aminur
পিসিপি’র খাগড়াছড়িতে ১৭ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন
ধামইরহাটে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে কৃষকের সরিষা কেটে নিল প্রতিপক্ষ
জেএসএস’র গুলিতে খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ সদস্য নিহত
আদমদীঘিতে বাশেঁর বেড়া দিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি
মান্দায় রফিকুল হত্যা মামলা নিয়ে পুলিশের তেলেসমাতি
কোনাবাড়ী উলামা পরিষদের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
উলিপুরে হাঙ্গার প্রজেক্টের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
বারহাট্টা রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের কার্যকরী কমিটি গঠিত
কুতুবদিয়ার দুই প্রধান বাজার চলতি সনে ৯৯ লাখ টাকায় ইজারা
দিঘলিয়া বাজারে সরকারি দোকান ঘর বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ
কালিয়ায় আনসার ভিডিপি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে ডিউটি প্রদানের অভিযোগ
বরগুনায় গাজা চাষী গ্রেফতার