লাকসামে তাল গাছ নিধণে ঝুঁকি বাড়ছে ব্রজপাতের
কুমিল্লার বৃহত্তর লাকসাম উপজেলায় এককালের গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী রসের খনি খ্যাত তাল গাছ বর্তমানে কালের আবর্ত্তে হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এ তাল গাছ খাল-বিল, পুকুর, নদীর পাড়সহ বাড়ীর আঙ্গিনায় দেখা যেতো। তালগাছ প্রকৃতির বন্ধু হিসাবে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা জানে না। তবে বিগত সরকার কৃষি, প্রকল্প দপ্তর ও বন বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে তালগাছ রোপন ও সংরক্ষনে ব্যাপক উদ্যোগ নিলেও উপজেলায় রসালো ফল তাল গাছ নিধণে বাড়ছে ব্রজপাতের ঝুঁকি।
কবিরা লিখেছেন, তাল গাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে, উকি মারে আকাশে.., ঐ দেখা যায় তাল গাছ, ওই আমাদের গাঁ, ওখানেতে বাস করে কানা বগার ছাঁ। এ অঞ্চলে সাধারনত পুরুষ ও স্ত্রী প্রজাতি দু’ধরনের তাল গাছ পাওয়া যেতো। স্ত্রী প্রজাতির তাল গাছে নানা ধরনের ছোট-বড় বিভিন্ন রংয়ের তাল ধরতো। আর পুরুষ প্রজাতির তাল গাছে তালের পরিবর্তে ছোট ছোট দানাওয়ালা লম্বা-গোলাকার এক প্রকার ছড়া বের হতো। যাকে গ্রাম্য ভাষায় তাল গাছের জট বলা হতো। গ্রীস্মের শেষে এবং চলমান শরৎকাল ও শীতকালে ওই তাল গাছের জট বিশেষ পদ্ধতিতে গাঁছিরা কেটে রস সংগ্রহ করতে দেখা যেতো। প্রাকৃতিক দূযোর্গ, বন্যা, জলাবদ্ধতা, জলবায়ু পরিবর্তন ও নানাহ সংকটের কারনে মানুষ এখন আর তাল গাছের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে না। গ্রামগঞ্জে রসালো ফল এ তালের রস জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরী করে হরেক রকম পন্য উপজেলার বিভিন্ন হাটে-বাজারে বিক্রি হতো। তবে তালপাটালি গুড় ছিল এ অঞ্চলের মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় মিষ্টি জাতীয় খাবার। এ রসে আবার কেউ কেউ তাল মিছরি বানাতো যা বিভিন্ন রোগের ঔষুধের কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার হতো। জৈষ্ঠ্য-আষাঢ়, শ্রাবন-ভাদ্র মাসজুড়ে কাঁচা তালের ভিতরের রসালো শ্বাশ খেতে খুবই সু-স্বাদু। তবে ভাদ্র মাস জুড়ে শিশু-কিশোরসহ সকল বয়সী মানুষের কাছে মৌসুমী ফল পাঁকা তাল মজাদার খাবার হিসাবে পরিচিত। এ পাঁকা তাল থেকে তৈরী করা হয় অত্যান্ত রুচিকর নানা ধরনের পিঠা,পায়েস ও বড়া। আবার এ তাল গাছ রন্ধনশালার জ্বালানী ও বসতঘরসহ দোকান-পাট তৈরীতে কাঠ হিসাবে বিভিন্ন সরঞ্জামে ব্যবহৃত হতো। গ্রাম-গঞ্জে কৃষকের লাঙ্গলের ঈশ, নৌকার বৈঠা, পানির তোলার দোন এবং জেলেদের মাছ ধরার ডোঙ্গা ও নৌকাসহ অন্যান্য কাজেও প্রতিনিয়ত এ তাল গাছ ব্যবহার হয়ে আসছে। তালপাতা দিয়ে তৈরী হতো হাতপাখা ও শীতল পাটি অথচ প্রয়োজনীয় এ সম্পদ সংরক্ষনের অভাবে কালের আবর্ত্তে আজ ওই তালগাছ অস্তিত্ব সংকটে পড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে ওইসব পন্য। এখন আর আগের মত তাল গাছ দেখা যায় না। এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যেও তালগাছ রোপন ও সংরক্ষনে তেমন সচেতনতা নেই। তবে বিগত সরকার এ রসালো ফল তাল গাছ রোপন ও সংরক্ষনে স্থাণীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরকে জনকল্যান মূলক প্রকল্পের মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার নির্দেশ দিলেও তা আজ লাল ফিতায় বন্দি।
এ ব্যপারে লাকসাম বনকর্মকর্তা মোয়াজ্জেন হোসেন খন্দকার এর মুঠো কয়েকবার ফোন করে বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এমএসএম / এমএসএম
হাটহাজারীতে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার এবং সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত
নওগাঁয় বাসের ভেতর থেকে হেলফারের মরদেহ উদ্ধার
চাঁদপুরে গাছ থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু
ঘোড়াঘাটে অবৈধ মজুদকৃত ১৬৭১লিটার ডিজেল জব্দ
আখাউড়ায় শ্রেণিকক্ষে ছাদের পলেস্তরা খসে পড়েছে
ভূরুঙ্গামারীতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে ইউএনও’র ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
স্কুল ফিডিং কর্মসূচি: উদ্বোধনের দ্বিতীয় দিনেই খাবার পায়নি সুবর্ণচরের ৯৩ স্কুলের শিক্ষার্থী
সীতাকুণ্ডে ২৫ হাজার লিটার চোরাই তেল জব্দ
মনপুরা উপজেলা পরিষদে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ছড়াছড়ি,সেবায়ধীরগতি-সমাধানের আশ্বাস ইউএনও’র
মনোহরগঞ্জে নয় হাজার হেক্টর কৃষি জমিতে বুকজুড়ে সবুজের সমারোহ - কৃষকের মুখে হাসি
গোপালগঞ্জ বিশ্বিবদ্যালয়ে থেকে অবিশ্বাস্য সাফল্য; ৮১ জন আইনজীবি
বাকেরগঞ্জে নদীগর্ভে বিলীন স্কুল, ভূমি অফিসের নিচে খোলা জায়গায় পাঠদান